২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে লাল সবুজের খেলাও দেখতে চাই

  রহমান মৃধা, মিউনিক (জার্মান) থেকে ১২ আগস্ট ২০১৮, ১৮:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে লাল সবুজের খেলাও দেখতে চাই
লেখক রহমান মৃধা

আমার ফেলে আসা ছেলে বেলার দিনগুলো এখন অনেক দূরে। তবুও মনে পড়ে গেল আজ কিছু কথা। সকাল থেকে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে সন্ধা হয়ে গেলো। চারদিন হোল স্টকহোম ছেড়ে মিউনিক, জার্মানিতে এসেছি কিছু নতুনত্বের খোঁজে।

পুরো বাংলাদেশ কেমন যেন হতাশার মাঝে চলছে। ঠিক তেমন একটি সময় আজকের শুভ সকালে সুদুর মিউনিক থেকে কিছু আশা আর ভালবাসার মধ্য দিয়ে কিছু কথা, আশাকরি ভাল লাগবে।

১৯৭৪ সালে আমার বড় ভাই (ড. মান্নান মৃধা, বর্তমানে সুইডেনের কেটিএইচ-রয়েল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রফেসর) বৃত্তি নিয়ে চলে গেলেন উচ্চ শিক্ষার্থে পোল্যান্ডে পড়াশুনো করতে।

তখন আমি বেশ ছোট। তবুও আজও মনে রয়েছে সেই সময়ের কথা। এমনকি মনে পড়ছে যখন মা বলেছিলেন আকাশের দিকে চেয়ে প্লেন যখন উড়াল দিয়েছিল, “আমার মান্নান ঐ প্লেনে যাচ্ছে”।

তাঁর চোখে অশ্রু বয়ে গেলো, চোখের সে জল ছিল নিশ্চিত ভালোবাসার, আনন্দের। জীবনে প্রথম মনে হয়েছিল তখন অপেক্ষা কী? কেন এত মধুময় ছিল সেদিনের সেই অপেক্ষা।

যেদিন বড় ভাইয়ের প্রথম চিঠি এলো বাড়িতে পোল্যান্ডের লর্ডজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কী জাদু ছিল সেই চিঠিতে তা জানি না, তবে তা পড়েছিলাম আমার সেই হেয়ার অ্যান্ড নাও কনসেপ্ট দিয়ে তাই আজও ভুলিনি।

ভাইয়ের চিঠিগুলো সবসময় শিক্ষামূলক বর্ণনা দিয়ে ভরা থাকত, বড় ভাই বাংলাদেশের বেস্ট ছাত্রদের সারিতে বরাবরই ছিলেন। তারপর পড়াশুনোর পরিবেশও ছিল তাঁর ভালো।

কারণ তিনি পড়তেন ক্যাডেট কলেজে। তাই সব মিলে তাঁর লেখার ভিতর ক্রিয়েটিভ ও মোটিভেটিভ চিন্তা ধারা আমাকে তখনই আপ্লুত করে তুলত।

মাসে একটি চিঠির বেশি আসতো না তখন, তাই কেন যেন একটি রুটিন মত হয়েছিল আমার মধ্যে সময় হলেই পোস্ট অফিসে হাজির এবং পিয়নের থেকে চিঠিখানা নিয়েই প্রথম সবার আগে পড়া ছিল আমার প্রথম কাজ।

সে ছিল এক ভালবাসার চিঠি এবং তা ছিল শুধু স্বপ্নে ভরা। তাই তো স্বপ্ন দেখা শুরু হল আমিও লেখাপড়া করে বিদেশে যাব। বড় ভাইয়ের মত অল্প বয়সেই সুইডেনে এসেছিলাম তবে তাঁর মত লেখাপড়ায় মনোযোগী আমি ছিলাম না।

তবে তখনকার যুগে যা যা করণীয় তার করতে কিছুই বাকি রাখিনি। লেখাপড়ার সঙ্গে গান বাজনা করা, অভিনয় করা, মাঠে কাজ করা, মাছ ধরা, স্কুল জীবনে রাজনীতি করা, বাবার ব্যবসায় সাহায্য করা, গোপনে প্রেম করা, বাবা-মার বকা খাওয়া এমনকি বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকা গিয়ে মুভিস্টার হওয়ার চেষ্টা করা।

এসব করতে ও সময় দিতে গিয়ে হয়ত স্কলারশিপে বিদেশে আশা হয়নি তাই গাঁধার মত খাটতে হয়েছে বিদেশে পড়াশুনো করতে এসে। কেন আজ এসব কথা মনে পড়ে গেলো, কোন কারণ ছাড়া?

কারণ ছাড়া যেমন কিছুই ঘটে না, তেমন কারণ ছাড়া এসব কথা লিখার নয়! কে জানতো সেদিন (১৯৮৫ সালে) বাংলাদেশের সব সুযোগ সুবিধে ছেড়ে আমি সুইডেনে আসব?

রহমান মৃধার ভাই প্রফেসর ড. মান্নান মৃধা

পড়াশুনো শেষে চাকরি থেকে শুরু করে বিয়েসহ আমার বসবাস হবে বিদেশে? কেউ না। এমনকি আমি নিজেও না। তাহলে বলতে হবে এটাই যে “what is lotted cannot be blotted”. ভাগ্যের লিখন না হয় খন্ডন!

তবে এতটুকু জানি মনের মাঝে আমি আমার ধ্যানে, জ্ঞানে অণুপ্রাণিত হয়েছিলাম বড় ভাইয়ের বিদেশ যাত্রা সঙ্গে তাঁর সেই সময়কার চিঠি যা আমার বাস্তব জীবনকে স্বপ্নের রাজ্যে নিতে আকৃষ্ট করত।

তাই মনে হয় আজ আমি আমার সেই স্বপ্নের রাজ্যেকে নিজের মত করে রিয়েল বাসস্থান করে নিতে পেরেছি। আমরা জানি “everything was impossible until someone makes it possible”.

কিন্তু স্বপ্ন দেখা তাও জেগে জেগে স্বপ্ন দেখা এটা কি অসম্ভব? না। ভাবুন কে জানতো বাংলাদেশ একদিন লাল সুবুজের হয়ে ক্রিকেট খেলবে?

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জাতীয় ক্রিকেট দল হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। তারা "দ্য টাইগার" নামেও পরিচিত। আরো মজার ব্যাপার তা এখনও কেউ জানে না যে, সাকিব আল হাসানের বাবা আমার স্কুল ফ্রেন্ড।

মাগুরা সরকারি মডেল স্কুলের ক্লাস ফাইভ-সিক্সে পড়াকালীন সময়। শুধু কি তাই? ভাবতে পারেন কেউ যে- মাশরাফি বিন মর্তুজার বাবা, ডাক নাম স্বপন সম্পর্কে আমার মামাত ভাই।

আমার নানাবাড়ি চারিখাদা, নড়াইল। স্বপন ভাই আমার এক বছরের বড় অথচ সেই চারিখাদার গোচরে ও চিত্রা নদীতে সারাদিন কাটিয়েছি আমরা একসঙ্গে খেলাধুলো করে।

পড়াশুনো বা খেলাধুলার মাঝে কখনও ভাবিনি যে একদিন আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্পোর্টসের জগতে ঢুকবে বা লাল সবুজের হয়ে খেলবে! এই দুই বাল্য সাথীদের ছেলেরা আজ বাংলার গর্ব।

যুগের সেরা খেলোয়াড়ের সঙ্গে রহমান মৃধা

আমার ছেলে-মেয়ে রয়েছে টেনিসের জগতে, এ যেনো অনেকটা মিরাকেল! সাকিব এবং মাশরাফির বাবারা হারিয়ে গেছে মনের অজান্তে, অনেক বছর আগে।

তাঁরা কিভাবে, কোথায় কি করছে বা কখন বিয়ে থেকে সংসার, পরে ছেলেদের সাফল্য কিছুই জানা হয়নি। আমরা কেউ কাউকে এখন চিনিও না।

বন্ধুদের ছেলেদের আমি চোখে দেখিনি তবে এখন বাংলাদেশের সাথে জড়িত বেশি বিধায় তাদের অনেক গল্গ শুনেছি। তাই গল্প শুনে তাদের আমি অল্প অল্প ভালেবেসে ফেলেছি। এসেছি মিউনিকে।

দেখছি এবং আলাপ করছি এদের খেলাধুলোর ওপরে, কেন তারা খেলাধুলোকে এত ভালবাসে এবং কেনই বা তাঁরা বিশ্বকাপের ওপর এত আকৃষ্ট? কারণ একটাই তা হল খেলাধুলোর মধ্যদিয়ে তাঁরা খুঁজে পায় তাদের একে অপরের প্রতি বিশ্বাস, ভালবাসা, একতাবদ্ধতা এবং পারস্পরিক সম্মান।

শুনে আপ্লুত হলাম। আজ এসব পুরনো ও নতুন কথা তুলে ধরার কারণ একটাই তাহলো বাংলাদেশ ২০৩০ সালে সাল সবুজের হয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে। আমি আবারও স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি এবং তা দেখছি আমার মনের মাঝে।

কেন স্বপ্ন দেখছি জানেন? কারণ নতুন প্রজন্মের মধ্যে নতুন রঙের ছোঁয়া তাদের হৃদয়ে সোনার বাংলা গড়ার কনফিডেন্স এবং নতুন আলোর জোয়ারে তারা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মত খপ করে ধরতে শিখেছে, তাই এই স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে চাই।

আমার বন্ধু সামসুদ্দিন একই স্বপ্নে আকৃষ্ট। সে ঢাকাতে প্রতিদিন কথা বলছে কীভাবে কী করতে হবে। আমার আরেক বন্ধু রতন ভট্টাচার্য আমাকে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে প্রতিদিন তাঁর চিন্তা ভাবনা থেকে।মনে হচ্ছে যেন ভালো লাগা থেকে যেমন ভালোবাসা হয় ঠিক তেমনি স্বপ্ন থেকে হবে তা বাস্তব করা।

হবে না কি তা পূর্ণ করা? এমনটাই এখন প্রশ্ন। প্রিয় দেশবাসী আসুন শুধু চার বছর পর পর একমাস- শয়নে স্বপনে বা জাগরণে নয় এবার সত্যিকারে খেলি এবং আসুন খেলি প্রতিযোগিতার মাঝে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে এমনটি স্বপ্নে আমি রহমান মৃধা সুদুর মিউনিক, জার্মান থেকে।

[email protected]

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter