•       রোহিঙ্গা শরণার্থী সব ক্যাম্পে টেলিটকের বুথ থাকবে, সেখান থেকে নাম মাত্র মূল্যে তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন: টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম
সংসদ রিপোর্টার    |    
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ | অাপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০৩:৪০:৪৪ প্রিন্ট
রায় ও পর্যবেক্ষণের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তাব গৃহীত
সংসদই সার্বভৌম : প্রধানমন্ত্রী
রায় কারও কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়নি * প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, সংসদই সার্বভৌম। সংবিধান অনুযায়ী সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। সেই জনগণ সংসদ নির্বাচিত করে। সংসদ আইন তৈরি করে দেয়। এ পার্লামেন্ট যে আইন পাস করে দেয় সে আইন দ্বারাই বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ চলে। আর সেই সংসদকে খাটো করা, রাষ্ট্রপতিকে খাটো করা- সেটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ রায় কারও কাছেই গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এর মাধ্যমে প্রধান বিচারপতি নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, সংবিধান, সংসদ ও গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছেন। আসলে তার কি উদ্দেশ্য?
বুধবার জাতীয় সংসদে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ও আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণের কিছু বিষয়ে ‘আইনি পদক্ষেপ’ নেয়ার একটি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর প্রস্তাবটি সর্বস্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপিত ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে জামায়াত-বিএনপির অপপ্রচারের পুনরাবৃত্তি করেছেন। তার রায় ও পর্যবেক্ষণে অনেক সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে। কোথা থেকে কারা এটা তৈরি করে দিয়েছে সেটাও একটা প্রশ্ন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনগণের কাছে সবার জবাবদিহিতা থাকতে হবে। প্রধান বিচারপতি আমিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিজের ‘আমিত্ব’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ রায় কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়নি।” তিনি বলেন, ‘আদালত আইন প্রণয়ন করতে পারে না, সংশোধনও করতে পারে না। সেই অধিকার শুধু সংসদের।’
বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন। বিএনপি-জামায়াত বিভিন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে ধরনের কথা বলে, মনে হচ্ছে রায়ে তিনি সে সবেরই পুনরাবৃত্তি করেছেন। একদিকে তিনি (প্রধান বিচারপতি) আমিত্বের বিরুদ্ধে বলছেন, আরেকদিন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে আমিত্বের ব্যবস্থা করছেন। কেননা এখানে অন্য বিচারপতিরা তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস করবেন না। কারণ প্রধান বিচারপতি যদি কারও প্রতি বিরাগ হন তাহলে তার (সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের অন্য সদস্য) চাকরিটাও যাবে। প্রধান বিচারপতির কাছে প্রশ্ন, সব জুডিশিয়ারি এক ব্যক্তির হাতে থাকবে? বিচারপতিদের চাকরি থাকবে কি থাকবে না সেটাও এক ব্যক্তির হাতেই থাকবে?’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে যখন ’৭২-এর সংবিধানের মূল কাঠামোয় ফিরে গেলাম তখন হাইকোর্ট বাতিল করে দিলেন। বলা হল, ৯৬ অনুচ্ছেদ সংবিধানের মূল কাঠামোর অংশ নয়, অথচ তিনি ফেরালেন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল, যা মূল কাঠামোর অংশ ছিল না বরং আদালতের বাতিল করে দেয়া মার্শাল ল এবং অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা সময়ের অংশ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপিল বিভাগের রায়ে প্রধান বিচারপতি শত শত বছর পেছনে ফিরে নানা ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি নারী আসন নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি এখানে আপত্তি দেখিয়ে বলেছেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭(১)-এর সঙ্গে নাকি অসামঞ্জস্য। অথচ সংসদ সদস্যরাই নারী সদস্যদের নির্বাচিত করেন। রাষ্ট্রপতিকেও নির্বাচিত করছে এ সংসদ। সেই রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতিকে। কাজেই উনি যদি একথা বলেন, তার নিয়োগ কোথায় যাবে? বঙ্গবন্ধু ’৭২-এর সংবিধানেই নারী সদস্য দিয়েছিলেন। জনগণ বেড়ে যাওয়ার ধারাবাহিকতায় এখন ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য। সারা বিশ্বেও এখন নারীদের মর্যাদার কথা বলা হচ্ছে। অথচ আমাদের এ ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ দেখানো হচ্ছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘মার্শাল ল’ অধ্যাদেশকে ইতিমধ্যে অবৈধ বলা হয়েছে। তাহলে আবার সেই মার্শাল ল’র মাধ্যমে সৃষ্ট সুপ্রিম জডিশিয়াল কাউন্সিলকে কিভাবে বৈধতা দেয়া হচ্ছে? আপিল বিভাগ সংবিধান সংশোধন করে দিতে পারেন না, সেই ক্ষমতা কেউ তাকে দেয়নি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ চলে কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী। সংসদ কতদিন চলবে সেই সিদ্ধান্ত নেয় কার্যউপদেষ্টা কমিটি। সেখানে কেবিনেটের কোনো ভূমিকাই নেই। কিন্তু প্রধান বিচারপতি বলেছেন, কেবিনেটের ঠিক করা দেয়া অনুযায়ী সংসদ চলে। এটাও ভুল। কাজেই এসব প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি নিজেকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। সংসদই সার্বভৌম, এ সংসদই সংবিধান রচনা করে এবং এ সংসদই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। সংসদ জনগণের অধিকার সুরক্ষিত ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করে, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করে। সংসদ যেভাবে আইন করে সে অনুযায়ীই নির্বাহী ও বিচার বিভাগ চলে। এমনকি প্রধান বিচারপতিও চলেন। কাজেই সেখানে সংসদকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা সমুন্নত রাখতে হবে। গণতন্ত্র ছাড়া দেশের উন্নয়ন হয় না। এ সংসদ জনগণ দ্বারা নির্বাচিত। জনগণের অধিকার ও সম্মান সমুন্নত রাখতে হবে। তাদের সাংবিধানিক অধিকার সমুন্নত রাখতে হবে। জনগণের শক্তিই মূল শক্তি।’
সংসদ নেতা আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রের মূল কাঠামোই হচ্ছে নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগ। এ তিনটি স্তম্ভ একে অপরের পরিপূরক ও সমান অধিকার রয়েছে। কেউ কাউকে খাটো করবে না। সংসদে পাস হওয়া কোনো আইনে ব্যত্যয় ঘটলে সর্বোচ্চ আদালত এ ব্যাপারে বিশ্লেষণ করতে পারেন, কিন্তু সংবিধান সংশোধন করতে পারেন না। রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি শত শত বছর আগের বিষয়গুলো টেনে এনেছেন। আমরা প্রতি ৫ বছর পরপর জনগণের কাছে গিয়ে কাজের জবাবদিহিতা দেই। জবাবদিহিতা সবার থাকতেই হবে।’  
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ রায়ে বিএনপি খুব খুশি ও উৎফুল্ল হয়ে মিষ্টি বিলিয়েছিল। অথচ এ রায়েই জিয়ার ক্ষমতা দখলকে অবৈধ বলা হয়েছে, ব্যানানা রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। সেটা মনে হয় তারা দেখেননি। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থাকাতেই তারা খুশি।’
প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি : প্রস্তাবটির ওপর দীর্ঘক্ষণ আলোচনায় সংসদ সদস্যরা এ ব্যাপারে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে আইনমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। অনেকে বলেন, ‘এ ধরনের রায় দেয়ার কোনো এখতিয়ার আপিল বিভাগের নেই। প্রধান বিচারপতি শপথ ভঙ্গ করেছেন, তার বিরুদ্ধে বহু দুর্নীতির দালিলিক প্রমাণ রয়েছে। তিনি স্বপদে থাকলে আমরা ন্যায়বিচার পাব না। কাজেই তাকে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগগুলোর তদন্ত করতে হবে।’ সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা আরও বলেন, ‘এ রায় অশুভ ও অসাংবিধানিক শক্তিকে ক্ষমতায় আনার পাঁয়তারা, এটি বাংলাদেশকে অকার্যকর করার ও পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নেয়ার চক্রান্ত।’ সংসদ সদস্যরা ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রিটে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীদেরও (একজন ছাড়া) কড়া সমালোচনা করেন। তারা এ রায় ও পর্যবেক্ষণকে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলেও দাবি করেন। কেউ কেউ প্রধান বিচারপতির দুর্নীতির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা এবং তাকে আইনের মুখোমুখি করার দাবি জানান। তারা এসকে সিনহার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ উত্থাপন করে বলেন, তার বিরুদ্ধে (এসকে সিনহা) অনিয়ম, দুর্নীতি, যুদ্ধাপরাধীদের পরিবারের সঙ্গে সখ্যের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে এসকে সিনহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান।
সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭ ধারায় এ বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব উত্থাপন করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) একাংশের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল। প্রস্তাবটির ওপর সরকারি দল, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের অনেকে আলোচনায় অংশ নেন। পরে এটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন। মইন উদ্দীন খান বাদল তার প্রস্তাবে বলেন, “সংসদের অভিমত এই যে, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের দেয়া রায় বাতিল এবং রায়ে জাতীয় সংসদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতির দেয়া অসাংবিধানিক, আপত্তিকর ও অপ্রাসঙ্গিক পর্যবেক্ষণ বাতিল করার জন্য যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।”
প্রস্তাবটির ওপর আলোচনায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমরা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। আমাদের কিংবা এ সংসদকে কেউ ছোট করে কথা বললে পুরো জাতিকেই ছোট করা হয়। সংসদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে স্বাভাবিকভাবেই আমরা দুঃখিত হই। এ সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে যত্নসহকারে আমরা এ সংশোধনী এনেছিলাম, ’৭২-এর মূল সংবিধানে ফিরিয়ে নিয়েছিলাম। তিনি বলেন, ‘আদালতের বন্ধু অ্যামিকাস কিউরি তারা কারা। তারা আওয়ামী লীগবিরোধী। ড. কামাল আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে নিজে দল করেছেন। ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম আওয়ামী লীগের কেউ নন। রোকনউদ্দিন মাহমুদ হাইকোর্টে একটা আর আপিল বিভাগে আরেকটা বলেছেন। এজে মোহাম্মদ আলী, ফিদা এম কামাল, হাসান আরিফ, টিএইচ খান- এরা কারা? একমাত্র আজমালুল হোসেন কিউসি সংসদের পক্ষে কথা বলেছেন। আর কোনো লোক পাওয়া গেল না? এসব লোক দিয়ে সংশোধনী বাতিল করা হয়েছে। একটি পত্রিকায় সাক্ষাৎকারে ড. কামাল বলেছেন, আমাদের সংবিধান শুরুই হয়েছে ‘আমরা’ দিয়ে। তিনি কি ভুলে গেছেন বঙ্গবন্ধু বলেছেন, আমি প্রধানমন্ত্রী হতে চাই না ..., আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি ...।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি পাকিস্তানকে বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন না। তিনি বললেন, প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণের পরেও সেখানে কোনো প্রতিক্রিয়া হয়নি। সেখানে সুপ্রিমকোর্টের তদন্ত কমিটিতে দু’জন আর্মি অফিসার ছিলেন। সেই কোর্টের সঙ্গে তিনি বাংলাদেশকে তুলনা করলেন! আজকে আমার অবাক লাগে, সংসদের গ্রন্থাগারে দেখলাম ১৯৫৩ সালে বেসিক প্রিন্সিপাল কমিটি গঠন হয়, সেই কমিটি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল প্রস্তাব করে। ’৫৬-এর সংবিধানেও ছিল- সংসদ বিচারপতিদের অপসারণ করবে না। সেই আইয়ুব খানের আমলের কথা বলছেন প্রধান বিচারপতি!’ ষোড়শ সংশোধনীতে থাকা বিচারপতি অপসারণের প্রক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একটি সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করল। আমরা চাইলাম সবার মর্যাদা রাখতে।’ তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আজ পর্যন্ত কি একজন বিচারপতির বিরুদ্ধেও কোনো তদন্ত হয়েছে? হয়নি। বিনয়ের সঙ্গে বলি, বেশি কথা বলা ভালো নয়। প্রধান বিচারপতি বললেন, তাকে মিসকোট করা হয়েছে। যিনি বেশি কথা বলেন তাকেই মিসকোট করা হয়। এর আগে এত প্রধান বিচারপতি ছিলেন, কেউ এত কথা বলতেন না। এর আগে টিআইবি বলেছিল আমাদের বিচার বিভাগ সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যখন সংবিধান প্রণয়ন করি তখন এ বিচারপতিদের অনেকে স্কুলছাত্র ছিলেন। আর এখন তারা আমাদের বলছেন অপরিপক্ব, আর তারা হলেন পরিপক্ব। তিনি বলেন, দুদককে চিঠি লিখে একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থেকে আমাদের সংসদ কর্তৃক অপসারণের প্রস্তাব অনেক বেশি যৌক্তিক ও বিশ্ব প্রেক্ষাপটে গ্রহণযোগ্য। আইনমন্ত্রীকে বলব এটাকে রিভিউতে পাঠানোর জন্য। সংসদ কর্তৃক অপসারণের প্রস্তাব অধিকতর গণতান্ত্রিক। কারণ ৪০ বছরে একজন বিচারপতিও অপসারিত হননি।’
তিনি বলেন, ‘পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি বললেন, নির্বাহী বিভাগ শেষ, আইন বিভাগ শেষ, বিচার বিভাগ ডুবতে ডুবতে কোনোভাবে নাক উঁচিয়ে টিকে আছে। অর্থাৎ তিনি বলতে চাইলেন, বাংলাদেশ অকার্যকর রাষ্ট্র। নো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। বিনয়ের সঙ্গে প্রধান বিচারপতিকে বলি, কথা কম বলা ভালো। অনেক পোড় খাওয়া লোক আমরা এখানে আছি। এ রায় দিয়ে বিএনপিকে উৎফুল্ল করার চেষ্টা করা হয়েছে।’
আলোচনার সূচনা করে মইন উদ্দীন খান বাদল তার লিখিত নোটিশে বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী সংক্রান্ত রায়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার পর্যবেক্ষণে অনেক অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে অপ্রয়োজনীয়, অবাঞ্ছিত বক্তব্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের অপিরপক্ব আখ্যায়িত করেছেন। বিষয়টি নিয়ে এমনভাবে আলোচনা, গুঞ্জন চলছে যা পুরো জাতির জন্য বাঞ্ছনীয় নয়। আমরা বিশ্বাস করি, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার চাদর সৃষ্টি হয়েছে সংসদ, বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের সমন্বয়ে, যাতে সংবাদপত্র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, অনেকেই যখন ব্যক্তির ও সংগঠনের জন্য নির্ধারিত লঙ্ঘন রেখা অতিক্রম করেন, তখন সমাজ ও রাষ্ট্রে সংকট অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়। এ সংসদ ব্যাপক আলোচনার নিরিখে বর্তমান অবস্থার অবসান চায়। যাতে করে অশুভ গণবিরোধী শক্তির ঘোলা জলে মাছ শিকারের প্রচেষ্টা গুঁড়িয়ে যায়।’ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘এ রায় পক্ষপাতদুষ্ট, এখতিয়ারবহির্ভূত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এ রায় সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। সংসদকে অস্বীকার করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আইনি পদক্ষেপে এ সংসদ বিজয়ী হবে।’
মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি জাতির জনককে অবমাননা করেছেন। আদালত জাতির জনককে খাটো করলে আমরা চুপ করে থাকব?’  তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বহু দুর্নীতির দালিলিক প্রমাণ রয়েছে। মিডিয়ায় সেগুলো এসেছে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি এর কোনো প্রতিবাদ জানাননি। তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে এসব দুর্নীতির তদন্ত হওয়া উচিত। তার বাড়ির কথা উঠেছে। তিনি নিজের ভাইয়ের নামে বাড়ি কিনেছেন। রাজউকের তিন কাঠার প্লট পাঁচ কাঠা করেছেন। বিচারপতি জয়নাল আবেদীনের দুর্নীতির তদন্ত থামানো হয়েছে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী একাধিকবার প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বাসায় দেখা করেছেন। এতে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রমাণিত। তার পক্ষে ন্যায়বিচার করা অসম্ভব। একটি অপশক্তিক্তে ক্ষমতায় আনার অপপ্রয়াস এ রায়। তার জন্য উচ্চ আদালতের বিচারকরা আজ লজ্জিত, তারা মুখ দেখাতে পারছেন না।’ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘৯৬ অনুচ্ছেদের বিষয়ে প্রথম হাইকোর্ট বাতিল করে। হাইকোর্টের রায়ে তিনজন বিচারক ছিলেন। তাদের মধ্যে বিচারপতি আশরাফুল কামাল তার রায়ে বলেছেন ‘যারা স্বাধীনতা ও সংবিধানে বিশ্বাস করে না, তাদের বিচারপতির পদ থেকে অপসারণ করে সংসদ সঠিক দায়িত্ব পালন করবে। স্বাধীনতা ও দেশবিরোধী কাউকে বিচারপতি পদে নিয়োগ দেয়া হবে না। আমি সংসদকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এজন্য তারা ষোড়শ সংশোধনী এনেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আপিল বিভাগ যদি এ সংশোধনী বাতিল করেন তাহলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনঃস্থাপন হতে পারে না। কারণ ২০১২ সালের পর এ কাউন্সিলের কোনো অস্তিত্ব নেই। কাউন্সিল পুনঃস্থাপন করতে হলে নতুন করে আইন করতে হবে। আপিল বিভাগের অরিজিনাল জুরিডিকশান না থাকায় তারা শুধু হাইকোর্টের রায়ের আপিল নিতে পারেন। এর বাইরে কোনো রায় দেয়ার অধিকার আপিল বিভাগের নেই।’ চুন্নু বলেন, ‘এ রায়ের পর বিএনপি খুশি হয়েছে। সরকারকে অনুরোধ করব, ২০১২ সালের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের যে কোনো অস্বিত্ব নেই তা তুলে ধরেন। তাছাড়া ষোড়শ সংশোধনীতে ইম্পিচমেন্ট বলতে কিছু নেই, রিমুভের কথা আছে। এ ধরনের রায় দেয়ার ক্ষমতা আপিল বিভাগের নেই।’
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নামে স্বাধীনতা বা সার্বভৌমত্ব কি আমরা অস্বীকার করতে পারি? এ রায়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রের অন্য দুটি অঙ্গকে অস্বীকার করা হয়েছে। এ ধরনের রায় দেয়ার কোনো এখতিয়ার আপিল বিভাগের নেই। এই রায় অগ্রহণযোগ্য।’
আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি বলেন, ‘কাদের পারপাস সার্ভ করতে এইঅশুভ পাঁয়তারা? পাকিস্তানের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল কেন তাদের এত পছন্দ? সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল অনুসরণ করে পাকিস্তানসহ কয়েকটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। গণতন্ত্রের সূতিকাগার যুক্তরাজ্য ও ভারতকে কেন আমরা অনুসরণ করব না? প্রধান বিচারপতির কাছে জানতে চাই, আপনি কোন একক নেতৃত্বকে অস্বীকার করতে চান? ইতিহাস বিকৃতির এ চেষ্টা বাংলাদেশের জনগণ কখনও মেনে নেবে না। ৭৯৯ পৃষ্ঠার রায়ের মধ্যে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ প্রায় ৪০০ পৃষ্ঠা। কাদের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য এ পর্যবেক্ষণ? ওই অ্যামিকাস কিউরিরা জনগণের শত্রু। ড. কামাল প্রতারক, সুবিধাবাদী। জীবনে কোনোদিন ভোটে জেতেননি। কিন্তু ক্ষমতায় বসার তার খুব খায়েস। বর্ণচোরা আমীর-উল ইসলাম ও রোকনউদ্দিন মাহমুদেরও একই খায়েস।’
তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি আপনি বাংলাদেশের মানচিত্রকে ঢেকে দিয়েছেন। আপনার রাজউকের প্লট বদল, বাড়ি বিক্রি, ব্যাংকে অস্বাভাবিক লেনদেন সবই আমাদের জানা। এসব থেকে জনগণকে নিবৃত্ত রাখার একটি প্রয়াস এ রায়।
ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘আদালত সংবিধানের কোনো ধারা সংশোধন, বিয়োজন বা পরিমার্জনের এখতিয়ার রাখে না। এর এখতিয়ার শুধু সংসদের।’ স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ‘আমরা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি। আর রক্তের চাদরেই এ সংবিধান। আইন পরিষদের কাজ আইন প্রণয়ন করা, আর বিচারপতিরা আইনের ব্যাখ্যা দেবেন। সংসদ সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই। অনেক সংসদ সদস্যের ত্যাগ, অবদান, সততা ও জ্ঞানকে অস্বীকার করা সমীচীন হয়নি।’
প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগেই এ দেশ স্বাধীন হয়। কাজেই তাকে নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। সবাইকে মনে রাখতে হবে, প্রধান বিচারপতির আসন একটি প্রতিষ্ঠান। তাই সবার দায়িত্ব এ প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষা করা। সবাইকে মনে রাখতে হবে, জনগণই ক্ষমতার উৎস। সংসদকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘আমরা যখন এ সংশোধনী পাস করি তখন আমি এ সংসদে বলেছিলাম, এজন্য একটা আইন করা হবে। ২০১৫ সালের ৫ মার্চ সেই আইনের খসড়ার ড্রাফট প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠাই। বললাম আপনারাই বলুন, ঠিক না বেঠিক। আমি কোনো উত্তর পাইনি। পরে চিঠি দেয়ার পর বলেন, ‘নো কমেন্ট’। কারণ হাইকোর্টে এ নিয়ে মামলা চলছিল। তখনই বোঝা যায় এটা পূর্বপরিকল্পিত। হাইকোর্ট বাতিল করবে, আমরা আপিল করব, আপিল খারিজ হবে- সেই পরিকল্পনা যেন ব্যাহত না হয় সেজন্যই তারা আইনটি আটকে দেয়। আনিসুল হক বলেন, ষোড়শ সংশোধনীতে অভিশংসন নেই, আছে অপসারণ।’
ষোড়শ সংশোধনীতে বিচারপতি অপসারণের প্রক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত, এ অধিকার আমাদের আছে। সংবিধান হচ্ছে সর্বোচ্চ আইন। এ রায় গ্রহণযোগ্য নয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করার কোনো ইচ্ছা এ সংশোধনীর ছিল না। বরং স্বাধীনতা সমুন্নত রাখাই ছিল ইচ্ছা। আমি স্পষ্ট করে বলছি, এ রায় বিনা চ্যালেঞ্জে ছাড়া হবে না।’
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর একক নেতৃত্বেই এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। প্রধান বিচারপতি বিভক্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এটাকে হাল্কাভাবে নেয়ার অবকাশ নেই। তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনী ’৭২-এর মূল সংবিধানে ফিরে যাওয়ার প্রয়াস। বিচার বিভাগের দায়বদ্ধতা আর বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আলাদা বিষয়। প্রধান বিচারপতির বক্তব্য বিভ্রান্তিকর, তিনি সংসদ ও মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করেছেন। এ রায় যুক্তিনির্ভর নয়, অগ্রহণযোগ্য। প্রধান বিচারপতি কোন জায়গার প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন তা বোধগম্য নয়। প্রধান বিচারপতি যখন বঙ্গবন্ধুর কথা স্বীকার করছেন তখন তাকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই এ পর্যবেক্ষণ প্রত্যাহার করে নিতে হবে।’
কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘এ রায় পুরো মতলববাজির। এ মতলববাজি আমরা পাকিস্তানসহ বিভিন্ন সেনা শাসনামলে দেখেছি। এ প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টের সামনে একটি মূর্তি বসিয়ে একবার ঝামেলা সৃষ্টি করাতে চেয়েছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘সিনহা সাহেব অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে কাদের নিলেন? এই ড. কামাল হোসেনের মেয়ের জামাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতি পদে পদে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। ড. কামালের আশ্রয়ে-প্রশয়ে এ বার্গম্যানরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করে।’ মতিয়া চৌধুরী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশটাই প্রধান বিচারপতির পছন্দ না। এ রায়ের পরে কে খুব খুশি হলেন? ব্যারিস্টার মওদুদ সাহেব। কারণ মওদুদ সাহেব মৃত মানুষের নামে এফিডেভিট করে বাড়ি নিয়েছেন। মওদুদের মতোই এসকে সিনহা উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরে ২০০৩ সালে ৩ কাঠার প্লট বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়। এরপর ১০ নম্বর সেক্টরে স্থানান্তর করে ৫ কাঠা করেন, সেখানে বাড়ি বানান। তিনি সম্পদ বিবরণীতে এ বাড়ির কথা উল্লেখ করেননি। ভাইয়ের নামেও বাড়ি নেন। কাজেই দুর্নীতিবাজ সিনহা আর দুর্নীতিবাজ মওদুদ একসুরে কথা বলবেন- এটাই স্বাভাবিক।’
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘এ রায় এখতিয়ারবহির্ভূত। প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের একখান মিটিং করে ফেললেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকলেই বিচারপতিরা বেশি নিরাপদ থাকবেন।’ তিনি বলেন, ‘এমপি হওয়ার যোগ্য কারা সেটি সংবিধানে বলা আছে। বরং আপনাদেরই (বিচারপতিদের) যাচাই করা দরকার।’
পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘আজকে আমি সত্যিই দুঃখিত যে, সংসদে রায় নিয়ে আমাদের আলোচনা করতে হচ্ছে। আমাদের দায়িত্ব আইন পাস করা, সংশোধন করা। সেই দায়িত্ব পালন করতে পারব কিনা, সেজন্যই আজ এ আলোচনা। আমরা যখন বলি সার্বভৌম, সংবিধানে প্রত্যেকটি অঙ্গকে নির্দিষ্ট ক্ষমতা দেয়া আছে। সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারাই হল সার্বভৌম। মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রীকে হাইকোর্ট আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করেছিলেন। তারা সেদিন আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে বিচারক নিয়োগ দেয় সিনেট, তাদের অপসারণও হয় সিনেটে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সংসদ ও রাষ্ট্রকে অকার্যকর করাই এ রায়ের প্রধান উদ্দেশ্য। সংবিধানের কোনো সংশোধনী যদি মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তাহলে আদালত সেটা দেখতে পারেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার স্বার্থেই সংসদ এ সংশোধনী এনেছিল।’
 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by