Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

রাইস মিলে ডাকাতি, জিএমকে চাকু দিয়ে জখম করে ২০ লাখ টাকা লুট

Icon

তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:২৫ পিএম

রাইস মিলে ডাকাতি, জিএমকে চাকু দিয়ে জখম করে ২০ লাখ টাকা লুট

রংপুরের তারাগঞ্জে ছাবেয়া অটো রাইস মিলে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ ডাকাতরা কর্মচারীদের বেঁধে নগদ টাকাসহ মালপত্র নিয়ে গেছে। 

ডাকাতরা অটো রাইস মিল লুটের পাশাপাশি কর্মরত স্টাফদের হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করেছে। 

এ সময় ডাকাতদের বাধা দিতে গেলে অটো রাইস মিলের জিএম মোতাকেল বিল্লাকে (৫২) দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জখম করা হয়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হলে গুরুতর যখম হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। 

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের উপজেলার ইকরচালি ইউনিয়নের ছাবেয়া অটো রাইস মিলে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ ও হিমাগার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২২-২৫ জনের সংঘবদ্ধ ডাকাত দল রাত ২টার দিকে অটো রাইস মিলের পেছনের দিকে বাঁশঝাঁড় থেকে বাঁশ কেটে মাই তৈরি করে অটো রাইস মিলে প্রবেশ করে। এরপর কৌশলে তারা অটো রাইস মিলের গার্ড খোকন মিয়া, অফিস সহকারী রায়হান ও মেশিন অপারেটর মুকুলকে অস্ত্রের মুখে বেঁধে ফেলে। 

পরে তারা দ্বিতীয়তলার অফিস কক্ষে গিয়ে অটো রাইস মিলের ম্যানেজার মোর্শেদুল আলম ডালিমকে গাছের ডাল দিয়ে মারপিট করে বেঁধে রাখে। এ সময় রাইস মিলের জিএম মোতাকেল বিল্লা বাধা দিলে তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জখম করে। সবার মোবাইল কেড়ে নিয়ে নগদ ৫ লাখ টাকা লুট করে সিন্দুক ভাঙার চেষ্টা করে।

শহিদুল নামের একজন ৯৯৯ নাম্বারে মোবাইলে অটো রাইস মিলে ডাকাত পড়েছে বলে সহায়তা চাইলে তাৎক্ষণিক তারাগঞ্জ থানা পুলিশ অটো মিলে আসে। তার আগেই ডাকাতরা নগদ ৫ লাখ টাকাসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মালমাল লুট করে সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক নিয়ে পালিয়ে যায়। 

বয়লার মিস্ত্রি স্বাধীন রহমান জানিয়েছেন, সংঘবদ্ধ ডাকাতরা একযোগে কেউ আসেনি। তারা এমনভাবে ভিতরে এসেছে আমরা কেউ বুঝতে পারিনি তারা ডাকাত। অটো মিলে প্রায় ৫০ জন কর্মচারীর মতো ছিলাম। যাদের তারা দেখা পেয়েছে তাদের শরীর চেক করে মোবাইল নিয়ে বেঁধে রেখেছে। ডাকাতদের সবার হাতে দেশীয় অস্ত্র চাকু ছিল।

অটো রাইস মিলের ম্যানেজার মোর্শেদুল আলম ডালিম বলেন, রাত ৩টার দিকে দ্বিতীয়তলায় প্রায় ৫-৬জন ডাকাত আমার রুমে ঢুকে চাকু লাগিয়ে দেয়। পরে তারা আমাকে বেঁধে ফেলে। এ সময় পাশের রুমে থাকা জিএম মোতাকেল বিল্লাকে আরও ৩-৪ জন ডাকাত গিয়ে ধরে ফেলেন। এ সময় তিনি একটু কথা বলার ও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে চাকু দিয়ে জখম করে। পরে পুলিশের গাড়ির শব্দ টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। তাদের পরনে হাফ প্যান্ট ও সবার মুখ মানকি টুপি দিয়ে ঢাকা ছিল। যে কারণে তাদের চেহারা চেনা যায়নি।

ছাবেয়া অটো রাইস মিলের মালিক আনিছুর রহমান লিটন জানান, ডাকাতির ঘটনাটি রাত ৩টা ২০ মিনিটে আমাকে জানানো হয়েছে। শুনেছি নগদ প্রায় ৫ লাখ টাকাসহ ২০ লাখ টাকার বিভিন্ন মালামাল লুট করে ডাকাতেরা নিয়ে গেছে। মিলের জিএমকে জখম করেছে; তিনি এখন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়াও বেশ কয়েকজন কর্মচারীকে মারধর করে আহত করেছে ডাকাতরা। 

তারাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন জানান, আমরা খবর পেয়ে ৮ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে যাই। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দল পালিয়ে যায়। মিলের ক্যাশ ভোল্ট ভাঙতে পারেনি। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত চেষ্টা চলছে। 

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম