যুগান্তর ডেস্ক    |    
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বিক্ষোভ
সুচি নিষ্ঠুর নারী -খামেনি * পাক সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাস * ইসরাইলি মুসলিমদের বিক্ষোভ * টেকনাফে শিখদের লঙ্গরখানা
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। মুসলিমবিশ্বের নেতারাও মিয়ানমারের নিন্দা জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, মিয়ানমার সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে। দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের জন্য সাহায্য সহযোগিতাও আসছে।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি অং সান সুচিকে ‘নিষ্ঠুর নারী’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং মিয়ানমারের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। পাকিস্তান সংসদ মিয়ানমারের বিরুদ্ধে একটি নিন্দা প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস করেছে। রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নৃশংসতার বিরুদ্ধে কঠোর নিন্দা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল প্যানেল ‘ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মমতার নিন্দা জানিয়েছে। তেলআবিবে মিয়ানমার দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন ইসরাইলি মুসলিমরা।
মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন -খামেনি : ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমার সরকারের বর্বর গণহত্যা ও ভয়াবহ দমনপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ব্যবস্থা নিতে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার বলেছেন, গণহত্যা বন্ধে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করার জন্য মুসলিম দেশগুলোর উচিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, মিয়ানমার সংকট অবসানে মুসলিম দেশগুলোকে বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ নিতে হবে।
খামেনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট অবসানের জন্য মুসলিম দেশগুলোকে মিয়ানমারের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপ বাড়াতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে মুসলিম সরকারগুলোকে মিয়ানমার সরকারের অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে কথা বলতে হবে।
রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্বঘোষিত মানবাধিকারের ধ্বজাধারীদের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেন সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, মিয়ানমারের চলমান সংকটে যদিও ধর্মীয় রূপ থেকে থাকে তবে তাকে কোনোভাবেই বৌদ্ধ ও মুসলমানদের মধ্যকার ধর্মীয় দ্বন্দ্ব বলা যাবে না। বরং এটি হচ্ছে একটি রাজনৈতিক ইস্যু। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যারা এই বর্বর হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন চালাচ্ছে তারা হচ্ছে মিয়ানমারের সরকার, যার শীর্ষে রয়েছেন একজন নিষ্ঠুর নারী যিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এই বর্বর ঘটনার মধ্য দিয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কারেরও মৃত্যু ঘটেছে বলে সর্বোচ্চ নেতা মন্তব্য করেন।
মিয়ানমার সরকারকে দেশটির রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। ইরানের প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী শাহিনদোখ্?ত মোল্লাভেরদি সুচিকে লেখা এক চিঠিতে এ আহ্বান জানিয়েছেন। চিঠিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী বলেন, ‘আমরা আশা করব আপনার একান্ত উদ্যোগে মিয়ানমারের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চলমান সহিংসতার অবসান হবে এবং মিয়ানমার সরকার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সে দেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। সেইসঙ্গে মিয়ানমার সরকার এই জনগোষ্ঠীকে দেশের অন্যান্য নাগরিকের সমান মর্যাদা দেবে এবং সব ধরনের বৈষম্য ও সহিংসতা থেকে সরকারই রোহিঙ্গা মুসলমানদের রক্ষার ব্যবস্থা নেবে।
পাকিস্তান সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাস : রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে মন্তব্য করে একটি নিন্দা প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস করেছে পাকিস্তান সংসদ।
সোমবার সিনেটে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন সিনেট নেতা রাজা জাফর উল হক। প্রস্তাবে বলা হয়, শান্তিপ্রিয় একটি সম্প্রদায়ের ওপর ধর্ম ও বর্ণের কারণে যে হত্যাযজ্ঞ চলছে তা গণহত্যার শামিল। প্রস্তাবে বলা হয়, নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, রোহিঙ্গা মুসলিমদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার জন্য শিশু ও পুরুষদের খুন করা হচ্ছে। সিনেট এই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে নজর দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানায়। পাকিস্তান সরকারকে বিষয়টি অবিলম্বে জাতিসংঘের অছি পরিষদে তোলার আহ্বান জানায় সিনেট। রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা পাঠানোর জন্য পাক সরকারকে অনুরোধ জানানো হয় প্রস্তাবে।
ইসরাইলি মুসলিমদের প্রতিবাদ : রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মমতার নিন্দা জানিয়েছে ইসরাইলি মুসলিমরা। সোমবার তেলআবিবে মিয়ানমার দূতাবাসের বাইরে আয়োজিত এক বিক্ষোভে বলা হয়, মিয়ানমার সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে। ইসলামী আন্দোলন নামের একটি দল এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। এতে আরব ইসরাইলিরা অংশ নেন। বিক্ষোভের আয়োজক সংসদ সদস্য ইব্রাহিম সারসুর বলেন, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর নির্মমতা চালাচ্ছে। তিনি হত্যাযজ্ঞ অবিলম্বে বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধ চলছে বলেও মন্তব্য ক৬েরন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল প্যানেলের নিন্দা : রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নৃশংসতার বিরুদ্ধে কঠোর নিন্দা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল প্যানেল ‘ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ (ইউএসসিআইআরএফ)। প্যানেলের চেয়ারম্যান ডানিয়েল মার্ক মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার বিরুদ্ধে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রোহিঙ্গা মুসলিমদের রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা মুসলিমদের ভয়াবহতাকে মানবিক বিপর্যয় বলে আখ্যায়িত করেন। ইউএসসিআইআরএফ হল একটি নিরপেক্ষ, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বিপক্ষীয় কমিশন। এই কমিশন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কংগ্রেসের কাছে সুপারিশ পেশ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বহু গ্রামের পুরোটাই একেবারে ধ্বংস করে দিয়েছে। কসাইখানায় জবাই করার মতো অনেক পরিবারের সদস্যদের গলা কেটে হত্যা করেছে। এমনকি শরণার্থী হিসেবে যারা পালিয়ে যাচ্ছে তাদের পথের ওপর তারা স্থলবোমা পেতেছে। ইউএসসিআইআরএফের চেয়ারম্যান ডানিয়েল মার্কের মতে, এতে সৃষ্টি হয়েছে এক বিস্ময়কর মানবিক বিপর্যয়। মার্ক বলেন, রাখাইনে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীকে।
বাংলাদেশের প্রশংসা জার্মানির : রোহিঙ্গাদের উদারভাবে গ্রহণ করায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে জার্মানি, যে দেশটি শরণার্থীদের বিপুল সংখ্যায় আশ্রয় দিয়ে সারাবিশ্বের প্রশংসা কুড়িয়েছে। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিগমার গ্যাব্রিয়েল এক বিবৃতিতে বলেছেন, অং সান সুচিকে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের রিপোর্ট প্রত্যক্ষভাবে এবং বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে জার্মানি ও ইইউ সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তিনি মিয়ানমার সরকারকে রাখাইনে ত্রাণ সংস্থাগুলোকে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দিতে আহ্বান জানান।
শিখদের লঙ্গরখানা : ক্ষুধার্ত রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারের টেকনাফে লঙ্গরখানা খুলেছে শিখ সংস্থা খালসা এইড। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমরপ্রীত সিং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকাকে বলেন, তারা ৫০ হাজার লোককে ত্রাণ দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে এসেছেন। তারা রোহিঙ্গাদের খাবার ও আশ্রয় দেবেন। তিনি বলেন, কেউ যাতে অভুক্ত অবস্থায় ঘুমাতে না যায় সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন তারা। রোহিঙ্গা সঙ্কটের শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা ত্রাণ তৎপরতা চালাবেন।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by