Logo
Logo
×
   

শিক্ষাঙ্গন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

নারী হলের ওয়াশরুমে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণ, বিচার দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

Icon

খুবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম

নারী হলের ওয়াশরুমে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণ, বিচার দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

ছবি: যুগান্তর

নারী হলের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন শিক্ষার্থীরা। 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে এ সমাবেশের ঘোষণা দেন তারা।

এর আগে বুধবার (২২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বুধবার ‘বিজয় ২৪’ হলের নারী ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে এক ক্যান্টিন কর্মীকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানান তারা।

অভিযুক্ত ইমাম হাসান (২৪) হলের ক্যান্টিন পরিচালকের ছেলে। তিনি দুবছর ধরে ওই ক্যান্টিনে কাজ করছিলেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, হলের নারী ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল পাওয়ার পর তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। পরে জড়িত থাকার অভিযোগে ইমাম হাসানকে আটক করা হয়। ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এমনকি অতীতে শিক্ষকদের মাধ্যমে সংঘটিত যৌন হয়রানির ঘটনারও সুষ্ঠু বিচার মেলেনি বলে জানান তারা। মূলত যৌন হয়রানির ঘটনায় প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন শুরু করেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিজয় ২৪’ হলের প্রভোস্ট ড. সেলিনা খাতুন বলেন, আমাদের হলের ক্যান্টিন পরিচালনাকারী গোপনে ওয়াশরুমের ভেন্টিলেশন দিয়ে মোবাইল ধরে ভিডিও করার সময় শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে ফেলে। খবর পেয়ে আমরা তাকে পুলিশে সোপর্দ করেছি এবং ভিডিওর আলামতসহ মোবাইল ফোনটি সিলগালা করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি। 

তিনি বলেন, আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে, হলের কর্মচারীদের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। টেলিগ্রামে ভিডিও ছড়ানোর হুমকির বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি এবং এ সংক্রান্ত প্রমাণ থাকলে জমা দিতে বলা হয়েছে। উক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে এর আগে আমাদের কাছে এমন কোনো অভিযোগ আসেনি। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রশাসন চূড়ান্ত আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে।  

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুনর রশীদ খান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। যেহেতু ঘটনাটি ইতোমধ্যে ঘটেছে, তাই এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও আমরা গুরুত্ব আরোপ করছি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক। এ ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে অভিযুক্তকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হয়েছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .