•       রোহিঙ্গা শরণার্থী সব ক্যাম্পে টেলিটকের বুথ থাকবে, সেখান থেকে নাম মাত্র মূল্যে তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন: টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম
সংসদ রিপোর্টার    |    
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ | অাপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০১:২৩:৪১ প্রিন্ট
সংসদে প্রধানমন্ত্রী
জিয়া পরিবার ও বিএনপি নেতাদের ১২শ’ কোটি টাকা পাচারের তদন্ত হচ্ছে
সংসদে বুধবার প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -যুগান্তর

জিয়া পরিবার ও বিএনপি নেতাদের ১২টি দেশে ১২শ’ কোটি টাকা পাচার সংক্রান্ত তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্কের (জিআইএন) এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট সরকারের তদন্তাধীন। দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং পাচারকৃত অর্থ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফেরত আনা হবে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ৩০ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ফখরুল ইমাম জিআইএনের রিপোর্টের কিছু অংশ তুলে ধরে বলেন, দুবাই নয়, অন্তত পক্ষে ১২টি দেশে জিয়া পরিবারের সম্পদ আছে। যার প্রাক্কলিত মূল্য ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। সৌদি আরবে আহমদ আল আসাদের নামে আল আরাবা শপিংমল রয়েছে। কিন্তু শপিংমলটির মালিকানা হল খালেদা জিয়ার। কাতারে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ইকরার মালিকও বাংলাদেশি এবং এটার মালিকও উনি। তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমানের নামে এ ভবনের পুরো মালিকানা দেখা যায়। তাছাড়া খালেদা জিয়ার ভাগ্নে তুহিনের নামে কানাডায় তিনটি বাড়ি রয়েছে। এছাড়া সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ সিঙ্গাপুরের হোটেল মেরেনডির ১৩ হাজার শেয়ারের মালিক। বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের নামে লন্ডনে স্টেন্ডফোর্ড ও অলগেটিতে দুটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। আরেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নামেও অ্যাপার্টমেন্ট আছে। বিএনপি আমলের মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর নামে দুবাইয়ে আছে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট। সিঙ্গাপুরে মির্জা আব্বাস ও তার সন্তানদের নামে কিনেছেন দুটি এপার্টমেন্ট। বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খানের নামে সিঙ্গাপুরে রয়েছে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট। এসব তথ্য জিআইএন প্রতিবেদন থেকে তুলে ধরলাম।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তথ্যগুলো যখন বের হয়েছে তখন নিশ্চয় আমাদের কাছে আছে এবং এটা নিয়ে তদন্ত চলছে। আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। এ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, এ কথা তো সবাই জানে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর একদিকে মানুষ হত্যা-খুন করেছে। আন্দোলনের নামে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। একদিকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, অপরদিকে ক্ষমতায় থাকতে দুর্নীতি করা, অর্থ পাচার করাসহ এ ধরনের বহু অভিযোগ তো জনগণ সব সময় করেছে এবং এটা সবাই জানে। এজন্য খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের পাচারকৃত কিছু টাকা আমরা ফেরত এনেছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে পাচার করা টাকা ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে আমাদের সরকারের আমলে।

সরকারপ্রধান বলেন, জনগণের সম্পদ যারা লুটে নিয়েছে, নিশ্চয় তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তদন্ত করে যখনই আমরা সঠিক তথ্য পাব, কোথায়-কীভাবে রয়েছে, নিশ্চয় আমরা ফেরত আনার পদক্ষেপ নেব। এরই মধ্যে আমরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। তদন্ত চলার স্বার্থে হয়তো সব আমি বলতে পারলাম না। তবে সত্যতা প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একটি শান্তিপ্রিয় দেশ গঠনে সরকার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আসছে। এ কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সরকারের দক্ষ পরিচালনায় অর্থনীতির সব সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। সামাজিক সূচকগুলোর অগ্রগতিতে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে।

সংসদ নেতা আরও বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার তার বিগত মেয়াদ থেকে রূপকল্প-২০২১, দিন বদলের সনদ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল আধুনিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সরকার সুখী-সমৃদ্ধ মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গঠনে বদ্ধপরিকর।

আরেক সংসদ সদস্য আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইসিটি ক্ষেত্রে সরকারের গৃহীত প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে এ সেক্টরে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫০০ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল হক খানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জঙ্গি কর্মকাণ্ড একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়। তবে আমাদের মানুষ ধর্মভীরু হলেও ধর্মান্ধ নয়। ফলে এরই মধ্যে জঙ্গি দমনে আমাদের সফলতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছে। জঙ্গি দমনে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, জঙ্গিরা যেমন নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তেমনি তাদের অর্থের জোগানদাতা ও মদদদাতারাও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে।

তিনি জানান, বিদেশ থেকে আসা রেমিটেন্স এবং দেশীয় অর্থ কোনো জঙ্গি তৎপরতায় ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা, এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে। এছাড়া কোনো বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, ক্লিনিক, কোচিং সেন্টার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে জঙ্গি তৎপরতা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কিনা, সীমান্তে অবৈধ অর্থের লেনদেন, আদান-প্রদান, চলাচল ও স্থানান্তর একই সঙ্গে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিস, মোবাইল ব্যাংকিং ও বিকাশের মাধ্যমে অস্বাভাবিক অর্থ আদান-প্রদান হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত আছে।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by