মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ট্রাভেল পাস ইস্যুতে কড়াকড়ি

জালিয়াতি আর অপপ্রচারে পুড়ছে কক্সজারের বাসিন্দাদের কপাল

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৮, ১৪:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

  আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ট্রাভেল পারমিট ইস্যু কঠোর করা হলেও থেমে নেই দালালরা।

কাউকে ট্রাভেল পাসের (টিপি)  জন্য অর্থ দিয়ে থাকলে এবং প্রতারণার শিকার হলে তথ্য ও প্রমানাসহ মিশনে যোগাযোগ করতে বলা হলেও যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ট্রাভেল পারমিট করে দেয়ার নামে দালালি অফিস।

ওইসব অফিস ফেসবুক আইডি খুলে ওয়ালে ট্রাভেল পারমিট করে দেয়ার নামে সাধারণ শ্রমিকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার রিঙ্গিত।

এতে করে অবৈধ বাংলাদেশিরা ট্রাভেল পাশ পেতে পদে পদে হয়রানী ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বিশেষ করে এ সব জালিয়াতি আর অপপ্রচারে পুড়ছে কক্সবাজারের বাসিন্দাদের কপাল! আর এ জালিয়াতির কারণে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ট্রাভেল পাস ইস্যুতে কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র মালয়েশিয়া এবং কক্সবাজার এলাকায় এ সব কাজে সক্রিয়। এদের কথার বাইরে গেলে হাইকমিশনের বিরুদ্ধে নানান অপপ্রচার করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হেল্প লাইন ফর বাংলাদেশি নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে মালয়েশিয়ায় চাকরির খবর, জবস ইন মালয়েশিয়া ফর ফরেনার, ফায়সাল মাহমুদ অপূর্ব ও মোহাম্মদ শরিফুল আলম নামের ফেসবুক আইডিতে দেখা গেছে, ট্রাভেল পাস করে দেয়ার নামে প্যাকেজ প্রোগ্রাম চালু করেছে।

১৬ শ' থেকে শুরু করে আড়াই হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত তারা হাতিয়ে নিচ্ছে।  প্রতিদিন মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নানা কারনে প্রতারনার শিকারে অবৈধ হয়ে পড়া শ্রমিকরা ট্রাভেল পাশ নিতে ভোর থেকেই বাংলাদেশ হাইকমিশনে এসে ভিড় জমাচ্ছেন।

এদের মধ্যে অনেকেই ট্রাভেল পাশ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়ে বিকেলে আবার পুলিশি গ্রেফতার এড়িয়ে কর্মস্থলে ফিরে যাচ্ছেন।  অনেকেই আউট পাসের জন্য ৪৪ রিংগিত ব্যাংক ড্রাফট কেটে সাথে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রাদি নিয়ে সেকশনে জমা দিয়েও কোন সাড়া পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর (শ্রম) সায়েদুল ইসলাম মুকুল এ প্রতিবেদককে জানান, ট্রাভেল পাস দেয়া হচ্ছে যাচাই-বাছাই করে। যাতে ইস্যুকৃত ট্রাভেল পাসের অপব্যবহার না করা হয়।  এ ছাড়া রয়েছে রোহিঙ্গা সমস্যা।  অনেক সময় দেখা গেছে টেকনাফের লোক সেজে ট্রাভেল পাস নিতে আসে।