Nagad-Fifa-WorldCup
রিচার্লিসনের বাবা ছিলেন রাজমিস্ত্রি, মা আইসক্রিম বিক্রেতা
jugantor
রিচার্লিসনের বাবা ছিলেন রাজমিস্ত্রি, মা আইসক্রিম বিক্রেতা

  স্পোর্টস ডেস্ক  

২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৭:৩৭:৩০  |  অনলাইন সংস্করণ

বাইসাইকেল কিকে গোল করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়া ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড রিচার্লিসনের শৈশব কেটেছে খুবই কষ্টে। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করেছেন তিনি। ফুটবলার হবেন এমন স্বপ্ন সামনে এলে চোখে মুখে অন্ধকার দেখতেন।

সার্বিয়া সঙ্গে ম্যাচে ব্রাজিলের দুই গোলের নায়ক রিচার্লিসনের বয়স মাত্র ২৫ বছর। ৯ নম্বর জার্সি গায়ে ব্রাজিলের হয়ে এর আগেও অনেক ফুল ফুটিয়েছেন তিনি। এ মৌসুমে সাত ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ৯।

ব্রাজিলের এই তরুণ তুর্কি সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাননি। তার ছেলেবেলা ছিল দারিদ্র্যে দীর্ণ। গরিব পরিবারে চরম অর্থকষ্টের মধ্যে বেড়ে উঠেছেন তিনি। রিচার্লিসনের জন্ম ১৯৯৭ সালে ব্রাজিলের নোভা ভেনেসিয়া শহরে।

বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রি। মা আইসক্রিম বিক্রি করে সংসারের খরচ চালাতেন। কখনো কখনো আইসক্রিম নিয়ে বেরিয়ে পড়তে হতো বাড়ির বড় ছেলে রিচার্লিসনকেও। রিচার্লিসনরা পাঁচ ভাইবোন। বড় হিসাবে তার ওপর দায়িত্ব ছিল বেশি। সংসারে নিত্য অভাব, কোনো কোনোদিন আধপেটা খেয়েও শুয়ে পড়েছেন রিচার্লিসন। চোখে শুধু একটাই স্বপ্ন-ফুটবল।

এক সাক্ষাৎকারে রিচার্লিসন জানিয়েছিলেন, সাত বছর বয়সে তার বাবা তাকে প্রথম এনে দিয়েছিলেন ফুটবল। বাবার দেওয়া সেই উপহার পাথেয় করেই বড় হয়েছেন তিনি। ছোটবেলায়ই ফুটবল খেলতেন চুটিয়ে। খেলতে খেলতে ভুলে যেতেন যাবতীয় অভাব-অনটনের কথা।

সাক্ষাৎকারে রিচার্লিসন বলেছেন, ‘আমার বন্ধুরা প্রায় সবাই নিষিদ্ধ মাদক বিক্রি করত। তাতে কম সময়ে অনেক টাকা রোজগার করা যেত। কিন্তু সেটা যে ঠিক নয়, আমি বুঝতে পেরেছিলাম। ওরা মাদক বিক্রি করত। আর আমি বিক্রি করতাম আইসক্রিম, চকলেট। গাড়িও পরিষ্কার করেছি। আমি সৎপথে রোজগার করে মাকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম।’

রিচার্লিসনের বাবা তাকে ফুটবলার হিসাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। শত অভাবের মাঝেও ফুটবলকে তিনি হারিয়ে যেতে দেননি। রাস্তায় খেলতে খেলতে একসময় রিচার্লিসনের পায়ের জাদু চোখে পড়ে স্থানীয় এক শিল্পপতির। সেখান থেকেই ইতিহাসের শুরু। সেই শিল্পপতি কিশোর রিচার্লিসনকে নতুন এক জোড়া বুট কিনে দিয়েছিলেন।

নিয়ে গিয়েছিলেন ‘আমেরিকা মিনেইরো’ নামের একটি দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাবে। সেখান থেকেই রিচার্লিসনের উত্থান। পরে ডাক পান ইংল্যান্ডের ওয়াটফোর্ড ক্লাবে। আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ওয়াটফোর্ড থেকে এভারটন ক্লাবে যান রিচার্লিসন। এ বছর তাকে ছয় কোটি পাউন্ড খরচে কিনে নিয়েছে টটেনহাম।

Nagad-Fifa-WorldCup

রিচার্লিসনের বাবা ছিলেন রাজমিস্ত্রি, মা আইসক্রিম বিক্রেতা

 স্পোর্টস ডেস্ক 
২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৫:৩৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বাইসাইকেল কিকে গোল করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়া ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড রিচার্লিসনের শৈশব কেটেছে খুবই কষ্টে। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করেছেন তিনি। ফুটবলার হবেন এমন স্বপ্ন সামনে এলে চোখে মুখে অন্ধকার দেখতেন।

সার্বিয়া সঙ্গে ম্যাচে ব্রাজিলের দুই গোলের নায়ক রিচার্লিসনের বয়স মাত্র ২৫ বছর। ৯ নম্বর জার্সি গায়ে ব্রাজিলের হয়ে এর আগেও অনেক ফুল ফুটিয়েছেন তিনি। এ মৌসুমে সাত ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ৯। 

ব্রাজিলের এই তরুণ তুর্কি সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাননি। তার ছেলেবেলা ছিল দারিদ্র্যে দীর্ণ। গরিব পরিবারে চরম অর্থকষ্টের মধ্যে বেড়ে উঠেছেন তিনি। রিচার্লিসনের জন্ম ১৯৯৭ সালে ব্রাজিলের নোভা ভেনেসিয়া শহরে। 

বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রি। মা আইসক্রিম বিক্রি করে সংসারের খরচ চালাতেন। কখনো কখনো আইসক্রিম নিয়ে বেরিয়ে পড়তে হতো বাড়ির বড় ছেলে রিচার্লিসনকেও। রিচার্লিসনরা পাঁচ ভাইবোন। বড় হিসাবে তার ওপর দায়িত্ব ছিল বেশি। সংসারে নিত্য অভাব, কোনো কোনোদিন আধপেটা খেয়েও শুয়ে পড়েছেন রিচার্লিসন। চোখে শুধু একটাই স্বপ্ন-ফুটবল।

এক সাক্ষাৎকারে রিচার্লিসন জানিয়েছিলেন, সাত বছর বয়সে তার বাবা তাকে প্রথম এনে দিয়েছিলেন ফুটবল। বাবার দেওয়া সেই উপহার পাথেয় করেই বড় হয়েছেন তিনি। ছোটবেলায়ই ফুটবল খেলতেন চুটিয়ে। খেলতে খেলতে ভুলে যেতেন যাবতীয় অভাব-অনটনের কথা। 

সাক্ষাৎকারে রিচার্লিসন বলেছেন, ‘আমার বন্ধুরা প্রায় সবাই নিষিদ্ধ মাদক বিক্রি করত। তাতে কম সময়ে অনেক টাকা রোজগার করা যেত। কিন্তু সেটা যে ঠিক নয়, আমি বুঝতে পেরেছিলাম। ওরা মাদক বিক্রি করত। আর আমি বিক্রি করতাম আইসক্রিম, চকলেট। গাড়িও পরিষ্কার করেছি। আমি সৎপথে রোজগার করে মাকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম।’

রিচার্লিসনের বাবা তাকে ফুটবলার হিসাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। শত অভাবের মাঝেও ফুটবলকে তিনি হারিয়ে যেতে দেননি। রাস্তায় খেলতে খেলতে একসময় রিচার্লিসনের পায়ের জাদু চোখে পড়ে স্থানীয় এক শিল্পপতির। সেখান থেকেই ইতিহাসের শুরু। সেই শিল্পপতি কিশোর রিচার্লিসনকে নতুন এক জোড়া বুট কিনে দিয়েছিলেন। 

নিয়ে গিয়েছিলেন ‘আমেরিকা মিনেইরো’ নামের একটি দ্বিতীয় ডিভিশনের ক্লাবে। সেখান থেকেই রিচার্লিসনের উত্থান। পরে ডাক পান ইংল্যান্ডের ওয়াটফোর্ড ক্লাবে। আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ওয়াটফোর্ড থেকে এভারটন ক্লাবে যান রিচার্লিসন। এ বছর তাকে ছয় কোটি পাউন্ড খরচে কিনে নিয়েছে টটেনহাম।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২২

২৮ ডিসেম্বর, ২০২২