বল থ্রো-ইন নিয়ে ইবিতে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ৭
Advertisement
ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
কথা-কাটাকাটি ও একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে লাঠিসোঁটা ও চেয়ার নিয়ে মারামারি হয়।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় খেলার শেষ মুহূর্তে বল থ্রো-ইন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে লাঠিসোঁটা ও চেয়ার নিয়ে মারামারি হয়।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃবিভাগীয় খেলায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এক গোলে এগিয়ে ছিল। খেলার শেষ মুহূর্তে বল থ্রো-ইন হলে বল আনতে যান হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মশিউর।
এ সময় দর্শকসারিতে থাকা ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা বল দিতে সময়ক্ষেপণ করায় মশিউরের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে মারামারি শুরু করে।
এতে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের হুমায়ুন কবির এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মশিউর, আলিফ খান, আলিফ রাহাত ও তোফাজ্জলসহ সাতজন আহত হন।
আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। পরে আলিফ খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, খেলার শেষ মুহূর্তে বল থ্রো-ইন হওয়ায় মশিউর বল আনতে যান। এ সময় ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা সময়ক্ষেপণের জন্য বলটি দূরে ফেলে দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা মশিউরকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের মারধর করেন।
ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বলটি থ্রো-ইন হওয়ার পর বলটি আমরা দিতে গেলে সামনে থাকা অন্য একজনের পায়ে লেগে সেটি কিছুটা দূরে চলে যায়। তাও খুব বেশি দূরে যায়নি।
এ সময় মশিউর বলতে থাকেন, আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে বলটি দূরে ফেলে দিয়েছি। পরে মশিউরের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তেড়ে এসে আমাদের মারধর করেন।
এ বিষয়ে আহত ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির বলেন, বল নিয়ে কথা-কাটাকাটি হওয়ার পর একজন আমাকে পেছন থেকে ধরে উলটে ফেলে দেন। এরপর অন্যরা আমাকে এলোপাতাড়ি পা দিয়ে মাথায়-মুখে লাথি মারতে থাকেন। এতে আমার মুখ ও দাঁত ফেটে গেছে।
এ বিষয়ে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের আরেক আহত শিক্ষার্থী আলিফ খানের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা ডা. বদিউজ্জামান বলেন, আহত অবস্থায় কয়েকজন শিক্ষার্থী মেডিকেলে আসে। তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে। বাকি দুজনের মধ্যে একজনের মাথা ফেটে গেছে এবং আরেকজনের ঠোঁট কেটে যাওয়া ও দাঁতে আঘাত পাওয়ায় সেলাই দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, আহতদের মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। দুই বিভাগের সঙ্গে আমরা বসে বিষয়টি সমাধান করেছি। তবে খেলাটি স্থগিত রয়েছে।

