হাসানুজ্জামান সাকী, নিউইয়র্ক থেকে    |    
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ আজ
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জোরালো উদ্যোগের আহ্বান জানাবেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ভোরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘসহ বিশ্বনেতাদের কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানাবেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিয়ে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে তাদের (বিশ্বনেতা) জোরালো সমর্থন চাইবেন। এছাড়া মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা, জুলুম ও নির্যাতনের চিত্র বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের খসড়া তৈরির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য। সূত্র জানায়, অধিবেশনের নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে (নিউইয়র্ক সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা) প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সদর দফতরে ভাষণ দেয়ার কথা।

বরাবরের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণটি হবে বাংলায়। ১৯৭৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেয় বাংলাদেশ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন বিশ্ব দরবারে বাংলায় বক্তৃতা করে নজির স্থাপন করেছিলেন। এরপর থেকে শেখ হাসিনা সেই ধারাটিকে রেওয়াজে পরিণত করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণের তিন মেয়াদে ১২ বার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়ে প্রতিবারই বাংলায় ভাষণ দিয়েছেন। আর এবার নিয়ে টানা নয়বার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘ফোকাসিং অন পিপল : স্ট্রাইভিং ফর পিস অ্যান্ড ডিসেন্ট লাইফ ফর অল অন এ সাসটেইনেবল প্লানেট (Focusing on people : Striving for peace and decent life for all on a sustainable planet)। সূত্র জানায়, মূল প্রতিপাদ্যের মতোই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা, দেশে দেশে সমৃদ্ধি অর্জন ও মানুষের সুন্দর জীবনের আহ্বান থাকবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায়।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের খসড়ায় আরও উল্লেখ আছে, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়, সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বর্তমান সরকারের নীতি। এজন্য প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে কাউকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেয়ার সংকল্পের কথাও পুনর্ব্যক্ত করবেন শেখ হাসিনা।

মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সুচির প্রতি নৃশংসতা বন্ধ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়ে তাদের নাগরিকত্ব প্রদানের আহ্বানও থাকবে ভাষণে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বিশ্বব্যাপী অভিবাসন ও শরণার্থী সমস্যার সমাধানে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মানবিক দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন।

গত বছর ৭১তম সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে সিরিয়ার শরণার্থী সমস্যার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন। সূত্র বলছে, সিরিয়ার নিষ্পাপ শিশু আয়লান কুর্দি ও ৫ বছরের শিশু ওমরানের প্রসঙ্গ যেভাবে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে তুলে ধরেছিলেন, তেমনি এবারও সাগরে ডুবে যাওয়া রোহিঙ্গা শিশু-নারীদের বিপন্ন মানবতার কথাও জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী ভাষণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে চাপের মধ্যে রয়েছে- এ বিষয়টিও রয়েছে ভাষণের খসড়ায়।

সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশের সামষ্টিক এবং আর্থসামাজিক সূচকের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির বর্ণনা থাকবে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে। বাংলাদেশের সীমিত সম্পদের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে দারিদ্র্যের হার দ্রুত হ্রাস করে বাংলাদেশ যে নিন্মমধ্যম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশের পথে অগ্রসর হচ্ছে সরকারের সেই সাফল্যের বিবরণ তুলে ধরবেন শেখ হাসিনা।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন যুগান্তরকে জানান, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যাটি কূটনৈতিকভাবে সমাধানের সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে বাংলাদেশের।

নিউইয়র্ক সময় বুধবার প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জাতিসংঘের কার্যক্রম ও বিশ্বনেতাদের বক্তব্য এবং অবস্থানের ওপর প্রধানমন্ত্রীর ভাষণটি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পরিবর্ধন ও পরিমার্জন চলবে।

আরও জানা গেছে, নিউইয়র্ক সময় শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও প্রবাসের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন। শনিবার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে নিউইয়র্ক ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী। ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি দেশের পথে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে যোগ দিতে ১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত