শরীয়তপুরে চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে এনডিএফের মানববন্ধন
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ১০:১৫ এএম
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ডা. নাসির উদ্দিনের ওপর হামলার প্রতিবাদে রোববার শাহবাগে মানববন্ধন করেছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ডা. নাসির উদ্দিনের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইনের দাবি জানান তারা।
এ সময় বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হামে দেশ যেখানে সংকটকালীন মুহূর্ত পার করছে, সেখানে আমার রাজপথে থাকার কথা ছিল না। এ বর্বরোচিত ও সুপরিকল্পিত হামলা শুধু ডা. নাসিরের ওপর নয় বরং এটি পুরো চিকিৎসক সমাজ এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর আঘাত। যারা এ হামলার মাধ্যমে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চায় এবং চিকিৎসকদের সেবা দানে বাধা দিচ্ছে, তাদের শুধু গ্রেফতার করলেই হবে না; দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ তিনি বলেন, আপনি দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের অভিভাবক। এই হামলা আপনার ওপরও হয়েছে। আমরা আশা করব, কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে সন্ত্রাসীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আপনি সার্বিক ব্যবস্থা নেবেন। চিকিৎসকরা যেন নির্বিঘ্নে সেবা দিতে পারেন, সেই নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করুন।
এনডিএফ সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর আর কোনো দেশে স্বাস্থ্যকর্মীরা এভাবে ঘন ঘন হামলার শিকার হন না। কোনো অনুসন্ধান ছাড়াই ঢালাওভাবে ‘ডাক্তারের অবহেলায় মৃত্যু’ বলে নিউজ করে দেওয়া কাম্য নয়। কোনো অভিযোগ থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো যেত, কিন্তু এভাবে অমানুষের মতো আক্রমণ করা নজিরবিহীন।
তিনি হাসপাতালে গিয়ে আহত ডা. নাসিরকে দেখার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান, তবে একই সাথে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা এবং অনতিবিলম্বে ‘চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের জোর দাবি জানান। তিনি এনডিএফ সেক্রেটারি বলেন, ‘এরপরে যদি আর কোনো চিকিৎসক লাঞ্ছিত হন, তবে চিকিৎসক সমাজ আর ঘরে বসে থাকবে না। দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- এনডিএফর সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. এ কে এম ওয়ালিউল্লাহ ও সহ-সভাপতি ডা. মো. আতিয়ার রহমান। এ ছাড়াও জয়েন্ট সেক্রেটারি ডা. রুহুল কুদ্দুস বিপ্লব, অফিস সম্পাদক ডা. এ কে এম জিয়াউল হকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে মেডিকেল কলেজ, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী (৪৫) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার (১৫ মে) রাত ১০টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন।
রোগীর গুরুতর অবস্থা আত্মীয়স্বজনকে বিস্তারিত অবহিত করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার করেন চিকিৎসক। কিন্তু স্বজনরা ঢাকায় নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং রিস্ক বন্ডে স্বাক্ষর করে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি রাখেন।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে হার্ট অ্যাটাকজনিক শকে থাকা এ রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে। এক পর্যায়ে তিনি মারা যান।
এরপর চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে রাত ১টার দিকে স্বজনেরা হাসপাতালের ইমার্জেন্সি রুমে ১৫০ থেকে ২০০ মানুষ জড়ো করে। তারা দয়িত্বরত ডা. নাসিরকে বেধড়ক মারতে থাকে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, এক পর্যায়ে দরজার কাচ ও দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তারা। পরিস্থিতি খারাপ দেখে ডা. নাসির ওয়াশরুমে আশ্রয় নেন, সেটা ভেঙে তাকে মারতে মারতে বের করে আনে। ইট দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়।
পুলিশ আসতে আসতে ডা. নাসিরকে মেরে আধমরা অবস্থায় ডায়রিয়া ওয়ার্ড থেকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়। হামলায় গুরুতর আহত জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাসির ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলিকপ্টারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।
