নিউইয়র্কে কনস্যুলেট ও মিশনে জাতীয় শোক দিবস পালন

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৮, ১৪:০১ | অনলাইন সংস্করণ

  হাসানুজ্জামান সাকী, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

ছবি- যুগান্তর
নিউইয়র্কে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। 
 
গত ১৫ আগস্ট নিউইয়র্কে কনস্যুলেট জেনারেল ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন পৃথক দুটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ গভীর শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করেন। 
 
ওই দিন সকালে নিউইয়র্ক কনস্যুলেট ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সন্ধ্যায় আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ সময় জাতির পিতা, তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। 
 
অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবনের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শিত হয়। 
 
অনুষ্ঠানে শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পড়ে শোনানো হয়। 
 
আলোচনাসভায় বক্তারা জাতির পিতার বর্ণাঢ্য জীবন ও অর্জন সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে সম্মিলিতভাবে কাজ করে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
 
আলোচনাপর্বে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।
 
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতির পিতা জাতিসংঘে প্রথমবারের মতো বাংলায় যে ভাষণ দিয়েছিলেন সে কথা স্মরণ করেন। সেই কালজয়ী ভাষণের মধ্যেই যে ২০১৫ সালে জাতিসংঘ গৃহীত এসডিজির ১৭টি গোলের অধিকাংশই প্রতিফলিত হয়েছে, তা তুলে ধরেন তিনি।
 
নিউইয়র্কের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা বলেন, জাতীয় শোক দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় জাতির পিতা আমাদের চেতনায় অমর। 
 
যদি জাতির পিতার জন্ম না হতো তা হলে আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে এভাবে কথা বলতে পারতাম না। বাংলাদেশের পাসপোর্ট ধারণ করে প্রবাসে সম্মানের অধিকারী হতে পারতাম না। 
 
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসীম শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে মহাকাশ বিজয়, রূপকল্প-২০২১, রূপকল্প-২০৪১ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। 
 
প্রবাসের নতুন প্রজন্মের মাঝে জাতির পিতার চেতনা ও আদর্শ সঞ্চারিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান সাদিয়া ফয়জুননেসা।
 
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেভাবে চলছে, সেভাবেই আমরা এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। কেননা আওয়ামী লীগই পারবে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করতে। 
 
তিনি দেশ ও জাতির উন্নয়নে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। 
 
অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি, কনস্যুলেট জেনারেল ও জাতিসংঘে স্থায়ী মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। 
 
শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং পরিবারের অন্য শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও দেশের অব্যাহত সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।