প্রবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে ভোগান্তি

  জিএম সোহাগ জমাদার, সিঙ্গাপুর থেকে ২৪ জুন ২০১৮, ১৫:১১ | অনলাইন সংস্করণ

প্রবাসীদের ভোগান্তি

আমি একজন সাধারণ প্রবাসী। একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা। তাই আর চুপ করে থাকতে পারলাম না। একজন সাধারণ প্রবাসী হয়ে এবার আমাকে বলতেই হবে।

কিছু দিন পর পর শুনি প্রবাসী ভাইদের রেমিট্যান্স সমস্যার কথা। প্রবাসীরা নাকি বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা পাঠায়। তাতে করে আমাদের দেশের উঁচু তলার মানুষদের নাকি মাথায় বাড়ি। অর্থমন্ত্রীর নাকি চোখে ঘুম নেই।

কেন এত চিন্তা প্রবাসীর রেমিট্যান্স নিয়ে? একজন প্রবাসী তার জমি বিক্রি করে প্রবাসে আসেন। প্রবাসে আসার পর কি পরিমাণ কষ্ট করে তা শুধু একজন প্রবাসীই বলতে পারবে।

একজন সাধারণ প্রবাসীকর্মী প্রবাসে কত টাকা বেতন পায়? তার নিজের চলার খরচ রেখে দেশে কত টাকা দিতে পারে?

দেশ ছেড়ে আসার সময় যে পরিবারের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়স্থলটুকু বিসর্জন দিয়ে এসেছে, সেই আশ্রয়স্থলটা ফিরিয়ে আনতে একজন প্রবাসী না খেয়ে, না ঘুমিয়ে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যায়।

কখনও কি কোনো সমাজের উঁচুতলার লোক খোঁজ নিয়েছে সেই প্রবাসীর পরিবারের? তা হলে প্রবাসীর রেমিট্যান্সের খোঁজ নিতে কি একটু বিবেকে বাঁধে না?

অধিকাংশ প্রবাসী পড়াশোনা না জানা। তারা প্রবাসে এসে কাজ আর একটু বিশ্রাম ছাড়া আর কোনো কিছুই বোঝে না।

সেই সহজ-সরল লোকগুলো যখন বাংলাদেশ দূতাবাসে যায় একটু সাহায্যের জন্য, মনে হয় একজন ভিক্ষুক গেছে তাদের কাছে।

বিরক্তির সুরে বলে- এগুলো না বুঝলে বিদেশে আসছেন কেন? দেশে গিয়ে ঘাস কাটেন আর খান। যদিও সবাই একরকম নয়, কয়েকজন ব্যতীত সবার ব্যবহার একই রকম খারাপ।

যখন একটা প্রবাসী দেশে যায়, তখন মনে থাকে না তাদের রেমিট্যান্সের কথা। যাদের রেমিট্যান্সের অর্থ দিয়ে উন্নত হচ্ছে আমাদের দেশ।

যাদের দিয়ে বাংলাদেশ আজ পুরো পৃথিবীতে জনশক্তি রফতানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত, আজ তাদের কোনো দাম নেই। আছে শুধু রেমিট্যান্সের হিসাব।

একজন প্রবাসীকে বাংলাদেশে ফিরে যেতেই শুরু হয় ভোগান্তি। বিমান থেকে শুরু করে কাস্টম, ইমিগ্রেশন- সব জাগাতেই হতে হয় হয়রানির শিকার।

প্রায় সময়ই শোনা যায় কোনো এক প্রবাসী ভাইয়ের ব্যাগ নেই। আবার ব্যাগ আছে কিন্তু মালামাল নেই।

প্রতিনিয়তই আমাদের প্রবাসীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আজ আমাদের মাথার গাম পায়ে ফেলে টাকা উপার্জন করে দেশের উন্নতি হলেও আজও উন্নতি হয়নি আমাদের প্রবাসী ভাইদের যাতায়াত ব্যবস্থা।

আমি শুধু বলতে চাই, আমার মতো হাজারো প্রবাসী আছে তাদের একটু ভালোবাসুন।

নিজের সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে যারা দেশের জন্য নিজের পরিবারের জন্য কষ্ট করে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, তাদের নিরাপত্তা দিন, তাদের একটু ভালো সেবা দিন।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায় লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter