নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ
জাককানইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষ।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষে লাবিব নামে এক ছাত্রদল কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। আহত লাবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। তিনি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে টিএসসি এলাকায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আহ্বায়ক হাবিব আহমেদের অনুসারীদের সঙ্গে সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারী রাশেদুল হাসান রাতুলের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরে বিষয়টি কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ অগ্নিবীণা হলের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে অগ্নিবীণা ও বিদ্রোহী হলের মধ্যবর্তী এলাকায় কয়েকজনকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করতে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলতে থাকে। পরে অগ্নিবীণা হলের দিক থেকে এক পক্ষ বিদ্রোহী হলের দিকে ধাওয়া দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। সংঘর্ষের পর অগ্নিবীণা ও বিদ্রোহী হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিব আহমেদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেউ ক্যাম্পাসে নৈরাজ্য বা বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে আমরা তা মেনে নেব না। তারা যাতে কোনোভাবে ক্যাম্পাসে ঢুকে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব এবং সক্রিয়ভাবে কাজ করব।’
শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মামুন সরকার বলেন, ‘ঘটনার সময় শুরুতে আমি ক্যাম্পাসে ছিলাম না। পরে ক্যাম্পাসে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মারামারি বা অরাজকতা চাই না। কেউ কেউ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করেছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ক্যাম্পাসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’

