যুগান্তর ডেস্ক    |    
প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০ প্রিন্ট
রোহিঙ্গাদের জীর্ণশীর্ণ ছবি দেখে হৃদয় ভেঙে গেছে : তেরেসা
রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিশ্ব উদ্বিগ্ন : ট্রুডো * পাশাপাশি বসেও গুতেরেসের দিকে তাকালেন না সু চি * বড্ড দেরি হয়ে যাচ্ছে : দুই কংগ্রেসম্যানের নিবন্ধ
উখিয়ার থানখালী উদ্বাস্তু শিবিরে খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে বাঁশের বেড়ার ভেতর দিয়ে বোনকে ঠেলে দিচ্ছে এক রোহিঙ্গা বালক। মঙ্গলবারের ছবি -এএফপি

রোহিঙ্গাদের জীর্ণশীর্ণ ছবি দেখে হৃদয় ভেঙে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রু–ডো বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিশ্বব্যাপী গভীর উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দুই কংগ্রেসম্যান বলেছেন, মিয়ানমার জাতিগত নিধন বন্ধের এখনই সময়। এদিকে ম্যানিলায় আসিয়ান সম্মেলনে অং সান সু চির সামনেই রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কথা বলেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। এ সময় সু চি অন্যদিকে তাকিয়ে ছিলেন। খবর রয়টার্স, এপি ও স্কাই নিউজের।

রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ভয়াবহ ছবি দেখে হৃদয় ভেঙে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। সোমবার লন্ডনের গিল্ডহলে লর্ড মেয়রের ভোজে তেরেসা এসব কথা বলেন বলে জানায় স্কাই নিউজ। এখানে বিদেশনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন তেরেসা।

তেরেসা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধে ব্রিটেন অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের টিভি স্ক্রিনে রোহিঙ্গাদের দুর্দশার চেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখানো হয়েছে তা হৃদয়বিদারক। দেখা গেছে জীর্ণশীর্ণ রোহিঙ্গা শিশুরা সাহায্যের জন্য আবেদন জানাচ্ছে। এটাকে জাতিগত নিধন বলেই মনে হচ্ছে। এজন্য বার্মিজ কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে সেনাবাহিনীর পূর্ণ দায় নিতে হবে।’

তেরেসা বলেন, ‘এই সংকটে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে যুক্তরাজ্য। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এক করতে অগ্রণী ভূমিকা অব্যাহত রাখব। রোহিঙ্গাদের ওপর ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে জাতিসংঘ ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে ব্রিটেন।’

রোহিঙ্গাদের জন্য ব্রিটেন রেড ক্রসের মাধ্যম বোয়িং-৭৪৭ বিমানভর্তি ত্রাণ পাঠিয়েছে এবং দেশটির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন্ন কমিটি এ সংকট নিয়ে বৈঠক করেছে।

বিশ্ব উদ্বিগ্ন- ট্রুডো : কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিশ্বব্যাপী গভীর উদ্বেগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ভিয়েতনামে এপেক সম্মেলনের ফাঁকে সু চির সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রু–ডো। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যের মুসলিম শণার্থীদের দুর্দশা নিয়ে মিয়ানমারের স্টে কাউন্সেলর অং সান সু চির সঙ্গে আমার বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এটা কানাডা এবং বিশ্বের অনেক অনেক দেশের জন্য গভীর উদ্বেগের।’

গুতেরেসের দিকে তাকালেন না সু চি : জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা এবং উগ্রপন্থার তৈরি হতে পারে। সোমবার রাতে ম্যানিলায় আসিয়ান নেতাদের উদ্দেশে ভাষণে তিনি মন্তব্য করেন।

গুতেরেস বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে নাটকীয়ভাবে হাজার হাজার রোহিঙ্গার বাংলাদেশে প্রবেশের ঘটনায় আমি আমার উদ্বেগ চাপা রাখাতে পারছি না।’ সু চি এ সময় গুতেরেসের পাশেই বসা ছিলেন। কিন্তু তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের দিকে না তাকিয়ে বেশির ভাগ সময়ই ওয়াল স্ক্রিনে দেখানো গুতেরেসের ছবির দিকে তাকিয়ে ছিলেন।

ভাষণে গুতেরেস রোহিঙ্গা সংকটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর জন্য ত্রাণ সহায়তা দেয়ায় আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান।

এবারের আসিয়ান সম্মেলনে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সংকট রোহিঙ্গা নিপীড়ন আলোচ্য সূচিতে নেই। আসিয়ানের ঘোষণায়ও ইস্যুটি কার্যত অনুপস্থিত। শুধু রাখাইনের ‘ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ্রায়কে’ সহায়তার জন্য আসিয়ানের তৎপরতার প্রশংসা করা হয়েছে। আসিয়ান সম্মেলনের ফাঁকে মঙ্গলবার সু চির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন গুতেরেস ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন।

বড্ড দেরি হয়ে যাচ্ছে : মিয়ানমারে নিপীড়ন বন্ধে আমেরিকাসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দু’জন শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কংগ্রেসম্যান। মঙ্গলবার ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানে এক নিবন্ধে তারা বলেছেন, ‘বড় দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই বর্বরতার দিকে মনোযোগ দেয়া।’

রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাভট ও ডেমোক্রেটিক কংগ্রেসম্যান জোসেফ কাউলির লেখা নিবন্ধে বলা হয়, মিয়ানমারে ১৩০টি নৃগোষ্ঠীর বাস। তারা দেশটির ১৪টি অঞ্চলে বাস করছে। এদের মধ্যে উত্তেজনাও রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা রয়েছে রাখাইনে। এ অঞ্চলে বাস করেন রাখাইন ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। তাদের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। রাখাইনরা চায় রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে তাড়িয়ে দিতে। ষাটের দশক থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্মম পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের সব অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে রোহিঙ্গাদের দুর্দশার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে দুর্দশাগ্রস্ত জাতি হচ্ছে রোহিঙ্গারা।

নিবন্ধে বলা হয়, রাখাইনে যা ঘটছে তা সুস্পষ্টভাবে জাতিগত নিধন। উদ্দেশ্য মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়ন। ইতিহাসে গণহত্যার জন্য যে ধরনের প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে সেটাই এখন ঘটছে রাখাইনে। নিবন্ধে বলা হয়, মিয়ানমারের বেসামরিক সরকার সেনাবাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে না, উল্টো সেনাবাহিনী সরকারের বিমাল ক্ষমতা দখল করে আছে।

নিবন্ধে বলা হয়, রাখাইনে দমনপীড়নের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। মিয়ানমারে জাতিগত নিধন বন্ধে অর্থবহ পদক্ষেপ নেয়ার সময় এখনই।


 


আরো পড়ুন
  • শীর্ষ খবর
  • সর্বশেষ খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Design and Developed by

© ২০০০-২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত