• বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৭
মাহবুব হাসান    |    
প্রকাশ : ২০ মে, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু আজ
আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা আজ। আর বিশেষ মানেই বাড়তি কিছু। থাকছে বড় চমকও। আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রথম প্রস্তুতি সভার যাত্রা শুরু হচ্ছে শনিবার। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিষয়টি কিছুটা স্পষ্ট করলেও বিস্তারিত খোলাসা করবেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। তৃণমূল থেকে আগত নেতাদের আগামী নির্বাচনে প্রস্তুতি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নেতাকর্মীদের বিভেদ ও দ্বন্দ্ব-দূরত্ব ভুলে যে কোনো মূল্যে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে নির্বাচনে বিজয়ের জন্য কাজ করতে নির্দেশ দেবেন।
এদিকে সংবিধান অনুযায়ী একাদশ জাতীয় নির্বাচনের এখনো বাকি নিদেনপক্ষে দেড় বছর। আগামী বছর শেষদিকে কিংবা ১৯ সালের শুরুতে নির্বাচন হওয়ার কথা। তাই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের প্রশ্ন, তা হলে এখনই এত তোড়জোড় কেন? সরকারি দলের প্রচার-প্রচারণাসহ সিনিয়র নেতাদের নির্বাচনী বক্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যে নানাভাবে এর পোস্টমর্টেম হয়েছে। চায়ের দোকান থেকে একেবারে টিভি টকশো পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই সরগরম এসব আলোচনা। তবে তাদের মতে, সবকিছু ছাপিয়ে বিষয়টিকে বেশ খানিকটা গুরুত্ববহ করে তুলেছে আওয়ামী লীগের আজকের এ বিশেষ বর্ধিত সভা। তারা মনে করছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সময়কাল যখনই শেষ হোক না কেন আওয়ামী লীগের এ নির্বাচনী প্রস্তুতি সভা ভোটের রাজনীতির মাঠে বিশেষ বার্তাও ছড়িয়ে দিচ্ছে। তাই সরকারি দল তাদের সুবিধাজনক সময়ে একটু আগেভাগে নির্বাচন করলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
বর্ধিত সভার বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম যুগান্তরকে বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এ সভায় সাংগঠনিক নানা আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেবেন। যেহেতু দীর্ঘদিন পর একটি বড় ধরনের সভা হচ্ছে সেখানে সরকারের উন্নয়নসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপগুলো জানানো হবে। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই সবাইকে মাঠে নেমে পড়ার নির্দেশ দেবেন। সর্বোপরি এটাকে নির্বাচনের প্রস্তুতি সভাও বলা যেতে পারে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আজকের বিশেষ বর্ধিত সভা দলের সক্রিয় নেতাকর্মীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য করণীয় এবং প্রচারের কৌশল অবহিত করা হবে তৃণমূল নেতাদের। তাদের হাতে তুলে দেয়া হবে গত কয়েক বছরে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের নামে সহিংসতার চিত্র। একই সঙ্গে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণকে জানানোর জন্য নেতাদের সরবরাহ করা হবে এ সংক্রান্ত বই, সিডি-ডিভিডি, বুকলেট এবং লিফলেট। সরবরাহ করা হবে রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি-জামায়াত সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও তুলনামূলক চিত্রের পরিসংখ্যান। প্রতিটি সাংগঠনিক জেলার জন্য বরাদ্দ করা হবে একটি করে ল্যাপটপ। এক পাতার একটি বুকলেটে থাকবে জনকল্যাণমূলক সব কর্মকাণ্ডের খতিয়ান। তৃণমূল নেতারাও এ বর্ধিত সভায় নিজেদের সাংগঠনিক সমস্যার কথা তুলে ধরার প্রস্তুতি নিয়েছেন। বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পেলে মন্ত্রী-এমপিদের ক্ষমতার অপব্যবহার, সংগঠনকে কুক্ষিগত করে রাখা, পরীক্ষিত ও নিবেদিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগ তুলবেন তারা। তাই এ সারির নেতাদের ক’জন তুলাধুনাও হতে পারেন। দলের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে বসছে বিশেষ এ বর্ধিত সভা। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে তা প্রয়োজনে দিনব্যাপী গড়াতে পারে। সভায় কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পাশাপাশি দলের উপদেষ্টা পরিষদ ও জাতীয় কমিটির সদস্য, দলের সব মন্ত্রী-এমপি, জেলা পর্যায়ের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, প্রচার, দফতর, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং উপ-প্রচার ও উপ-দফতর সম্পাদকদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। বর্ধিত সভার পর আগামীকাল আলাদা করে সারা দেশের দফতর ও উপ-দফতর সম্পাদকদের এবং তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকদের সভা হবে। এসব সভায় নির্বাচনী প্রস্তুতি ও করণীয় নিয়ে অবহিত করা হবে। সূত্র জানায়, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকদের বৈঠকে একটি প্রশ্নপত্র তুলে দেয়া হবে। এ প্রশ্নের মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকার দৃশ্যমান উন্নয়ন, সাংগঠনিক বিস্তারিত তথ্য, বঙ্গবন্ধু বা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনও গিয়েছিলেন কিনা, গেলে সেগুলোর কোনো স্মারক আছে কিনা এবং সে এলাকায় অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অবস্থা এবং প্রার্থী সম্পর্কে তথ্য জানতে চাওয়া হবে।
জানা যায়, আজকের বর্ধিত সভায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেবেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফেরাতে নেতাদের কঠোর নির্দেশ দেবেন। দ্বন্দ্ব-ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে এখন থেকেই নির্বাচনের কাজে নেমে পড়ার জন্য তার জোরালো আহ্বান থাকবে। এছাড়া এদিন দলের নতুন গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্রও সবার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেয়া হবে। কার্যত এ বিশেষ বর্ধিত সভার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দৃশ্যমান প্রস্তুতি শুরু হবে। এ সভায় দলের সভাপতির সদস্য পদ নবায়নের মাধ্যমে শুরু হবে নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান ও সদস্য নবায়ন প্রক্রিয়া।
সূত্র জানায়, বর্ধিত সভায় আগামী নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহারের পক্ষে প্রচার চালাতেও নির্দেশ দেয়া হবে। এ পদ্ধতির সুফল নিয়ে জনগণকে সচেতন করার জন্য বার্তা দেয়া হবে নেতাকর্মীদের। উদাহরণ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করায় স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুত ভোট গ্রহণ ও নির্ভুল গণনার বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য প্রয়োজনে সভা-সমাবেশেও এর পক্ষে প্রচার চালানোর নির্দেশ থাকবে।
সূত্র বলছে, জনগণকে জানানোর জন্য আজকের সভা থেকে আগত নেতাদের হাতে এক পাতার একটি বুকলেট তুলে দেয়া হবে। সেখানে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত লেখা থাকবে। যাতে যে কোনো নেতাকর্মী এটা সার্বক্ষণিক পকেটে রাখতে পারেন এবং সেগুলো দেখে দেশ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরতে পারেন।
আওয়ামী লীগ মনে করছে, আজকের এ বিশেষ বর্ধিত সভায় শুরু হতে যাওয়া নতুন সদস্য সংগ্রহ ও সদস্য নবায়নের মাধ্যমে দলে ঢুকে পড়া অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দেয়া সম্ভব হবে। সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, সদস্য নবায়নের মাধ্যমে হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীরা বাদ যাবে। বিশেষ করে, দল জামায়াত-শিবিরমুক্ত হবে। কেননা সদস্য পদ নবায়ন করার আগে সবার সাংগঠনিক পরিচিত এবং দলে অন্তর্ভুক্তি ও অতীত কর্মকাণ্ডের ইতিহাস খুঁজে দেখার নির্দেশনা থাকবে।
দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ২০ মের বর্ধিত সভার বিষয়ে যুগান্তরকে বলেন, এদিন নেতাদের আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হবে। তাদের হাতে দলের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র তুলে দেয়াসহ নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করা হবে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে বিজয় সুনিশ্চিত করতে চায় তার দল।
আওয়ামী লীগ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, বিশেষ বর্ধিত সভায় উপস্থিত প্রচার সম্পাদকদের হাতে পরিসংখ্যান তুলে দিতে সিডি ও অন্যান্য প্রকাশনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। যাদের মাধ্যমে এগুলো ছড়িয়ে যাবে দেশব্যাপী সব পর্যায়ের কমিটির প্রচার সম্পাদকদের কাছে। তারা বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের চিত্র সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করবেন, আওয়ামী লীগ সরকারের হাত ধরে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাওয়ায় উন্নয়নের নানা চিত্র মানুষকে জানাবেন।
এদিকে মাঠপর্যায়ের কয়েকটি সূত্র জানায়, পুষে রাখা নানা ক্ষোভ প্রকাশ করতে তৃণমূলের অনেক নেতা বেশ মুখিয়ে আছেন। সুযোগ পেলে তারা হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেবেন। প্রতিকার চেয়ে নেত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। এতে করে অনেক মন্ত্রী-এমপি বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে পারেন। এ সারির কয়েকজন নেতা যুগান্তরকে বলেন, বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পেলে তারা সংগঠনের বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরবেন।
রংপুর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু যুগান্তরকে বলেন, একজন কেন্দ্রীয় নেতা যে কোনো মূল্যে রংপুর আওয়ামী লীগকে নিয়ন্ত্রণ করতে চান। যে কারণে দলের প্রকৃত এবং নিবেদিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে তিনি বিতর্কিত লোকজন নিয়ে নিজের বলয় গড়ে তোলার চেষ্টায় ব্যস্ত, যা সাংগঠনিক সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত