• শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
স্পোর্টস রিপোর্টার    |    
প্রকাশ : ২০ মে, ২০১৭ ০০:০০:০০ | অাপডেট: ২০ মে, ২০১৭ ০৫:৫৫:৪৮ প্রিন্ট
মোস্তাফিজ ও সৌম্য বাংলাদেশের জয়ের নায়ক

এটাই তো চেয়েছিলেন মাশরাফি। তাই না? সবকিছু ঠিকঠাকমতো হবে। সব তারা না জ্বলুক, কোনো কোনো তারা আলো ছড়াবে। ডাবলিনে কাল সেই দুটি তারা হলেন বল হাতে মোস্তাফিজুর রহমান আর ব্যাট হাতে সৌম্য সরকার। প্রথমজন নয় ওভারে ২৩ রানে চার উইকেট নিয়ে আইরিশদের ১৮১-তে বেঁধে রাখতে বড়সড় ভূমিকা পালন করেন। দ্বিতীয়জন ৬৮ বলে হার না-মানা ৮৭ রান করেন। টানা দ্বিতীয় অর্ধশতরান। তাতে বাংলাদেশ আট উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারায় স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডকে। ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের প্রথম জয়। অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা যারপরনাই খুশি। ‘জয়ী দল সবসময় খুশি থাকে। ছেলেরা যেভাবে খেলেছে, সেটাই বেশি তৃপ্তি দিয়েছে’, ম্যাচ শেষে তার উৎফুল্ল উচ্চারণ।

১৮২ তাড়া করা নস্যি ছিল তামিমদের জন্য। উদ্বোধনী জুটিতে ৯৫ রান তুলে জয়ের পথ চওড়া করেন তারা। তামিম ৪৭ রানে বিদায় নিলেও সৌম্য ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন। ৬৮ বলে তার অপরাজিত ৮৭ রানে লেখা হয়ে যায় ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের বড় জয়। ১৩৭ বল বাকি থাকতে টাইগাররা ১৮২ রান তুলে নেয় মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে। সাব্বির রহমান ৩৪ বলে ৩৫ এবং মুশফিকুর তিন রানে অপরাজিত থাকেন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যায়। দ্বিতীয় ম্যাচে টাইগাররা চার উইকেটে হারে নিউজিল্যান্ডের কাছে। এই জয়ে আশা জিইয়ে রাখল বাংলাদেশ। চার পয়েন্ট নিয়ে মাশরাফিরা এখন দ্বিতীয় স্থানে।

ঝড়ো গতিতে শুরু করেছিলেন তামিম ও সৌম্য। নবম ওভারে সৌম্য দুটি চার ও একটি ছয় হাঁকান ব্যারি ম্যাককার্থিকে। সেই ম্যাককার্থিকেই চার ম্যাচে যবনিকাপাত ঘটান সবমিলিয়ে ১১টি চার ও দুটি ছয় মারা সৌম্য। বাংলাদেশের ইনিংসে অপর ছক্কা হাঁকান সাব্বির। তিনটি চারও মেরেছেন তিনি। বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচ খেলবে আগামী বুধবার।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচে দল চার উইকেটে হারলেও দারুণ বোলিং করেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। নয় ওভারে ৩৩ রান দিয়ে নিয়েছিলেন দুই উইকেট। শুক্রবার আয়ারল্যান্ডের সামনে আরও রুদ্ররূপে হাজির হলেন কাটার মাস্টার। মোস্তাফিজের আগুনে বোলিংয়ের কোনো জবাবই দিতে পারল না স্বাগতিকরা। ডাবলিনের ম্যালাহাইডে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের পুরো বোলিং ইউনিটই জ্বলে উঠল দারুণভাবে। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা আয়ারল্যান্ড ৪৬.৩ ওভারে ১৮১ রানে গুটিয়ে গেল। নিজের সপ্তম ওভারে টানা দুই বলে আয়ারল্যান্ডের শেষ দুটি উইকেট নিয়ে তুলির শেষ আঁচড় টানেন অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা। তবে নয় ওভারে মাত্র ২৩ রানে চার উইকেট নিয়ে আইরিশদের সর্বনাশটা করেছেন মোস্তাফিজই। ম্যান অব দ্য ম্যাচও হয়েছেন তিনিই। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রুফির আগে নিজের সেরা ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন এই বাঁ-হাতি পেসার। নিজের প্রথম ও ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে পল স্টারলিংকে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন মোস্তাফিজ। এরপর দুই ও’ ব্রায়েন ভাই কেভিন ও নিয়ালের পাশাপাশি গ্যারি উইলসনকে আউট করে আইরিশদের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি। ওয়ানডেতে প্রায় দেড় বছর পর চার উইকেট পেলেন মোস্তাফিজ। অভিষিক্ত বাঁ-হাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম ২২ রানে দুই উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুরুটা রাঙিয়ে রাখলেন। আগের ম্যাচে বাজে দিন কাটানো মাশরাফিও ফিরলেন চেনা ছন্দে। আঁটসাঁট বোলিংয়ে ৬.৩ ওভারে ১৮ রান দিয়ে তার শিকারও দুই উইকেট। একটি করে উইকেট পেয়েছেন সাকিব ও মোসাদ্দেক।

আয়ারল্যান্ডের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪৬ রান ওপেনার এড জয়েসের। চতুর্থ উইকেটে নিয়ালকে (৩০) নিয়ে ৫৫ রানের জুটিতে ক্ষণিকের প্রতিরোধ গড়েছিলেন জয়েস। মোস্তাফিজ সেই প্রতিরোধ ভাঙার পর নিয়মিত বিরতিতে আঘাত হানেন। আইরিশদের গুঁড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। একই ভেন্যুতে গত ১২ মে দু’দলের প্রথম ম্যাচটা বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ার আগে আইরিশ বোলাররা ভালোই ভুগিয়েছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। কাল সিরিজে প্রথমবারের মতো টস জিতে সবুজ উইকেটে প্রথমে বোলিংয়ের সুযোগ পেয়ে তার বদলা নিল টাইগাররা। রুবেল হোসেনের প্রথম ওভারটা মেডেন। মোস্তাফিজের দ্বিতীয় ওভারটাও মেডেন। সঙ্গে একটি উইকেট। ওভারের তৃতীয় বলে বাড়তি বাউন্সে বিভ্রান্ত হয়ে খোঁচা মেরে সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পল স্টারলিং। শুরুর ধাক্কা শেষ পর্যন্ত আর সামলে উঠতে পারেনি স্বাগতিকরা। মাশরাফির বলে সহজ ক্যাচ মিসের দায় শোধ করে নিজের প্রথম ওভারেই পোর্টারফিল্ডকে ফিরিয়ে দেন মোসাদ্দেক। ইনিংসের ১৫তম ওভারে ৬১ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। দারুণ এক ডেলিভারিতে ব্যালবার্নির স্টাম্প ভেঙে দেন সাকিব। ওই ওভারেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ ফেলে শূন্য রানে নিয়ালকে ‘জীবন’ দেন মুশফিক। জয়েস-নিয়াল জুটি যখন বাংলাদেশের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠে, তখনই ফের আঘাত হানেন মোস্তাফিজ। তাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে তামিম ইকবালের দুর্দান্ত এক ক্যাচে পরিণত হন নিয়াল।

২৯তম ওভারে আক্রমণে এসে নিজের প্রথম ওভারেই সাফল্য পান সানজামুল। থিতু হয়ে যাওয়া জয়েসকে ফেরান এই বাঁ-হাতি স্পিনার। এরপর নিজের পরপর দুই ওভারে কেভিন ও উইলসনকে তুলে নেন মোস্তাফিজ। ৪৪তম ওভারে ম্যাককার্থিকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানিয়ে ৩৫ রানের অষ্টম উইকেট জুটি ভাঙেন সানজামুল। শেষটা করেন অধিনায়ক। ৪৭তম ওভারে টানা দুটি বৈধ ডেলিভারিতে জর্জ ডকরেল ও পিটার চেজকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে আয়ারল্যান্ডকে ১৮১ রানে থামিয়ে দেন মাশরাফি। (স্কোর কার্ড খেলার পাতায়)


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by