এ বিজয়ে আমি অভিভূত: মেয়র জাহাঙ্গীর

প্রকাশ : ২৮ জুন ২০১৮, ২০:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

  গাজীপুর প্রতিনিধি

নবনির্বাচিত মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম। ছবি-যুগান্তর

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, আমরা নগরবাসীকে বলেছিলাম একটি সুন্দর পরিকল্পিত নগরী উপহার দেব। নগরবাসী আমাকে বিশ্বাস করেছে, আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করেছে, নৌকাকে বিশ্বাস করেছে, সেই বিশ্বাসের মর্যাদা আমরা রাখতে চাই।  

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নৌকাকে ভালোবেসে যারা আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে, আমি আপনাদের এই ভালোবাসার প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করব। সবাইকে নিয়েই একটি বাসযোগ্য শহর গড়তে চাই।

বৃহস্পতিবার গাজীপুরের ছয়দানা মালেকের বাড়িস্থ তার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। 

জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, আমি সবাইকে নিয়েই কাজ করতে চাই। আমার টিমে যারা আছেন তারা সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে আওয়ামী লীগের জন্য, নৌকার জন্য কাজ করে আমাকে বিজয়ী করেছেন। আমি সবাইকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। আমি নেতাদের নিয়ে মহানগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডেই যাব, সবার সঙ্গে দেখা করব, কথা বলব। এ বিজয় সমগ্র গাজীপুরবাসীর। আমি আমার এ বিজয় নগরবাসীকে উৎসর্গ করলাম। এ বিজয়ে আমি গবির্ত, সম্মানিত ও অভিভূত। 

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে সমস্যার শেষ নেই, আপনি আপনার নির্বাচনী প্রচারণায় বলেছিলেন গাজীপুরকে একটি গ্রীন সিটি, ক্লিন সিটি উপহার দেবেন, জনগণ আপনার কথা ও আপনাকে বিশ্বাস করে, ভালোবেসে বিপুল ভোটে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। এখন আপনি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কোন কাজটি আগে হাতে নেবেন ? এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম যুগান্তরকে বলেন, নগরের জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা রাস্তাগুলো মেরামত ও যানজট দূরীকরণসহ নগরবাসীর প্রধান প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেগুলোর সমাধানে আত্মনিয়োগ করব। এর জন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন। 

তিনি আরও বলেন, জনগণ আমাকে দায়িত্ব দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। আমি মনে করি, কে আওয়ামী লীগ করি, কে বিএনপি করি সেটি বড় কথা নয়, তারা সবাই নগরবাসী। নগরবাসীকে নিরাপদে রাখতে হয়, তাই সবাইকে নিরাপত্তা দিতে হবে, এটাই বড় কথা। আমি নগরবাসীকে নিরাপদে রাখতে চাই। 

তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হয়েও বিজয় মিছিল করিনি। যারা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন আর যারা নির্বাচিত হতে পারেন নাই, সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলব। 

তিনি নগরবাসীর উদ্দেশে বলেন, আমাদের যারা আছি আপনাদের প্রতি আমার একটাই অনুরোধ, আপনারা নিজ নিজ এলাকার শান্তি বজায় রাখবেন, এটা আপনাদের দায়িত্ব। আমি একটি চ্যালেঞ্জের মধ্যে এসেছি, সেই চ্যালেঞ্জটা বাস্তবায়ন করতে হলে সবার সহযোগিতা থাকা দরকার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতায় আমি ওই চ্যালেঞ্জটি বাস্তবায়ন করতে চাই। 

নবনির্বাচিত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম জানান, মহানগরের ছেলেমেয়েদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য তিনি অধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। নগরীর মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তিপ্রদানসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন।

এছাড়া নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ওয়ার্ডভিত্তিক মেডিকেল সেন্টার ও ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করারও উদ্যোগ নেবেন পর্যায়ক্রমে। তার পরিকল্পনায় রয়েছে সিটি কর্পোরেশনের এলাকাভিত্তিক বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও শিল্প জোন গড়ে তোলার। 

তিনি বলেন, পরিকল্পিত ও সুন্দর নগর গড়ার স্বার্থে, মানুষের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে একটি নতুন পরিকল্পনা থাকা ধরকার। ৪০ বছর আগে অন্তত আমাদের এই গাজীপুরের একটি পরিকল্পনা থাকা দরকার ছিল। 

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আপনারা দেখবেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে একটি ভালো রাস্তা পর্যন্ত নেই। নগরের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার জন্য সিটি কর্পোরেশনের চারদিকে তুরাগ ও চিলাই নদীর পাশ দিয়ে টঙ্গী, গাছা, কোনাবাড়ি, বাসন, কাউলতিয়া, জয়দেবপুর ও পূবাইলসহ সব এলাকার সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা ভালো করার জন্য প্রশস্থ রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে। 

তিনি বলেন, আমি শুনেছি সিটি কর্পোরেশনের ফান্ড মাইনাসে রয়েছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে স্থানীয় সরকারের কীভাবে সমন্বয় করা যায় এ বিষয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সহযোগিতা চাইব। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে বলেন জানান তিনি। 

মঙ্গলবার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মো. জাহাঙ্গীর আলম ৪ লাখ ১০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত হাসান উদ্দিন সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১১ ভোট। মোট প্রদত্ত ভোটের হার শতকরা ৫৭.২ ভাগ। 

নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৭৪৯টি। এর মধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৬ লাখ ৩০ হাজার ১১১টি। বাতিল ভোটের সংখ্যা ১৮ হাজার ৬৩৮। এখানে মোট ভোটারের সংখ্যা রয়েছে ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। ভোটের হার শতকরা ৫৭ .০২ ভাগ।