যুগান্তর ডেস্ক    |    
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
রেনেটা লককে মিয়ানমার থেকে প্রত্যাহার
মিয়ানমারে জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা রেনেটা লক-ডেসালিয়েনকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গাবিরোধী অবস্থানের কারণে তার এই পরিণতি। অক্টোবরের পর আর মিয়ানমারে থাকছেন না রেনেটা। তাকে জাতিসংঘ সদর দফতরে প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
বিবিসির সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে উঠে আসে রেনেটা রোহিঙ্গা সংকট ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের কোনো আলোচনা করতে দিতেন না। রাখাইন সফরেও বাধা দিতেন। রোহিঙ্গা সংকট ফের ভয়াবহ হতে পারে বলে একজন বিশেষজ্ঞের একটি প্রতিবেদনও তিনি ধামাচাপা দেন।
জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, বিতর্কিত ভূমিকাই রেনেটাকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ। তবে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে জাতিসংঘ এ দাবি অস্বীকার করে বলছে, রেনেটাকে অন্যত্র স্থানান্তরের সঙ্গে তার কর্মকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই। এদিকে রেনেটার প্রত্যাহারের খবরের মধ্যেই পাঁচ দিনের সফরে শুক্রবার মিয়ানমারে আসছেন জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জেফ্রে ফেল্টম্যান।
বিবিসির সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে উঠে আসে রোহিঙ্গা সংকটে রেনেটার বিতর্কিত ভূমিকার কথা। মিয়ানমারে জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থার সূত্রকে উদ্ধৃত করে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় মানবাধিকার কর্মীদের যেতে দিতেন না তিনি। এমনকি জাতিসংঘের মিয়ানমার কার্যালয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনো কথা বলতেও বারণ করেছিলেন রেনেটা। রোহিঙ্গা অধিকারের বিষয় মিয়ানমার সরকারের কাছে উত্থাপনেও তিনি বাধা দিয়েছেন।
জাতিসংঘের সমালোচনা করে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রোহিঙ্গা সংকট ফের ঘনিয়ে আসছে। সেটা সামাল দিতে জাতিসংঘের কোনো প্রস্তুতি নেই। প্রতিবেদনটি গ্রহণ করার পর সেটি গোপন করেছিলেন রেনেটা।
নিরপেক্ষ বিশ্লেষক রিচার্ড হোর্সে মে মাসে জাতিসংঘে এসব পূর্বাভাস দিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেন। এতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘের কঠোর সমালোচনা করা হয়। এতে বলা হয়, মানবাধিকার নিয়ে ‘মুখ বুঝে থাকা যায় না।’
হোর্সের লেখা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ছয় মাসের মধ্যে রাখাইনে পরিস্থিতির ‘ভয়াবহ অবনতি’ হবে। প্রতিবেদনে জাতিসংঘকে ‘গুরুতর জরুরি পরিকল্পনা’ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, ‘সুপারিশ করা যাচ্ছে যে, জাতিসংঘের সদর দফতরকে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনার দিকগুলোর মধ্যে সার্বিক সমন্বয়ের উন্নতি ঘটানোর উপায় খুঁজে বের করতে হবে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের দমনে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর ও নির্বিচার পদক্ষেপ নেবে। ২৫ আগস্ট কথিত রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর মিয়ানমার সেনারা যেভাবে রাখাইনে তাণ্ডব চালাচ্ছে তাতে হোর্সের এ প্রতিবেদন নির্ভুল বলেই প্রমাণিত হয়েছে।
‘দ্য রোল অব দ্য ইউনাইটেড নেশন্স ইন রাখাইন স্টেট’ (রাখাইন রাজ্যে জাতিসংঘের ভূমিকা) শীর্ষক প্রতিবেদনটি রেনেটা লক-ডেসালিয়েনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে ১৬টি সুপারিশ ছিল। হোর্সে মিয়ানমারে জাতিসংঘের নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ (রেনাটাকে বাদ দেয়া), সরকারের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা এবং ত্রাণ সংস্থাগুলোর মধ্যে এই প্রতিবেদনটি ব্যাপকভাবে বিতরণের সুপারিশ করেন। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, রেনেটা ওই বিশ্লেষণ পছন্দ করেননি এবং এটা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। ফলে তিনি সেগুলো জাতিসংঘ ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর মধ্যে বিতরণ করতে দেননি। সেই প্রতিবেদনটি ধামাচাপা দেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের অনুসন্ধানে উঠে আসা বিতর্কিত ভূমিকার কারণেই রেনেটাকে নিউইয়র্কে সংস্থাটির সদর দফতরে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ইয়াঙ্গুনের কূটনীতিক ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, রেনেটার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছে মূলত মানবাধিকার নিশ্চিত করতে তার ব্যর্থতার কারণে। দুই সপ্তাহ আগেই জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছিলেন, রেনেটার ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে তার। তবে বিবিসির মন্তব্য, এখন সেই পরিস্থিতি নেই।
রেনেটাকে সদর দফতরে প্রত্যাহারের কথা স্বীকার করেছে জাতিসংঘ। অক্টোবরের শেষদিকেই ফিরে যাচ্ছেন তিনি। মিয়ানমারের জাতিসংঘ দফতর থেকে জানানো হয়, রেনেটার চলে যাওয়াটা সংস্থার নিয়মিত কার্যক্রম। নতুন কেউ আসার প্রক্রিয়া হিসেবেই এটি করা হয়েছে। তার জায়গায় কে দায়িত্ব নেবেন সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে এর আগে তার জায়গায় আরেকজনকে নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে মিয়ানমার সরকার। তার মানে হচ্ছে তিনি মিয়ানমার সরকারের প্রিয়ভাজন ছিলেন।
বাংলাদেশেও জাতিসংঘের সমন্বয়কারী ছিলেন কানাডীয় বংশোদ্ভূত রেনেটা। সে সময় তিনি বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারি করে পরোক্ষ সেনাশাসন জারির অন্যতম ক্রীড়নক ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি ভুটান ও চীনেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মিয়ানমার সফরে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি : জাতিসংঘের রাজনৈতিকবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জেফ্রে ফেল্টম্যান পাঁচ দিনের সফরে শুক্রবার মিয়ানমারে আসছেন। তিনি রাখাইনে মানবিক সংকট নিয়ে কথা বলবেন বলে বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘ মহাসচিব রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান ও সহিংসতা বন্ধের জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মানবিক ত্রাণ তৎপরতার অবাধ সুযোগ এবং রোহিঙ্গাদের আদি নিবাসে নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদার সঙ্গে এবং স্থায়ীভাবে ফেরা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। তার আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে ফেল্টম্যান মিয়ানমারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার জরুরি ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে তার সফরের বিস্তারিত সূচি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।




আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত