যুগান্তর রিপোর্ট    |    
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
খালেদা জিয়া দেশে ফিরছেন আজ
বিমানবন্দর থেকে বাসা পর্যন্ত অভ্যর্থনা জানাবে নেতাকর্মীরা * আদালতে হাজিরা দেবেন কাল * ফিরেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন আগামী নির্বাচন ও দল পুনর্গঠন নিয়ে
দীর্ঘ তিন মাসের চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ছয় মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই আজ বুধবার বিকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামবেন তিনি। দেশে ফিরেই মামলা মোকাবেলার বিষয়ে দলের সিনিয়র নেতা ও আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। তবে আগামীকাল সকালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইবেন খালেদা জিয়া।
লন্ডনের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইটে সফরসঙ্গীদের নিয়ে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। এ সময় ছেলে তারেক রহমান, তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানসহ যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীরা বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান। আজ বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে তার। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খালেদা জিয়া সরাসরি গুলশানের বাসার উদ্দেশে রওনা হবেন।
এদিকে চেয়ারপারসনের দেশে ফেরার খবরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উদ্দীপনা ও চাঙ্গাভাব। খালেদা জিয়ার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর এলাকায় ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসা পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে তাকে স্বাগত জানানো হবে। জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম- মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, চিকিৎসা শেষে জনগণের নেত্রী সুস্থ অবস্থায় আজ বিকালে দেশে ফিরছেন। নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই। সুস্থ হয়ে দেশে ফেরায় নেতাকর্মীরা নেত্রীকে একনজর দেখতে বিমানবন্দরে উপস্থিত হবেন।
সূত্র জানায়, দেশে ফিরেই বেশ কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন খালেদা জিয়া। আগামী নির্বাচন, দল পুনর্গঠন ও রাজপথের কর্মসূচি- এ তিন ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়েই কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন তিনি। দেশে ফেরার পর পরই নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। নেতাকর্মীদের চাঙ্গা ও আগামী নির্বাচনের সহায়ক সরকারের দাবির প্রতি জনসমর্থন আদায়ে বিভিন্ন জেলা ও মহানগর সফরে বের হতে পারেন খালেদা জিয়া। রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে কক্সবাজারেও যাবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাজাহান যুগান্তরকে বলেন, তার সফর নিয়ে সরকার এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নানা উদ্ভট মন্তব্য মিথ্যা প্রমাণিত করে চেয়ারপারসন দেশে ফিরে আসছেন। তিনি জনগণের নেত্রী হিসেবে জনগণের কাছে ফিরে যাবেন। এসে ঘরে বসে থাকবেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দেশে ফেরায় পরিস্থিতি মোকাবেলার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। বিমানবন্দরে চেয়ারপারসনকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হলে পরবর্তী করণীয় কি হবে তাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। ইতিমধ্যে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে একযোগে সারা দেশের নেতাকর্মীদের রাজপথে নেমে আসার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর আশপাশের জেলার নেতাকর্মীদের বিমানবন্দর এলাকায় জমায়েত হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, দলের নীতিনির্ধারকদের বেশিরভাগই মনে করেন গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও সরকার এ মুহূর্তে তাকে গ্রেফতারের ঝুঁকি নেবে না। তবে কেউ কেউ মনে করেন, সরকার নানা ইস্যুতে বেকায়দায় আছে। তাই খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলা করতে চাইবে না। মানসিকভাবে চেয়ারপারসনসহ নেতাকর্মীদের চাপে রাখতেই সরকার তার বিরুদ্ধে একের পর এক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। তারপরও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া যুগান্তরকে বলেন, চেয়ারপারসন দেশে ফেরার পর বৃহস্পতিবার সকালে পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসায় অবস্থিত বিশেষ আদালতে হাজিরা দেবেন। সেখানে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করবেন। তিনি বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই চেয়ারপারসন আদালতে যাচ্ছেন। আদালত তার চিকিৎসার বিষয়টি বিবেচনা করে তাকে জামিন দেবেন বলে আমরা আশাবাদী।
কুমিল্লায় গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রসঙ্গে সানাউল্লাহ বলেন, তিনি সেখানে কবে যাবেন তা আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে দলের একটি সূত্র জানায়, সবকিছু ঠিক থাকলে ২২ অক্টোবর কুমিল্লার আদালতে জামিনের জন্য যেতে পারেন খালেদা জিয়া।
সূত্র জানায়, দেশে ফেরার আগে ১৫ অক্টোবর ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির তিন নেতার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারনসন। তারা এক সঙ্গে রাতের খাবার খান। বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত জানা না গেলেও দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা জানান, আগামী নির্বাচনসহ সার্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে বিজেপির সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কোন্নয়নের উপায় নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।
প্রসঙ্গত, ১৫ জুলাই চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান খালেদা জিয়া। পরদিন বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে হিথ্র বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। সফরঙ্গী হিসেবে একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, তাবিথ আউয়াল তার সঙ্গে লন্ডন যান। পরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ কয়েক নেতা সেখানে যান। তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেন মা ও ছেলে। লন্ডন পৌঁছার পর থেকে তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী। তিন মাস লন্ডন থাকাবস্থায় একদিন তাকে জনসম্মুখে দেখা যায়। ওই দিন একটি দোকানে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানকে নিয়ে বই কিনতে যান খালেদা জিয়া। লন্ডনের মরফিল্ড হাসপাতালে চোখের চিকিৎসা ছাড়াও কয়েক দফা পায়ের চিকিৎসা করান তিনি।
খালেদা জিয়ার ৩৫ মামলায় ৬ গ্রেফতারি পরোয়ানা : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন ও তদন্তাধীন ৩৫টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ৬টিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় ১২ অক্টোবর পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত। একই দিন যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেয়ার মানহানির একটি মামলায় সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকা মহানগর হাকিম মো. নুর নবী। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুই বছর আগে বাসে পেট্রুলবোমা মেরে আটজনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় ১০ অক্টোবর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন কুমিল্লার জেলা জজ আদালত। এ মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছে। এছাড়া ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালন করার মামলায় ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম মো. মাজহারুল ইসলাম এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় করা একটি মামলায় ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট নড়াইলের একটি আদালত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত