বই দেখে পরীক্ষা দেওয়ার ঘটনায় ৪ শিক্ষার্থী ও ২ শিক্ষককে শাস্তি
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মেহেরপুরের গাংনীতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি পরীক্ষায় বই দেখে উত্তর লেখার ঘটনায় চার শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় দুই শিক্ষককে পরীক্ষা-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের বই দেখে উত্তর লেখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটি নিয়ে ব্যবস্থা হিসেবে পরীক্ষার সময় নকলের সঙ্গে জড়িত চার পরীক্ষার্থীকে ইতোমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই শিক্ষককে পরীক্ষা-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।
এদিকে পরীক্ষা চলাকালে নকলের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাদের মারধর করে দুটি মুঠোফোন ও একটি মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
হামলার শিকার সাংবাদিকেরা হলেন বাংলাদেশ বেতার ও নাগরিক টেলিভিশনের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি আহমেদ এবং দৈনিক খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি তারেক হোসেন। এ ঘটনায় রাব্বি আহমেদ গাংনী থানায় রফিকুজ্জামান, মনিরুজ্জামান বিপ্লবসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, ৫০০ টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের বই দেখে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে তারা কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে যান। সেখানে পরীক্ষার্থীদের বই খুলে উত্তর লিখতে দেখেন। এ দৃশ্য ভিডিও ধারণ করতে গেলে কলেজের শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লবসহ আরও এক শিক্ষক এবং কয়েকজন পরীক্ষার্থী তাদের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
সাংবাদিক তারেক হোসেনের অভিযোগ, ভিডিও ধারণ করায় শিক্ষকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। একপর্যায়ে তাদের মারধর করে ভিডিও ধারণ করা দুটি মুঠোফোন ও নাগরিক টেলিভিশনের বুম ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হলেও তারা কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে আসেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। গণমাধ্যমকর্মীরা হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং হামলার কারণ কী, তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ছিনিয়ে নেওয়া সরঞ্জাম উদ্ধারের চেষ্টাও চলছে।

