যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১৮ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০ | অাপডেট: ১৮ জুলাই, ২০১৭ ০৪:১৮:৩৯ প্রিন্ট
মহিলা দলের সেমিনারে মির্জা ফখরুল
সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া আওয়ামী লীগের পালানোর পথ নেই
‘পরিবেশ তৈরি না হলে ভোট কেন্দ্রে কুকুর-বিড়াল নিয়ে নির্বাচন করতে হবে’

আলোচনার মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা না করলে অপকর্মের

জন্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পালাতে পারবে না বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এক বক্তব্যের জবাবে সোমবার দুপুরে তিনি এ হুশিয়ারি দেন। রাজধানীর নয়াপল্টনে মওলানা ভাসানী মিলনায়তনে এক সেমিনারে তিনি বক্তব্য রাখেন। বিএনপির ভিশন-২০৩০ ‘নারী সমাজের উন্নয়ন ও অগ্রগতি’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল। সংগঠনের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেত্রী নূরজাহান ইয়াসমীন, নূরুন নাহার, শামছুন্নাহার ভূঁইয়া প্রমুখ।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তার নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, এবার যদি ক্ষমতায় আসতে না পার তাহলে তোমরা পালানোর পথও পাবে না। কারণ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হত্যা, গুম, জখম, দুর্নীতি, লুটপাটসহ নানা অপকর্মের জন্যই পালানোর পথ পাবে না। স্পষ্ট করে বলতে চাই, আপনাদের পালানোর পথ একটাই আছে, দেশের সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। অন্যথায় সত্যি সত্যিই দেশের মানুষ তাদের পালানোর পথও দেবে না।

নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন যখন গঠিত হয়, তখন আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার তা করেনি। কারণ তারা জানে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন হলে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। প্রশ্নবিদ্ধ একজনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করেছে। তারপর আমরা বলেছি, ঠিক আছে। আপনারা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করেন। কিন্তু নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগেই আমাদের সভা সমাবেশ করতে দেবেন না। অথচ বলবেন নির্বাচন করো।

উত্তরায় জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রবের বাসার ঘরোয়া অনুষ্ঠানে পুলিশের হানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ড. কামাল হোসেনদের মতো মানুষরাসহ ৪-৫টি রাজনৈতিক দল আলোচনা করার জন্য আসম আবদুর রবের বাসায় গিয়েছল। পুলিশ সেখানে গিয়ে বলেছিল, আপনারা এখানে মিটিং করতে পারবেন না। এর আগে বলেছিলাম, তারা (ক্ষমতাসীন) দেশটাকে বাপের তালুকদারি মনে করেন। ভাবেন, আমরা ভোটারবিহীন নির্বাচন করব, লুটপাট ও দুর্নীতি, হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করব, দেশের জনগণ হাততালি দেবে আর বলবে বেশ বেশ বেশ...। তা হবে না।

নির্বাচন কমিশন গঠনের আবারও সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তির মাধ্যমে ইসি গঠন করা হয়েছে। তারপরও আমরা বলেছি, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করলে সমর্থন পাবেন। সম্প্রতি ইসি একাদশ জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন। খুব ভালো কথা। কিন্তু নির্বাচন করতে হলে সব রাজনৈতিক দলকে একই রাস্তায় নিয়ে আসতে হবে, সেই রাস্তা কোথায়? রোডই যখন নেই তখন ম্যাপে কী হবে? নির্বাচনে যাতে বিরোধী দলগুলো যেতে না পারে, তার জন্য আপনারা ব্যবস্থা করেছেন। আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলতে চাই, আগে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করুন। রাস্তা তৈরি করুন। অন্যথায় নির্বাচনী রোডম্যাপ সার্থক হবে না। নির্বাচনে যদি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যেতে না পারে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আপনাদের কুকুর-বিড়াল নিয়ে নির্বাচন করতে হবে। কারণ মানুষ তো ভোট কেন্দ্রে যাবে না। এসব ব্যর্থতার দায় আপনাদের নিতে হবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের জেগে উঠতে হবে। পাকিস্তানিরা জোর করে নিয়েছিল, বর্গিরা জোর করেছিল আমরা ছেড়ে দেইনি। এই সরকারকেও আমরা ছেড়ে দেব না। আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করব। এজন্য বিএনপিরও দায়িত্ব আছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ জানে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। দেশের জনগণ তাদের ভোট দেবে না। তাই আওয়ামী লীগ চায়, বিএনপি নির্বাচনে না আসুক। আওয়ামী লীগ তাদের সমালোচনা একেবারেই সহ্য করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভিশন ২০৩০-এর নানা ইতিবাচক দিক তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা ওয়ানডে ডেমোক্রেসি চাই না। প্রতি মুহূর্তে আমরা সর্বত্র গণতন্ত্র চাই। তাই ভিশনেও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা খালেদা জিয়া ১৬টি দফায় গণতন্ত্রের কথা বলেছেন। আমরা সব মত, পথের মানুষদের নিয়ে রংধনু সমাজ গড়তে চাই। সেজন্য ক্ষমতায় যেতে হবে। এক্ষেত্রে মহিলা দলেরও ভূমিকা রাখতে হবে। যাতে করে গ্রামের মহিলারা ধানের শীষে ভোট দেয়। তিনি দাবি করেন, দেশের বেশির ভাগ মহিলাই ধানের শীষে ভোট দেয়।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by