চীনা ৩১ প্রতিষ্ঠানে ঢাবিসহ ৪৩০ শিক্ষার্থীর চাকরির সুযোগ
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সিনো-বাংলা ডে ২০২৬’ ও ‘চাইনিজ এন্টারপ্রাইজ জব ফেয়ার’। এতে চীনের ৩১টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষার্থীর জন্য প্রায় ৪৩০টি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্র (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিম উদ্দীন খান (খান জসিম)।
মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে চীনের ঐতিহ্যবাহী লায়ন ড্যান্স, শান-হাই চাইনিজ কোয়ারের ‘সেম সং’ এবং সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর বাংলা গান পরিবেশন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এসএম ফরহাদ, ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি রেন ওয়াং, আপন ফ্রেন্ডশিপ এক্সচেঞ্জ সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর রানা, বাংলাদেশ চাইনিজ এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ঝু গুয়াংলেই এবং ঢাকাস্থ চীন দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কাউন্সিলর লি শাওপেং প্রমুখ।
ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিম উদ্দীন খান বলেন, জুলাই বিপ্লবে রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশে আমাদের প্রধান লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। সাম্প্রতিক চীন সফরে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার ফসল হিসেবেই আজকের এই জব ফেয়ার ও প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নানা প্রতিকূলতার মাঝেও চীনা দূতাবাস, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এবং সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় এ আয়োজন সফল করতে পেরে আমরা আনন্দিত। ঢাবির শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক মঞ্চে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ডাকসুর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আমার এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে শিক্ষার্থীদের জন্য এত বড় আকারের চাকরি মেলার সুযোগ সৃষ্টিতেও নানামুখী প্রশাসনিক বাধা ও প্রতিকূলতা ছিল। বাধা সত্ত্বেও ডাকসুর উদ্যোগে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক খান জসীমের প্রচেষ্টায় এবং চীনা দূতাবাস ও কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সহায়তায় ৪৩০ জনের কর্মসংস্থানের এ ঐতিহাসিক আয়োজন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা দূর করে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অভিভাবকের মতো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), চীনা দূতাবাস ও কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে এবং চীনের ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় টিএসসিতে সিনো-বাংলা ডে ও ঐতিহাসিক জব ফেয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ৩১টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে প্রায় ৪৩০টি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য হুয়াওয়ের বিনামূল্যে বছরব্যাপী এআই প্রশিক্ষণের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ডাকসুর প্রতিনিধি দলের সাম্প্রতিক চীন সফরের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদার ও একাডেমিক আদান-প্রদান আরও গতিশীল হবে।
সাদিক কায়েম আরও বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা অর্থায়নে এক হাজার ৫০০ আসনের নতুন হল নির্মাণ ঢাবির দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট দূরীকরণে ভূমিকা রাখবে। নানামুখী প্রতিকূলতা পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ডাকসু নিরলসভাবে কাজ করে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট ও সিএমসি (সিএমসি)-এর যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘সিনো-বাংলা ফ্রেন্ডশিপ’ স্কলারশিপ ও বার্সারি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট ও হুয়াওয়ে টেকনোলজিস লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর এবং ‘হুয়াওয়ে এআই ট্রেনিং প্রোগ্রাম’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
একই অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের চাইনিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ অর্জনকারীদের জন্য প্রাক-যাত্রা দিকনির্দেশনামূলক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার, কার্যনির্বাহী সদস্য রাইসুল ইসলাম, ডাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ, চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
