হজে গিয়ে অসহায় দিন কাটান হাজিরা

  মো. জাভেদ হাকিম, সৌদিআরব থেকে ১৭ জুলাই ২০১৮, ১৫:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

হজ

ইসলামের পাচটি স্তম্ভের মধ্যে পবিত্র হজ হল অন্যতম। যাদের আর্থিক সামর্থ রয়েছে তাদের জন্য আল্লাহ হজ ফরয করেছেন।

মুসলিম ধনী-গরীব সবার একটাই চাওয়া থাকে- মৃত্যুর আগে একবার হলেও যেন সে আল্লাহর ঘর দেখে মরতে পারে। আর এই সুযোগটাই কাজে লাগায় একদল মানুষরুপি পিচাশ।

এরা অন্যের লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে হজ ব্যবসা পাতে দালাল আর মাস্তানের ছত্রছায়ায়। মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জেম গ্রামের মাতবর, এলাকার মাস্তান, মার্কেটের পরিচিত মানুষগুলোকে উচ্চহারে টাকার বিনিময়ে দালাল হিসেবে কাজে লাগানো হয়।

বিশেষ করে মসজিদের ইমাম দালাল হিসেবে তাদের পছন্দের তালিকায় প্রথম। কারণ সাধারণ মানুষ মসজিদের ইমামদের প্রতি বেশি দুর্বল।

হজ পালনে যাওয়া মানুষগুলোকে সম্পূর্ণ অপরিচিত গাইড/ট্রাভেলসের তত্ত্বাবধানে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

যার প্রমাণ আমি নিজেই হজ পালনে গিয়ে উপলব্ধি করতে পেরেছি। বিমান থেকে নামার পর শুরু হয় নতুন লাঞ্ছনা-বঞ্চনার অধ্যায়।

একেকটা কাফেলার সঙ্গে এদেশীয় মোয়াল্লেম নামক গাইড থাকে, যারা হজের কয় ফরয, কী কী বিধি নিষেধ ও নিয়মাবলী ঠিকমত জানেন না।

আমাদের কাফেলার গাইড যিনি নিজেকে পরিচয় দিয়েছিলেন আলেম হিসেবে। পরে তার বিভিন্ন কর্মে বুঝতে পারলাম আসলে উনি লেবাসধারী প্রতারক, দালাল। সে নিজেও এক ওয়াক্ত ফরয নামাজ আদায় করে নাই, কাফেলার লোকজনদেরও তাড়াহুড়ার দোহাই দিয়ে ওয়াক্তমত নামাজ আদায় করতে দেয় নাই।

নিয়মানুযায়ী মক্কায় পৌঁছে থাকার স্থানে কিছুটা সময় বিশ্রাম নিয়ে ওমরাহ পালনে বায়তুল্লাহ শরিফে চলে যেতে হয়।

আর উনি আমাদেরকে নিয়েছিলেন পরের দিন। তাগাদা দেয়ায় হজম করতে হয়েছিল রূঢ় আচরণের।

এমনিভাবে আরও অনেক কাফেলার হাজিদের সঙ্গে তাদের গাইডরা এরকম আচরণ করেছে।

এরকম একটা গ্রুপের সঙ্গে কথা বলে জেনেছিলাম, তাদেরকে দুই দিন আগে মক্কায় আনলেও এখনও তাদের ওমরাহ করানো হয় নাই। ফলে এহরাম ছেড়ে হালাল হতে পারছিলেন না।

অনেক হাজিদের খাবার সরবরাহ ছিল না, অনেকের গাইড হাজিদের রেখে পালিয়েছিল।

সুযোগ পেলেই প্রতারক চক্র হাজিদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বয়ান দেয়। হজ মানে কষ্ট, হজ মানে ধৈর্য। তাই উত্তেজিত হবেন না- সবুর করুন। রাগান্বিত হলে হজ নষ্ট হবে। কথা সত্য। তাই আল্লাহর ভয়ে ভীত অনেক হাজি নিরবে সব সহ্য করেন।

হজে যারা পরিবারের নারী সদস্য নিয়ে যান তারা বেশি দুর্ভোগে পড়েন। দেশে তাদের সঙ্গে কন্টাক্ট হয় মক্কা-মদিনায় তাদেরকে আলাদা রুম দেয়া হবে। সেই বাবদ বাড়তি টাকাও হাতিয়ে নেয়া হয়।

অথচ সেখানে যাওয়ার পর পুরোই উল্টো চিত্র। থাকতে দেয়া হয় আলাদা আলাদা রুমে। ছোট্ট পরিসরের কক্ষে অনেক মানুষের সঙ্গে গাদাগাদি করে।

দালাল চক্রের সরবরাহ করা নিম্নমানের খাবার খেয়ে অনেককে হাসপাতাল পর্যন্ত ছুটতে হয়েছিল।

মিন্টু নামে এক হাজি কোরবানির খাসি/দুম্বা ৪০০ রিয়ালে ঠিক করেছিলেন। কিন্তু কোরবানি দেয়ার সময় প্রতিটির মূল্য চাওয়া হয় ৪৫০ রিয়াল। কিন্তু আমার কারণে আর সেই সুযোগ পায় নাই।

আমি আশাবাদী যারা হজে যাবেন আমার এই লেখার মাধ্যমে তাদের কিছুটা হলেও উপকার হবে। [প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : হজ ২০১৮

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter