আলিয়া মাদ্রাসার হলে প্রবেশের চেষ্টা শিবিরের, ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা
হাজারীবাগ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ায় ছাত্রশিবিরের প্রবেশ ঠেকাতে সড়কে পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ায় ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ১২টার পর হলের ‘বৈধ সাধারণ শিক্ষার্থী’ ও শিবির নেতারা সম্মিলিতভাবে আবাসিক হলে উঠতে যাওয়ার পথে বকশীবাজার মোড়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। এ সময় মাদ্রাসার ভেতরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।
সকাল থেকেই আলিয়া মাদ্রাসার হলের পরিস্থিতি ঘিরে উত্তেজনা ছিল। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ছাত্রশিবিরের হল শাখার নেতাকর্মী ও বৈধ শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলে অবস্থান নেওয়ার জন্য বকশীবাজার মোড়ে সামনে উপস্থিত হলে তাদের প্রবেশে বাধা দেয় পুলিশ।
এদিকে পুলিশ কিছু পরীক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ড যাচাই করে মাদ্রাসায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হলেও, যাদের অ্যাডমিট কার্ড হলের কক্ষে ছিল তাদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রশিবির।
দুপুর ১২টার দিকে বকশীবাজার মোড়ে ব্যারিকেড দেওয়ায় যানবাহন মাদ্রাসার ভেতরের দিকে প্রবেশ করতে পারেনি। তবে মাদ্রাসার দিক থেকে বকশীবাজারের দিকে যানবাহন বের হচ্ছে।
বকশীবাজার মোড়, আলিয়া মাদ্রাসা সড়ক ও মাদ্রাসার গেটের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
চকবাজার থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বকশীবাজার মোড়, আলিয়া মাদ্রাসার সড়ক ও গেটের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। একটি গ্রুপ আজ আলিয়া মাদ্রাসায় প্রবেশের ঘোষণা দেওয়ায় সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। এ কারণে দ্বন্দ্ব মোকাবিলা ও নিরাপত্তার জন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড দেখে মাদ্রাসার দিকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে। তবে তারা একত্রিত হয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল।
পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলে জানায়, কোনো বিষয়ে কথা থাকলে দুই-একজন প্রতিনিধি প্রিন্সিপালের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। কিন্তু তারা পুলিশের কথা না শুনে সবাই একত্রিত হয়ে ঢুকার কথা বলে। ভেতরে যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনো বহিরাগতকেও মাদ্রাসায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
এদিকে আলিয়া মাদ্রাসার হল শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলীম বলেন, তারা শনিবার সকালে দুটি উদ্দেশ্যে মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়েছিলেন। প্রথমত, তারা শান্তিপূর্ণভাবে হলে অবস্থান করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং পুলিশ প্রশাসন তাদের বাধা দিয়েছে।
তিনি বলেন, কিছু শিক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ড সঙ্গে থাকায় তাদের মাদ্রাসায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছু শিক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ড হলের কক্ষে ছিল। তাদেরও হলে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হলে তারা পরীক্ষা দিতে পারতেন। কিন্তু হলের কার্ড থাকা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা প্রশাসন করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আব্দুল আলীম আরও বলেন, তারা পরীক্ষার আগেই মাদ্রাসায় অবস্থান করছিলেন। তাদের ধারণা ছিল- সেখানে অবস্থান করতে পারলে মাদ্রাসা প্রশাসন এসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিয়ে পরীক্ষার হলে নিয়ে যাবে। কিন্তু প্রশাসন নিরাপত্তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে নিয়ে যায়নি। এতে তাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেননি এবং তারা নিজেরাও হলে যেতে পারেননি।
তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবিরের বৈধ হল কার্ডধারী ও বৈধ শিক্ষার্থীরাই হলে প্রবেশ করতে পারেননি। অথচ ছাত্রদলের শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান করছেন।
আব্দুল আলীম বলেন, আমরা ইসলামী ছাত্রশিবিরের জন্য আসিনি। আমাদের লড়াই হচ্ছে— বৈধ ছাত্র ছাড়া ছাত্রদল বা শিবির পরিচয়ে কেউ হলে থাকবে না। আমরা চাই, হলে শুধু বৈধ শিক্ষার্থীরাই অবস্থান করুক।
তিনি আরও বলেন, তাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রেখে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়নি। এ কারণে আগামীকাল থেকে দেশবাসী ও ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। আগামীকাল তাদের পক্ষ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান।
পুলিশের ব্যারিকেড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ছাত্রশিবিরের শিক্ষার্থীরা এলাকা ত্যাগ করেন। এর পরও মাদ্রাসার আশপাশে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়।
