Logo
Logo
×
   

শিক্ষাঙ্গন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের শিক্ষক রাজনীতির আভাস, উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা

Icon

সাঈদ হাসান, কুবি

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের শিক্ষক রাজনীতির আভাস, উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিলুপ্ত হওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শিক্ষক সমিতি পুনর্গঠনের উদ্যোগকে ঘিরে ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সমিতির কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন শিক্ষকদের উদ্দেশে একটি চিঠি পাঠান। এতে দীর্ঘদিন শিক্ষক সমিতির কার্যক্রম স্থগিত থাকায় শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া ও মৌলিক অধিকার আদায়ে সমস্যা হচ্ছে উল্লেখ করে আগামী ২ মার্চ শিক্ষক লাউঞ্জে এক মতবিনিময় সভার আহ্বান জানানো হয়।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নানা প্রতিক্রিয়া জানান। তাদের অভিযোগ, অতীতে শিক্ষক সমিতির কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আগে কোনো শিক্ষক সমিতি গঠনের উদ্যোগ না নেওয়ার দাবি জানান তারা।

২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আহমেদ ফয়সাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, শিক্ষক সমিতির কারণে অতীতে দীর্ঘ সময় একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন করে সমিতি গঠন না করার দাবি জানান। একই শিক্ষাবর্ষের আরেক শিক্ষার্থী নাঈম ভুঁইয়াও একাডেমিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হলে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

সর্বশেষ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামীপন্থি নীল প্যানেল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। সভাপতি নির্বাচিত হন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের এবং সাধারণ সম্পাদক হন মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান।

নির্বাচনের দিনই নবনির্বাচিত কমিটি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে উপাচার্য দপ্তরে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। এরপর শিক্ষক সমিতি ও প্রশাসনের মধ্যে টানাপোড়ন শুরু হয়। সাত দফা দাবিতে মার্চ মাসে একাধিকবার কর্মবিরতি ও ক্লাশ বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৩ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ দ্বন্দ্ব ২৩ জুন পর্যন্ত গড়ায়। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রায় সাড়ে তিন মাস একাডেমিক কার্যক্রমেও অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে চব্বিশের ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে গেলে শিক্ষক সমিতির কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। পরে কয়েক দিনের মধ্যেই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় বলে জানান সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও সমিতির কার্যক্রম বন্ধ ছিল। 

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা আবারও সমিতি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন বলে জানা গেছে। শিক্ষক সমিতি পুনর্গঠনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

বিএনপিপন্থি শিক্ষক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে কমিটি বিলুপ্ত রয়েছে। বর্তমানে কোনো কমিটি না থাকায় জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে আমি সবার মতামত জানার জন্য সভার আহ্বান করেছি। শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন। প্রয়োজনে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে পরে নির্বাচনের দিকে যাওয়া হবে।

তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাধারণ বা নির্বাহী পরিষদের সভা আহ্বান করার ক্ষমতা সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো কার্যকর কমিটি না থাকায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, জেনারেল মিটিংয়ের মাধ্যমে ৫ আগস্টের পর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। নতুন সমিতি গঠনের জন্য সকল শিক্ষকের মতামতের ভিত্তিতে তলবি সভা ডাকা যেতে পারে। দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষকের স্বাক্ষরের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন বা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে নির্বাচন দেওয়া সম্ভব।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে অতীতে জামায়াত-বিএনপি সমর্থিত সাদা প্যানেল কখনো জয়ী হয়নি। এবার নতুন করে সমিতি গঠন ও সম্ভাব্য নির্বাচনে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম