যুগান্তর ডেস্ক    |    
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
ইস্তাম্বুলে ডি-৮ সম্মেলন
রোহিঙ্গা সংকটে ঢাকাকে রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তার ঘোষণা
রোহিঙ্গা বোঝা বহনে সবাই শরিক হোন - এরদোগান * দায় শুধু বাংলাদেশের একার নয় -অ্যামনেস্টি * মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ২১ মার্কিন সিনেটরের চিঠি
মুসলিম বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোট ডি-৮ এর সদস্যরা রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে বাংলাদেশকে ‘রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তার’ আশ্বাস দিয়েছেন। শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানের সভাপতিত্বে ডি-৮ নবম সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো এ আশ্বাস দেয়।
ডি-৮ সদস্যরা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসার ঘটনাকে জাতিগত নিধন হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং জোরপূর্বক মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করে মর্যাদাপূর্ণভাবে প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রেসিডেন্ট এরদোগান করেন। প্রেসিডেন্ট এরদোগান জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য হৃদয় ও সীমান্ত খুলে দেয়া এবং সমস্যা সমাধানে নেতৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন ও প্রচেষ্টা চালানোর জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন। তিনি অন্তত তিনবার রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আবেগপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন। প্রতিবারই বাংলাদেশের প্রশংসনীয় ভূমিকা এবং তাদের আশ্রয় প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেন।
মিয়ানমারের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রেসিডেন্ট এরদোগান রোহিঙ্গাদের জন্য এবং তাদের আশ্রয়দানকারী বাংলাদেশকে সর্বোত্তম সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বাংলাদেশের এ বিশাল ভার বহনে সবাইকে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান এবং রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ী হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রসহ আবাসন নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আহমেদ জাহিদ হামিদি সম্প্রতি তার বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করেন এবং এ সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সমর্থন আরও জোরদারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদের মধ্যে ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। ডি-৮ সদস্যরা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাসস জানায়, ডি-৮ সম্মেলনে ছয় সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বর্তমান রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের ক্ষেত্রে সক্রিয় সমর্থনের জন্য ডি-৮ সদস্যদের প্রশংসা করেন।
শাহরিয়ার আলম বাস্তুচ্যুত অধিকারবঞ্চিত রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে বাংলাদেশের উদারনীতি সম্পর্কে ডি-৮ সদস্যদের অবহিত করেন এবং রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের গত অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থাপিত পাঁচ দফা ফর্মুলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ডি-৮ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে সমস্যার আশু সমাধানের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সদস্য দেশগুলোর অব্যাহত সমর্থন চেয়েছেন।
ডি-৮ নবম সম্মেলনের থিম ছিল ‘এক্সপান্ডিং অপরচুনিটিস থ্রো কো-অপারেশন।’ ১০০ কোটি মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত ডি-৮ ভুক্ত আটটি দেশের উন্নয়নের ধীরগতির কথা তুলে ধরে শাহরিয়ার আলম ডি-৮ দেশগুলোর অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বাস্তব ফলাফল নিয়ে আসতে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ ও প্রকল্প গ্রহণের নতুন যুগে প্রবেশের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ডি-৮ প্রিফারেনশিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ) পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
সম্মেলনে ডি-৮ ইস্তাম্বুল ঘোষণা ২০১৭ এবং ডি-৮ ইস্তাম্বুল প্লান অব অ্যাকশন-২০১৭ গৃহীত হয়। এতে তুরস্ক, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান ও গিনির প্রেসিডেন্ট, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট, মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী, ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বেশিরভাগ সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের অটোমান প্রাসাদে মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মেলন শেষ হয়।
নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ২১ মার্কিন সিনেটরের চিঠি : মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সামরিক সহায়তা স্থগিতের জন্য চিঠি দিয়েছেন ২১ মার্কিন সিনেটর। পিটিআই জানায়, জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালির কাছে লেখা ওই চিঠিতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট উভয় দলের সিনেটররাই স্বাক্ষর করেছেন। তারা সিনেট ফরেন রিলেশন কমিটির সদস্য। চিঠিতে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন বন্ধে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করে রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ সমাধানের তাগিদ দেন তারা। চিঠিতে হুশিয়ার করে দেয়া হয় যে রোহিঙ্গাদের ওপর যারা বর্বরতা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। চিঠিতে হ্যালির প্রতি আহ্বান জানানো হয়, মিয়ানমারে সব ধরনের সামরিক অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ এবং যেসব জেনারেল মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যেন কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
চিঠিতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রকে রাখাইনে মানবাধিকার লঙঘনের তদন্তেরও আহ্বান জানান সিনেটররা।
রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব শুধু বাংলাদেশের একার নয় -অ্যামনেস্টি : যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আবারও রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের ভূমিকার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছে। সংকটের দায় শুধু ‘দরিদ্র’ বাংলাদেশের ওপর না চাপিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে যথাযথ আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। শুক্রবার অ্যামনেস্টির এক বিবৃতিতে একথা বলা হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি সাউথ এশিয়ার পরিচালক ওমর ওয়ারাচ বলেন, দরিদ্র দেশ হয়েও বাংলাদেশ অসাধারণ উদারতা দেখিয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলার দায়িত্ব তাদের একার ওপর চাপানো যাবে না।



আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত