অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে র্যালি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সারা দেশের অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলোর স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির দাবিতে র্যালি করেছেন শিক্ষকরা। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যমুনা অভিমুখী র্যালিটি কদম ফোয়ারার সামনে গেলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। এতে যান চলাচলের কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করার পর পুলিশ শিক্ষকদের ধাওয়া দিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এ সময় ৪ শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে র্যালি শুরু হয়ে কিছুটা এগিয়ে গেলে শিক্ষকদের র্যালিটি পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দিলে শিক্ষকরা সড়কের উপর বসে নানা স্লোগান দেন। এ সময় অনেককে কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়ে র্যালিতে অংশ নিতে দেখা গেছে।
কর্মসূচিতে শিক্ষকরা জানান, ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়সমুহের স্বীকৃতি ও এমপিওর জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে এবং অনলাইনে আবেদন গ্রহন করে। উক্ত প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিত ২৭৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদন করে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই শেষে ১৭৭২টি প্রতিষ্ঠান পরবর্তী নির্দেশনার জন্য প্রস্তুত করেন। বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা ২০১৯ এর আলোকে আন্তঃমন্ত্রণালয়ে স্বীকৃতি ও এমপিও কমিটি গঠন করেন; যা অত্যন্ত ধীরগতি। ইতোপূর্বে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ৫৭টি এবং অনলাইনে আবেদনকৃত ১৭৭২টি বিদ্যালয় তাদের দাবির পক্ষে শিক্ষক কর্মচারীরা বিভিন্ন সময় আন্দোলন করলেও কর্তৃপক্ষ বারবার মৌখিক আশ্বাস দেয়।
তারা বলেন, মানবেতর জীবনযাপনকারী শিক্ষক কর্মচারীরা তাদের নিজেদের অর্থনৈতিক মুক্তি ও প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিদের শিক্ষাদানের মাধ্যমে শতভাগ শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালালেও সরকার তাদের দাবির প্রতি কোনো কর্ণপাত করছে না। অবিলম্বে দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
তাদের পাঁচ দফা দাবি হলো—
১. অনতিবিলম্বে সকল বিশেষ (আটস্টিক ও প্রতিবন্ধী) বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তি সুনিশ্চিত করতে হবে।
২. সকল বিশেষ বিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো সুনিশ্চিত করতে হবে।
৩. বিশেষ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃদ্ধি ৩০০০ টাকা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মিডডে মিলসহ উচ্চ উপকরণ, খেলাধুলা সরঞ্জাম প্রদান ও থেরাপি সেন্টার বাস্তবায়ন করতে হবে।
৪. ছাত্রছাত্রীদের ভোকেশনাল শিক্ষা কারিকুলামের আওতায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পুনর্বাসন সুনিশ্চিত করতে হবে এবং
৫. চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নির্ধারিত কোটা সুনিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় সমন্বয় পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. ইলিয়াস রাজ, মুখ্য সমন্বয়ক মো. গাউসুল আজম শীমু, সমন্বয়ক মোছা. রিমা খাতুন প্রমুখ।
