ফের সক্রিয় ইমো প্রতারকরা
jugantor
ফের সক্রিয় ইমো প্রতারকরা

  জাকির হোসাইন চৌধুরী, গ্রিস থেকে  

০১ অক্টোবর ২০২২, ০৫:৪৯:০১  |  অনলাইন সংস্করণ

‘তোমার মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি, অতিসত্বর কিছু টাকা পাঠাও’ কিংবা ‘আমাকে পুলিশে ধরেছে, ছাড়া পেতে টাকা লাগবে, যা পারো এখনই পাঠিয়ে দাও’- প্রতিনিয়ত এ ধরনের মেসেজ পাঠানো হয় হ্যাক হয়ে যাওয়া ইমো নম্বর থেকে। বিশেষ করে প্রবাসীদের ইমো হ্যাক করে এভাবে মেসেজ পাঠিয়ে ঘটছে একের পর এক প্রতারণার ঘটনা।

সম্প্রতি গ্রিস প্রবাসী বাংলাদেশি ইয়াকুব আলীর ব্যবহৃত ‘ইমো’ হ্যাক করা হয়। এরপর তার ইমো ব্যবহার করে দেশে থাকা তার স্ত্রীর ইমোতে একটি মেসেজ পাঠানো হয়। মেসেজে লেখা ছিল- ‘আমি ঝামেলায় পড়েছি, আমাকে পুলিশ ধরেছে। এখান থেকে ছাড়া পেতে বাংলাদেশের ৩০ হাজার টাকা লাগবে। টাকাটা তাড়াতাড়ি না দিলে পুলিশ ১ বছরের জন্য জেল দেবে।

এসব লিখে একের পর এক আবেগী মেসেজ পাঠানো হয় ইয়াকুব আলীর স্ত্রীর কাছে। এভাবেই প্রবাসী ও তাদের স্বজনদের সাথে প্রতারণার ফাঁদ পাতে ইমো প্রতারকরা। প্রবাসীদের ইমো অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

প্রতারক চক্রের সদস্যরা ইন্টারেনেটের মাধ্যমে দেশে থাকা প্রবাসীর পরিবার ও প্রবাসীদের নম্বর সংগ্রহ করে একটি বিশেষ কোড বা পাসওয়ার্ড পাঠিয়ে প্রতারণার কৌশল নেয়। এরপর সেই ইমো আইডি হ্যাক করে। প্রতারকরা বেশিরভাগ সময়ই দূতাবাসের কর্মকর্তা পরিচয়ে কল দেয় প্রবাসীদের কাছে এবং দেশে পরিবারের কাছের বন্ধু সেজে মেসেজ পাঠায়।

ইমো অ্যাকাউন্টটি তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলেই সাধারণত ওই অ্যাকাউন্টধারীর আত্মীয়স্বজনের কাছে কল করে বা ম্যাসেজ পাঠিয়ে বিপদে থাকার কথা বলে টাকা ধার চায়।

কিন্তু একটু সচেতন হলেই এ ধরনের প্রতারণা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। সন্দেহ হলেই বিদেশে থাকা প্রকৃত ব্যক্তির সঙ্গে ইমো ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে যোগাযোগ করতে হবে। দেশের কোনো ইমোর মাধ্যমেও যদি এমন মেসেজ আসে তাহলেও অন্য কোনো উপায়ে প্রকৃত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তাহলেই সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং প্রতারণা থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে।

এছাড়া কেউ কল দিলে বা মেসেজের মাধ্যমে কোনো লিংক পাঠালে লিংকে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।

দেশে মাঝে মধ্যে দুই-একজনকে গ্রেফতার করা হলেও বিদেশের প্রতারকেরা রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

গ্রিসে অনিয়মিতদের বৈধ করার প্রক্রিয়া শুরু হবে শিগগিরই। আর এ সুযোগে নতুন প্রতারণা শুরু করেছে ইমো প্রতারকরা। তারা গ্রিস প্রবাসীদের কাছে দূতাবাস কর্মকর্তা পরিচয়ে কল দিয়ে বলে গ্রিসে বৈধতা পেতে হলে প্রথমে প্রবাসী কল্যাণ কার্ড করতে হবে। এজন্য আপনার নাম্বারে একটি কোড পাঠানো হয়েছে। কার্ড পেতে হলে কোডটি দিতে হবে। অনেক প্রবাসী সরল মনে কোডটি দিয়েই প্রতারণার শিকার হন।

দূতাবাসের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার বিষয়টি এথেন্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের নজরেও এসেছে এবং এরই মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ফের সক্রিয় ইমো প্রতারকরা

 জাকির হোসাইন চৌধুরী, গ্রিস থেকে 
০১ অক্টোবর ২০২২, ০৫:৪৯ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

‘তোমার মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি, অতিসত্বর কিছু টাকা পাঠাও’ কিংবা ‘আমাকে পুলিশে ধরেছে, ছাড়া পেতে টাকা লাগবে, যা পারো এখনই পাঠিয়ে দাও’- প্রতিনিয়ত এ ধরনের মেসেজ পাঠানো হয় হ্যাক হয়ে যাওয়া ইমো নম্বর থেকে। বিশেষ করে প্রবাসীদের ইমো হ্যাক করে এভাবে মেসেজ পাঠিয়ে ঘটছে একের পর এক প্রতারণার ঘটনা।

সম্প্রতি গ্রিস প্রবাসী বাংলাদেশি ইয়াকুব আলীর ব্যবহৃত ‘ইমো’ হ্যাক করা হয়। এরপর তার ইমো ব্যবহার করে দেশে থাকা তার স্ত্রীর ইমোতে একটি মেসেজ পাঠানো হয়। মেসেজে লেখা ছিল- ‘আমি ঝামেলায় পড়েছি, আমাকে পুলিশ ধরেছে। এখান থেকে ছাড়া পেতে বাংলাদেশের ৩০ হাজার টাকা লাগবে। টাকাটা তাড়াতাড়ি না দিলে পুলিশ ১ বছরের জন্য জেল দেবে।

এসব লিখে একের পর এক আবেগী মেসেজ পাঠানো হয় ইয়াকুব আলীর স্ত্রীর কাছে। এভাবেই প্রবাসী ও তাদের স্বজনদের সাথে প্রতারণার ফাঁদ পাতে ইমো প্রতারকরা। প্রবাসীদের ইমো অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

প্রতারক চক্রের সদস্যরা ইন্টারেনেটের মাধ্যমে দেশে থাকা প্রবাসীর পরিবার ও প্রবাসীদের নম্বর সংগ্রহ করে একটি বিশেষ কোড বা পাসওয়ার্ড পাঠিয়ে প্রতারণার কৌশল নেয়। এরপর সেই ইমো আইডি হ্যাক করে। প্রতারকরা বেশিরভাগ সময়ই দূতাবাসের কর্মকর্তা পরিচয়ে কল দেয় প্রবাসীদের কাছে এবং দেশে পরিবারের কাছের বন্ধু সেজে মেসেজ পাঠায়।

ইমো অ্যাকাউন্টটি তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলেই সাধারণত ওই অ্যাকাউন্টধারীর আত্মীয়স্বজনের কাছে কল করে বা ম্যাসেজ পাঠিয়ে বিপদে থাকার কথা বলে টাকা ধার চায়।

কিন্তু একটু সচেতন হলেই এ ধরনের প্রতারণা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। সন্দেহ হলেই বিদেশে থাকা প্রকৃত ব্যক্তির সঙ্গে ইমো ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে যোগাযোগ করতে হবে। দেশের কোনো ইমোর মাধ্যমেও যদি এমন মেসেজ আসে তাহলেও অন্য কোনো উপায়ে প্রকৃত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তাহলেই সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং প্রতারণা থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে।

এছাড়া কেউ কল দিলে বা মেসেজের মাধ্যমে কোনো লিংক পাঠালে লিংকে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।

দেশে মাঝে মধ্যে দুই-একজনকে গ্রেফতার করা হলেও বিদেশের প্রতারকেরা রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

গ্রিসে অনিয়মিতদের বৈধ করার প্রক্রিয়া শুরু হবে শিগগিরই। আর এ সুযোগে নতুন প্রতারণা শুরু করেছে ইমো প্রতারকরা। তারা গ্রিস প্রবাসীদের কাছে দূতাবাস কর্মকর্তা পরিচয়ে কল দিয়ে বলে গ্রিসে বৈধতা পেতে হলে প্রথমে প্রবাসী কল্যাণ কার্ড করতে হবে। এজন্য আপনার নাম্বারে একটি কোড পাঠানো হয়েছে। কার্ড পেতে হলে কোডটি দিতে হবে। অনেক প্রবাসী সরল মনে কোডটি দিয়েই প্রতারণার শিকার হন।

দূতাবাসের নাম ব্যবহার করে প্রতারণার বিষয়টি এথেন্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের নজরেও এসেছে এবং এরই মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
আরও খবর