Logo
Logo
×
   

ক্যাম্পাস

রাকসুর টাকা উত্তোলনের তদন্তসহ ৭ দাবি ছাত্রদলের

Icon

রাবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম

রাকসুর টাকা উত্তোলনের তদন্তসহ ৭ দাবি ছাত্রদলের

রাকসুর টাকা উত্তোলনের তদন্তসহ ৭ দাবি ছাত্রদলের

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) সদস্যদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও খাতবিহীন অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ তুলে সাতটি দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীমের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে এসব দাবি জানান ছাত্রদলের নেতারা।

ছাত্রদলের সাত দাবির মধ্যে রয়েছে—রাকসু ফান্ড থেকে উত্তোলিত প্রায় সোয়া কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করে কোন খাতে, কত টাকা, কখন এবং কার অনুমোদনে উত্তোলন ও ব্যয় করা হয়েছে তা জানানো, খাত উল্লেখ না করে এবং যথাযথ বিল-ভাউচার ছাড়া উত্তোলিত অর্থের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের লিখিত জবাবদিহির আওতায় আনা, রাকসু ফান্ডের সংশ্লিষ্ট সব আর্থিক কাগজপত্রের স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত বা অডিট করা, তদন্তের প্রয়োজনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত বা অডিট কমিটি গঠন এবং তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ করা।

এ ছাড়া তদন্তে অর্থ আত্মসাৎ, অপব্যবহার, দুর্নীতি, অনিয়ম বা আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল। যে অর্থের বৈধ ব্যয়ের প্রমাণ পাওয়া যাবে না অথবা অনিয়মের মাধ্যমে ব্যয় বা আত্মসাৎ প্রমাণিত হবে, সেই অর্থ উদ্ধার করে রাকসু ফান্ডে পুনরায় জমা দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে রাকসু ফান্ড ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত অডিট, আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ, প্রতিটি ব্যয়ের বিপরীতে বাধ্যতামূলক বিল-ভাউচার এবং শিক্ষার্থীদের কাছে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও রয়েছে।

স্মারকলিপিতে ছাত্রদল নেতারা অভিযোগ করেন, রাকসুর ৪২টি কর্মসূচিতে তহবিল থেকে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উত্তোলন করা ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টরা নিজেদের ইচ্ছামতো অর্থ উত্তোলন করেছেন এবং উত্তোলিত অর্থের একটি বড় অংশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়নি।

রাকসু কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় উল্লেখ করে ছাত্রদল নেতারা বলেন, এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান। রাকসু ফান্ডের অর্থ মূলত শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যবহারের জন্য। ফলে শিক্ষার্থীদের অর্থের প্রতিটি টাকার স্বচ্ছ হিসাব, বৈধ খাত ও ব্যয়ের প্রমাণ থাকা বাধ্যতামূলক।

তারা বলেন, সোয়া কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়ে থাকলে সেই অর্থ কোথায়, কীভাবে, কোন খাতে এবং কার অনুমোদনে ব্যয় করা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ জবাব সংশ্লিষ্টদের দিতে হবে।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে ছাত্রদল রাকসুর আর্থিক বিষয়ে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। এখানে রাকসুর বিরুদ্ধে আর্থিক বিধি না মেনে তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের অনেকগুলো অভিযোগ করা হয়েছে। উপাচার্য রাজশাহীতে ফিরলে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। জনগণের করের টাকা এবং শিক্ষার্থীদের দেওয়া অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম হলে অবশ্যই বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .