যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলন
প্রধান বিচারপতির চরিত্রে কালিমা লেপনের অপপ্রয়াস চলছে
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে (এসকে সিনহা) কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আপামর সচেতন দেশবাসীর মতো আড়াই কোটি ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী আজ উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। তার চরিত্রে কলঙ্কের কালিমা লেপনের অপপ্রয়াস চলেছে, চলছে। এমনকি তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করার হুমকি পর্যন্তও দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেছেন। তারা বলেন, প্রধান বিচারপতির দেয়া রায়কে পুঁজি করে সরকারের অভ্যন্তরে থাকা প্রতিক্রিয়াশীল মহল বিশেষ করে তার ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি, উন্নততর পদায়ন ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত করার সর্বনাশা প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের একজন সিনিয়র সচিবের অপতৎপরতার অভিযোগও আনা হয় সংবাদ সম্মেলনে। একই সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বিচারপতির ইস্যুকে মূলধন করে সাম্প্রদায়িক চক্রান্তে কেউ লিপ্ত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আবেদন জানানো হয়। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার দুপুরে ‘প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন’-এ লিখিত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। পরিষদের সভাপতি হিউবার্ট গোমেজের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পরিষদের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, কাজল দেবনাথ, অ্যাডভোকেট সুব্রত দেবনাথ, জয়ন্ত সেন দিপু, জেএম ভৌমিক, মিলন কান্তি দত্ত, পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ বসু, আদিবাসী নেতা সঞ্জীব দ্রং। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিষদ সদস্য সত্য রঞ্জন, দিপংকর ঘোষ, উত্তম চক্রবর্ত্তী, পদ্মাবতী দেবী প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, ৭০ বছরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্ত কেবলমাত্র সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার মেধা, মনন ও যোগ্যতায় সাংবিধানিক অন্যতম প্রধান পদ অলঙ্কৃত করেছেন। সরকারি দল ও সরকারের একাংশের তীব্র বিরোধিতাকে অগ্রাহ্য করে প্রধানমন্ত্রী তাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সুপ্রিমকোর্টের ৭ জন বিচারপতির সর্বসম্মত একটি রায়ের (ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়) পরিপ্রেক্ষিতে শুধু বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে টার্গেট করে সরকারি দল ও জোটের মহলবিশেষ থেকে ব্যক্তিগতভাবে একতরফা আক্রমণাত্মক, বিদ্রƒপাত্মক বক্তব্য উত্থাপন করা হচ্ছে।
রানা দাশগুপ্ত বলেন, যেদিন প্রধান বিচারপতি শপথবাক্য পাঠ করেন সেই দিনই সরকারি দলের অঙ্গসংগঠন পরিচয়দানকারী আওয়ামী ওলামা লীগ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে বলেছে, মুসলমান রাষ্ট্রে হিন্দু প্রধান বিচারপতি মানি না, মানবো না। আমার কাছে সুস্পষ্টরূপে মনে হয়েছে যে, সুপ্রিমকোর্টের সাম্প্রতিক রায়কে নিয়ে প্রধান বিচারপতিকে কটাক্ষ করে যে সব বক্তব্য সরকার ও সরকারি দল, জোটের দায়িত্বশীল কোনো কোনো মন্ত্রী ও নেতাদের মুখ থেকে বেরিয়ে এসেছে তা আওয়ামী ওলামা লীগের বক্তব্যেরই প্রতিফলন। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির জন্ম পরিচয়, ধর্ম, সম্প্রদায়, ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠী, উপজাতি ইত্যাদি পরিচয়ে এমনকি রাজাকারের মিথ্যা অভিধায় বিদ্বেষমূলক সাম্প্রদায়িক উস্কানিও অব্যাবহতভাবে দেয়া হয়েছে, হচ্ছে। তার চরিত্রে কলঙ্কের কালিমা লেপনের অপপ্রয়াস চলেছে, চলছে। এমনকি তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করার হুমকি পযর্ন্তও দেয়া হয়েছে।
রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘আমরা এ দেশের ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আপামর বাঙালি ও আদিবাসী। ’৭১-এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুমহান নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছি, সীমাহীন আত্মত্যাগ করেছি, গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছি, নির্মূল ও নিশ্চিহ্নের মুখোমুখি হয়েছি। দুঃখজনক হলেও সত্যি, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ আবারও যে শুধু ধর্মের ও ধর্মীয় বিভাজনের বেড়াজালে আটকা পড়ে তা নয়, পাকিস্তানি আমলের মতোই এ দেশের ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘুরা একটানা বঞ্চনা, বৈষম্য, নিগৃহ, নিপীড়ন নিঃস্বকরণ প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়।’
সভাপতির বক্তব্যে হিউবার্ট গোমেজ বলেন, ‘আমরা সরকারের লোক, এ সরকারকে সাপোর্ট করি। আমাদের নিরাপত্তাসহ ভালোমন্দ সরকার দেখবে, এটাই স্বাভাবিক। এ সংবাদ সম্মেলনে আমরা শুধু উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা বলেছি।’
ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে বসে থাকারাই সবচেয়ে ভয়ানক। ঘাপটি মেরে বসে থাকা লোকজনই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধুর কাছের মানুষই ছিলেন খুনি মোশতাক। যারা তাকে খুন করেছে তাদের অনেকেই তার কাছে ঘাপটি মেরে থাকত। আমাদের মনে রাখতে হবে যে কোনো সরকারের মধ্যেই আগামী সরকার অবস্থান করে। ঘাপটি মেরে থাকারাই স্বাধীনতাবিরোধী, দেশবিরোধী- তারাই সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে আসছে।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত