যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
শুনানিতে হাইকোর্ট
অ্যাকর্ডের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব কেন বাতিল হবে না
বাংলাদেশে অ্যাকর্ডের কার্যক্রমের মেয়াদ একতরফাভাবে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব এবং প্রক্রিয়াকে কেন বাতিল করা হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ এবং বিচারপতি মো. সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান (চট্টগ্রাম অঞ্চল) মোস্তাফিজুর রহমান ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার অ্যাকর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন। রিটের ওপর শুনানিতে আদালত অ্যাকর্ডের নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েজ ছাড়াও বাণিজ্য সচিব
শুভাশীষ বসু ও শ্রম সচিব মিকাইল শিপার এবং কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের মহাপরিদর্শককে আগামী সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলেছে। আগামী ২৩ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করা হয়েছে।
পরে রিটকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী যুগান্তরকে জানান, গত ১১ অক্টোবর বহুল প্রচারিত দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘অ্যাকর্ডের থাবায় বিপর্যস্ত গার্মেন্ট খাত’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আমলে নিয়েছেন। আদালত বলেছেন, ক্রেতাজোটের একপক্ষ হ্যাঁ বলবে, অন্য পক্ষ না বলবে- এটা তো হতে পারে না। তাদের মধ্যে কাজের সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। একইভাবে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোরও এদের ওপর কোনো তদারকি নেই বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এ বিষয়ে যুগান্তরের প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে মনে হয়েছে অ্যাকর্ড একতরফাভাবে অনেক কিছু করছে, যা অনেকটা স্বেচ্ছাচারিতার পর্যায়ে পড়ে। তদুপরি আরও তিন বছর কার্যক্রম চালানোর প্রস্তাব করেছে, যা বিধিসম্মত নয়। আদালত পরে এই রুলনিশি জারি করেছেন।
মামলার বাদী স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান (চট্টগ্রাম অঞ্চল) মোস্তাফিজুর রহমান এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে জানান, তার গ্রুপের তিনটি কারখানা দুই ক্রেতা জোট অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্সের সঙ্গে ব্যবসা করছিল। এ দুই ক্রেতাজোট কারখানার সংস্কার তদারকির কাজটি করছিল। পরিদর্শন শেষে উত্তর আমেরিকার ক্রেতাজোট অ্যালায়েন্স আমার তিনটি কারখানাকে শতভাগ নিরাপদ ঘোষণা করে এবং সনদও দেয়। কিন্তু অ্যাকর্ড আমার কারখানাগুলোকে শতভাগ নিরাপদ দাবি করলেও অন্যান্য ক্যাটাগরিতে এটা-ওটার ঘাটতির দাবি করে। বিষয়টি নিয়ে বাদানুবাদ চলছিল। কিন্তু আমার তিনটি কারখানার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়টি অ্যাকর্ড তাদের ২০১৬ সালের অডিটে উল্লেখ করে বসে। আমি এর প্রতিবাদ করলেও তারা মানতে রাজি না হওয়ায় অ্যাকর্ডের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের শরণাপন্ন হই। তিনি বলেন, অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্সের কাজের মধ্যে সমন্বয় না থাকা এবং এদের ওপর সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি না থাকায় স্মার্ট গ্রুপের মতো দেশের অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।
মামলায় বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী যুগান্তরকে আরও বলেন, বাদীর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ অক্টোবর এই মামলার শুনানি হয়। তখন আদালত অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্সের কাজের সমন্বয় এবং তাদের কাজের তদারকি বিষয়ে সরকারের কী পদক্ষেপ রয়েছে তা আদালতকে বিস্তারিত জানাতে সরকারি কৌঁসুলির প্রতি নির্দেশ দেন। সেই আলোকে আজকের (বৃহস্পতিবার) শুনানিতে সরকারি কৌঁসুলি আদালতকে বিস্তারিত অবহিত করেন। তবে শুনানি শুরু হওয়ার পরপরই আদালতে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে বক্তব্য দেন। পরে এই এই রুল জারি করেন।
আদালতে বাদীর পক্ষে অন্যান্যের মধ্যে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট উজ্জল হোসেন, গোবিন্দ দাস এবং রুমানা আলম। অ্যাকর্ডের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট কেএস সালাউদ্দিন আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী জিনাত হক।
পোশাক খাতের কর্মপরিবেশ মূল্যায়নে ২০১৩ সালে গঠিত হয় ইউরোপভিত্তিক আন্তর্জাতিক ক্রেতাজোট অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ-অ্যাকর্ড। এর মেয়াদ ধরা হয় ২০১৮ সালের ৩০ মে পর্যন্ত।
তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই অ্যাকর্ড মেয়াদ বাড়াতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। পরে গত ৪ জুন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কমিশন বলে পরিচিত ইইউ পালার্মেন্টে (ইপি) মেয়াদ বৃদ্ধির প্রথম প্রস্তাব দেয়। পরে অ্যাকর্ডের মেয়াদ আরও ৫ বছর বাড়ানোর সুপারিশ করে ইইউ পালার্মেন্ট। এ সুপারিশের ভিত্তিতে গত ২৯ জুন অ্যাকর্ডের সময় বৃদ্ধিতে সম্মতি দেয় ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্লোবাল ইউনিয়ন ও ইউনি গ্লোবাল ইউনিয়ন। তবে তারা পাঁচ বছরের পরিবর্তে তিন বছর করার বিষয়টি অনুমোদন দেয়। পরে অ্যাকর্ডের বাংলাদেশ কার্যালয় থেকে ২৬ জুলাইয়ের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বিজিএমইএ ও বিকেএমইএকে অবহিত করা হয়। এ প্রস্তাবে এখনও সম্মতি দেয়নি বাংলাদেশ। তবে উদ্যোক্তারা অ্যাকর্ডের মেয়াদ বৃদ্ধির বিরোধিতা করলেও বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by