জালভোটের অভিযোগ আছে, প্রমাণ নেই

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০১৮, ২১:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

  রেজাউল করিম প্লাবন, পূবাইল (গাজীপুর) থেকে

গাজীপুর নির্বাচন। ছবি-যুগান্তর

বিপুলসংখ্যক ভোটার উপস্থিতির মধ্যে পূবাইল এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। উপস্থিত হওয়া ভোটারের মধ্যে বেশির ভাগ ছিলেন নারী। এ এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রতীকের নির্বাচনী এজেন্ট ছিল তবে দু’একটি কেন্দ্র থেকে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দিয়ে জালভোট দেয়ার অভিযোগ উঠলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা।

পূবাইল আদর্শ কলেজ কেন্দ্রটি ৪১নং ওয়ার্ডের ৭টি কেন্দ্রের মধ্যে সবচেয়ে বড়। সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরুর কিছুক্ষণ পর কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঠেলাগাড়ি প্রতীকের ব্যাজ বহনকারী বিএনপির একজন কর্মী যুগান্তরকে জানান, এখানে ধানের শীষের ব্যাজ অঘোষিতভাবে নিষিদ্ধ। আমি এই ব্যাজ (ঠেলাগাড়ি) পরে ধানের শীষে ভোট দিয়ে এসেছি। অনেকে তাই করছেন। 

তবে দুপুর দেড়টার দিকে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক দেখা গেছে। ভোটার উপস্থিতিও ছিল উল্লেখ করার মতো। ভেতরে অন্যান্য এজেন্টদের সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন এজেন্ট বসে থাকতে দেখা গেছে। তবে সকালের বিষয়ে জানতে চাইলে তাদের কেউ মুখ খোলেনি। কেন্দ্রে জালভোটের অভিযোগ কেন্দ্রের বাইরে থাকা উৎসুক জনতাদেরও। সকালে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা থেকে অনেকেই দৌড়ে পালিয়েছেন বলে যুগান্তরকে জানান। 

বিএনপির এজেন্টদের বের করে দিয়ে জালভোটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পূবাইল আদর্শ কলেজ কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শেখ মো. আতাউল। 

তিনি বলেন, অভিযোগ আছে প্রমাণ নেই। তাছাড়া আমার কাছে লিখিত কেউ জানায়নি। ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক এবং মনোরম পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি। 
এদিকে গোলযোগের অভিযোগে ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে বিন্দান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

৪১নং ওয়ার্ডের এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৩৬৪। দুপুর ২টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ১ হাজার ৭০০ ভোট সম্পন্ন হয়েছে। শেষ সময় পর্যন্ত ৮০ ভাগ ভোট পড়বে বলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এই ওয়ার্ডের ভাদুন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে দুপুর গড়াতেই ভোটার উপস্থিতি বাড়তে থাকে।

একই ওয়ার্ডের সাতপোয়া তালটিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্র নারীদের হওয়ায় এখানে সকালে উপস্থিতি বেশি থাকলেও দুপুরে কমে যায়। 

প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আশরাফুল হাসান বলেন, ভোটের পরিবেশ খুবই ভালো। শান্ত পরিবেশে সবাই ভোট দিচ্ছে। আমরা আশা করি ৭০ থেকে ৮০ ভাগ ভোট সম্পন্ন হবে। 

৪০নং ওয়ার্ডের মাজুখান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ ছিল স্বাভাবিক। কেন্দ্রে দুপাশে পুরুষ ও মহিলা ভোটারদের পৃথকভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট প্রদান করতে দেখা গেছে। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৭০৮।

কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম মির্জা বলেন, সকালে উপস্থিতি কম থাকলেও দুপুর বেড়েছে। এখানে আওয়ামী লীগ-বিএনপি এজেন্টদের মধ্যে প্রচুর মিল। সবাই মিলেমিশে কেন্দ্রে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। আশা করি শেষ পর্যন্ত শান্ত পরিবেশেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে পারব। 

সকাল ৮টা থেকেই ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের সবচেয়ে বড় ভোটকেন্দ্র সিলমন আ. হাকিম মাস্টার উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটার উপস্থিত ছিল ব্যাপক। মহিলা ও পুরুষ দীর্ঘক্ষণ পৃথক লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট প্রদান করেন। 

ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ আউয়াল ভোট দিয়ে বেরিয়ে যুগান্তরকে বলেন, ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে। নিজের পছন্দের ব্যক্তিকেই তিনি ভোট দিয়েছেন বলেও জানান।
 
লাইন দীর্ঘ ও প্রচণ্ড রোদ হওয়া ভোটারদের কষ্টের কথা বললেন এখানকার প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন। 

তিনি বলেন, ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক। রোদের কারণে অনেকে বাইরে অবস্থান করছেন। আশা করি বিকাল ৪টার মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক ভোট কাস্ট হবে। 

একই ওয়ার্ডের আরেকটি কেন্দ্র হানিফ মেমোরিয়াল একাডেমির মহিলা ভোটকেন্দ্রে। এখানে সকালে ভোটের উপস্থিতি কম থাকলেও দুপুর গড়াতেই বাড়তে থাকে।