• বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৭
যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
কূটনীতিকদের বিএনপি
প্রধান বিচারপতিকে জোর করে ছুটিতে পাঠিয়েছে সরকার
বিচার বিভাগের জন্য চরম হুমকি * অন্য বিচারপতিরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন না
প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার আকস্মিক ছুটি বিচার বিভাগের ওপর চরম হুমকি বলে মনে করে বিএনপি। বুধবার বিকালে গুলশানে হোটেল লেকশোরে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছে দলটির এ অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতিকে জোর করে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তিনি এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে। দেশের বাইরে পাঠাতে সরকার এখন নানাভাবে তার ওপর চাপ দিচ্ছে। সরকারের এ আচরণের কারণে অন্য বিচারপতিরাও স্বাধীনভাবে বিচারকার্য করতে পারবেন না- এমন শঙ্কার কথাও কূটনীতিকদের অবহিত করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির আকস্মিক ছুটির প্রেক্ষাপট লিখিত আকারে উপস্থিত কূটনীতিকদের হাতে দেয়া হয়েছে। বৈঠকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়টিও তাদের অবহিত করা হয়।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, চীনসহ ২০টি দেশ ও তিনটি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অন্য দেশগুলো হচ্ছে- ডেনমার্ক, সুইডেন, নরওয়ে, মালদ্বীপ, নেপাল, কানাডা, জার্মানি, জাপান, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলংকা, সৌদি আরব, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও মরক্কো। সংস্থাগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) ও ইউএসএইড।
বিএনপির পক্ষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্ট রিয়াজ রহমান, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা প্রমুখ।
বৈঠকে মওদুদ আহমদ দলের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। ৯ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যের শেষপর্যায়ে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগ ও প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে নিয়ে যা ঘটছে, তা জাতির জন্য বিশাল লজ্জাজনক। সরকারের অবস্থানের কারণে বিচার বিভাগ ধ্বংসের পথে, যা জাতির জন্য অশনিসংকেত। এর ফলে বিচারপতিরা স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারবেন না। একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা পেলে একটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
বিএনপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, প্রধান বিচারপতির আকস্মিক ছুটি স্বাধীন বিচার বিভাগের ওপর একটি চরম হুমকি। সরকারের তরফ থেকে যে ছুটির দরখাস্তের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে পাঁচটি ভুল রয়েছে। এ ধরনের চিঠিতে প্রধান বিচারপতি স্বেচ্ছায় স্বাক্ষর করতে পারেন না। আবার ওই ছুটির আবেদনে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার যে স্বাক্ষর দেখানো হচ্ছে, এর সঙ্গে প্রধান বিচারপতির প্রকৃত স্বাক্ষরের অমিল রয়েছে। আমরা বলতে চাই, ছুটির আবেদনে যে স্বাক্ষরের নমুনা রয়েছে, সেটা এসকে সিনহার নয়। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায় বাতিলের আক্রোশ থেকেই সরকার প্রধান বিচারতিকে অসুস্থ দেখিয়ে ছুটির এ কাজটি করেছে। আমরা মনে করি, এ ছুটিতে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার অনুমতি ছিল না। সরকার জোর করেই তাকে ছুটিতে পাঠিয়েছে। ৩ অক্টোবর থেকে প্রধান বিচারপতির বাড়ি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবরুদ্ধ করে রাখে। তার টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। সরকারের অনুমতি ছাড়া তার সঙ্গে কাউকে সাক্ষাৎ করতে দেয়া হয় না। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কয়েক দফা তার সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেও অনুমতি পাননি। গণমাধ্যম কর্মীদেরও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেয়া হয়নি।
সূত্র জানায়, প্রধান বিচারপতির ছুটির বিষয়টি সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে জানানো হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তার ভিন্নতা দেখা গেছে। এবার প্রধান বিচারপতি অসুস্থ, তিনি ছুটি নিয়েছেন- এ বিষয়টি আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছ থেকে আমরা জানতে পেরেছি। এতে প্রধান বিচারপতির আকস্মিক ছুটিতে বিএনপিসহ দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। তিনি স্বেচ্ছায় ছুটি নিয়েছেন বা তিনি অসুস্থ- এ বিষয়টি দেশের কেউ বিশ্বাস করে না। কিন্তু বাস্তবতা হল, ৫ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যান ও ভিসার জন্য অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনে যান। এসব জায়গায় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে যাদের সাক্ষাৎ হয়েছে তারা সবাই বলেছে, প্রধান বিচারপতিকে দেখে অসুস্থ মনে হয়নি।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত