•       ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে আটক ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন রানাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার
যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০:০০ | অাপডেট: ১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০৫:১৯:০০ প্রিন্ট
ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়
সারা দেশে আ’লীগ-বিএনপির আইনজীবীরা মুখোমুখি
তিন দিনের কর্মসূচি শুরু আজ

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মুখোমুখি অবস্থানে। আজ রোববার এবং আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই পক্ষ পৃথক দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করেছে। প্রতি জেলায় দুই পক্ষের আইনজীবীরা আজ থেকে তিন দিনের এ কর্মসূচি পৃথকভাবে পালন করবেন। এর মধ্য দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায় নিয়ে চলমান বিতর্ক দেশজুড়ে আইনজীবী সমিতিগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল। দুই পক্ষের একই দিনে কর্মসূচিতে আদালত প্রাঙ্গণের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ আইনজীবীরা।
আদালতের রায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় সংসদ এবং সিভিল প্রশাসন নিয়ে দেয়া ‘আপত্তিকর ও অপ্রাসঙ্গিক’ বক্তব্য স্বতঃপ্রণোদিত এক্সপাঞ্জ করার দাবিতে শনিবার বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ নেতারা ওই দিনগুলোতে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিলেন। এর আগে আপিল বিভাগের রায় নিয়ে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকসহ সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যের প্রতিবাদ ও নিন্ম আদালতে চাকরিবিধি গেজেটের প্রকাশের দাবিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা গত শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে আজ ও আগামী বুধ, বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

গতকাল শনিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব শেখ ফজলে নুর তাপস এমপি তিন দিনের কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এবিএম খায়রুল হকের বক্তব্যকে আমরা পূর্ণ সমর্থন করছি। তিনি গণতন্ত্রের স্বার্থে, ন্যায় বিচারের স্বার্থে যথার্থই বলেছেন। আমরা মনে করি, দেশের রাজনৈতিক অপশক্তিকে ইস্যু তৈরি করে দিতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি করার প্রচেষ্টা চলছে। আমরা এই ঘৃণ্য অপচেষ্টার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আইনজীবী পরিষদের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় সারা দেশের আইনজীবীদের সংক্ষুব্ধ করেছে। একটি মহল রায় নিয়ে বিচার বিভাগকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। রায়ে যেসব আপত্তিকর ও অসাংবিধানিক অগণতান্ত্রিক অপ্রাসঙ্গিক পর্যবেক্ষণ রয়েছে সেগুলো স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে প্রত্যাহার করতে আদালতের প্রতি দাবি জানানো হয়। বক্তব্যে বলা হয়, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমরা লক্ষ করছি, একটি দল ও মহল রায় নিয়ে বিচার অঙ্গনকে বিতর্কিত করার পাঁয়তারা করছে। আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে দেশবাসী দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ইঙ্গিত করে তিনি যে বক্তব্য লিখেছেন, তাতে আমরা আইনজীবীসহ সারা দেশের মানুষ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। তিনি জাতীয় সংসদ সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন এবং ওই প্রতিষ্ঠানকে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। সংসদকে হেয় করার মানে গণতন্ত্রকে হেয় করা, জনগণকে হেয় করা। আমরা আইনজীবী অঙ্গন এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বক্তব্যে আরও বলা হয়, এমন পর্যবেক্ষণ অসাংবিধানিক ব্যক্তিদের ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করে। ফলে এ জাতীয় মতামত পর্যবেক্ষণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে। ফজলে নুর তাপস আরও বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি পূর্ণাঙ্গ রায়ে যে ‘অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ’ দিয়েছেন তা আইনজীবী অঙ্গনকে সংক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করেছে। তিনি অপ্রাসঙ্গিকভাবে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় সংসদ, অধস্তন আদালতের প্রতি রাষ্ট্রপতির নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন কমিশন নিয়ে মন্তব্য দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমাদের এ বক্তব্য আদালতের বিরুদ্ধে নয়, রায়ে কিছু অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য এসেছে, যা দেশবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। রায়ে বলা হয়েছে, এ দেশ একক নেতৃত্বে স্বাধীন হয়নি। এটা অসত্য ও বেদনাদায়ক।
ওই কর্মসূচি ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া, কার্যনির্বাহী সদস্য নজিবুল্লাহ হিরু প্রমুখ।
এর আগে শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিমকোর্টের রায় নিয়ে বাংলাদেশ আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তার অপসারণ ও গ্রেফতার দাবি জানান। একই সঙ্গে ওই রায় নিয়ে মন্ত্রীদের বক্তব্যের প্রতিবাদ ও নিন্ম আদালতের বিচারকদের চাকরিবিধির গেজেট শিগগিরই প্রকাশের দাবিতে আজ রোববার এবং আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার তিন দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ওই কর্মসূচি ঘোষণার সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, হারুনুর রশীদ, সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দুই পক্ষের একই দিনে কর্মসূচির বিষয়ে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ। তাছাড়া আইনজীবীদের একই বিষয়ে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ভিন্ন বক্তব্য রাখার রেওয়াজ আছে। তাই এ ধরনের কর্মসূচি কেউ দিতেই পারে।
 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত