চট্টগ্রাম ব্যুরো    |    
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
আকস্মিক ধর্মঘট
চট্টগ্রাম বন্দরে আড়াই ঘণ্টা বন্ধ কনটেইনার স্ক্যানিং
বিপাকে পড়েন আমদানিকারকরা * কাস্টমসে আত্তীকরণসহ ৩ দফা দাবি
চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার স্ক্যানার মেশিন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আকস্মিক ধর্মঘটে বুধবার প্রায় আড়াই ঘণ্টা বন্ধ ছিল স্ক্যানিং। এতে অন্তত ২০০ কনটেইনার আটকে যায়। বন্দরের ৪ ও ৫নং গেট এবং সিসিটি-২-এ বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কোনো ধরনের কনটেইনার স্ক্যানিং হয়নি। তাই কনটেইনার খালাস নিতে না পেরে সমস্যায় পড়েন আমদানিকারক ও স্টেকহোল্ডাররা।
স্ক্যানার মেশিন পরিচালনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাস্টমসে আত্তীকরণসহ তিন দফা দাবিতে সংশ্লিষ্টরা এ ধর্মঘট পালন করেন। এ সংক্রান্ত একটি দাবিনামা তারা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। জট সৃষ্টি হওয়ায় কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিলে বিকাল সাড়ে ৫টায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করে আবার স্ক্যানিং মেশিন পরিচালনা শুরু করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং বৈশ্বিক নীতিমালার বাধ্যবাধকতার কারণে চিটাগাং পোর্ট ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন (সিপিটিএফ) প্রকল্পের আওতায় ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি মোবাইল কনটেইনার স্ক্যানার, তিনটি রিলোকেটেড কনটেইনার স্ক্যানার ও ১০টি রেডিয়েশন ডিটেকশন ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। এর মধ্যে চারটি স্ক্যানার পরিচালনার জন্য সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সোসাইটি জেনারেল ডি সার্ভিলেন্সের (এসজিএস) সঙ্গে চুক্তি হয়। অন্যদিকে রেডিয়েশন ডিটেকশন যন্ত্রপাতি অপারেশন করে কাস্টমসের ‘মেগাপোর্ট ইনিশিয়েটিভ’।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশে এ ধরনের যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল না থাকায় আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে অপারেটর নিয়োগ করা হয়। প্রাথমিকভাবে ৬ বছরের জন্য চারটি স্ক্যানার পরিচালনা করতে এসজিএসকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০১৫ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও বিদ্যমান স্ক্যানার সচল ও কার্যকর থাকায় আরও দুই বছরের জন্য চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্ধিত মেয়াদও শেষ হয়ে যাওয়ায় চলতি বছরের ১৭ আগস্ট ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় মোবাইল স্ক্যানার পরিচালনার মেয়াদ ১৭ অক্টোবর এবং অপর তিনটি রিলোকেটেড কনটেইনার স্ক্যানারের আগামী বছরের ২২ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।
সূত্র জানায়, মোবাইল কনটেইনার স্ক্যানার পরিচালনার জন্য দ্বিতীয় দফায় যে মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়, এ সময়সীমাও শেষ হয়ে যায় মঙ্গলবার। এ কারণে এই স্ক্যানার পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ছাঁটাই করে এসজিএস। একইভাবে অপর তিনটি রিলোকেটেড কনটেইনার স্ক্যানার পরিচালনায় নিয়োজিতরাও মেয়াদ শেষে ছাঁটাই হবে বলে ধরে নেন। মূলত এ আশঙ্কা থেকেই মোবাইল কনটেইনার স্ক্যানার ও রিলোকেটেড কনটেইনার স্ক্যানার অপারেশন এবং মেনটেইনেন্স কার্যক্রমে নিয়োজিত ৬১ কর্মকর্তা-কর্মচারী একযোগে মঙ্গলবার বিকাল ৩টা থেকে কাজ বন্ধ করে ধর্মঘটে নামেন।
ধর্মঘটে যাওয়া স্ক্যানার কর্মচারী মোহাম্মদ সোহেল যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা এসজিএস জেনেভা ও কাস্টম হাউস’র মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী স্ক্যানিং প্রকল্পের আওতায় অপারেশন ও মেনটেইনেন্স স্টাফ হিসেবে কাজ করছি। ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়েছি। দক্ষ হিসেবে গড়ে উঠেছি। কিন্তু এসজিএসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমাদের চাকরি এখন হুমকির সম্মুখীন।’
সূত্র জানায়, একেকটি স্ক্যানার মেশিনের বর্তমান বাজার মূল্য ২৫ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকা। এসব মেশিন প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ কনটেইনার স্ক্যানিং করে। মিথ্যা ঘোষণার কোনো পণ্য বা নিষিদ্ধ কিছু যাতে বন্দর অতিক্রম করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই স্ক্যানার মেশিনগুলো স্থাপন করা হয়। তাছাড়া স্ক্যানিং ব্যতীত কনটেইনার বের হলে নিরাপত্তা ঝুঁকিও থাকে। সূত্র আরও জানায়, বিদ্যমান স্ক্যানার মেশিনের একটির চুক্তির মেয়াদ শেষ এবং অপর তিনটির মেয়াদ শেষের পথে হলেও মেশিনগুলো এখনও কার্যক্ষম রয়েছে। কিন্তু একটি মহল চাইছে নতুন করে স্ক্যানার মেশিন কিনে পরিচালনার দায়িত্ব নিতে। কারণ এতে ওই মহলটির ‘কমিশন বাণিজ্য’ হবে।
এ বিষয়ে জানতে কাস্টমস কমিশনার এএফএম আবদুল্লাহ খানের সঙ্গে সেল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত