Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

যশোর-৫

মুফতি রশিদের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপির ২ নেতা!

ইন্দ্রজিৎ রায়

ইন্দ্রজিৎ রায়

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম

মুফতি রশিদের বিরুদ্ধে জেলা বিএনপির ২ নেতা!

যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মুফতি রশিদ আহমাদকে পরাজিত করতে জেলা বিএনপির সভাপতি-সম্পাদক খেলায় মেতেছেন। এতে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর বিজয়ের পথ সুগম হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু। 

সম্প্রতি উপজেলা, পৌর ও কলেজ ছাত্রদলের এক যৌথ সমন্বয় সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। তার বক্তব্যের এক মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে তোলপাড় চলছে।

এ আসনে প্রথমে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন উপজেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ মো. ইকবাল হোসেন। ডিসেম্বরের শেষ দিকে তাকে বাদ দিয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ আহমাদকে দেওয়া হয়। 

দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে কলস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন শহিদ মো. ইকবাল হোসেন। তার পক্ষে কাজ করায় বিএনপির পৌর ও চারটি ইউনিয়নের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

এরপর থেকে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের অনেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা এসব নেতাকর্মীকে বহিষ্কার না করে কমিটি বিলুপ্ত করায় ক্ষুব্ধ ধানের শীষের পক্ষে কাজ করা নেতাকর্মীরা।

আসাদুজ্জামান মিন্টুর ভিডিওতে শোনা যায়-‘কালকে আমি যশোরে সভাপতি-সেক্রেটারিকে বলে আসছি, সেখানে অমিত সাহেব ছিলেন। আমি এই কথাটাই বলে আসছি। আপনারা কিছু করতে না পারলে, আমরা বুঝব আপনারা দুই দিকে খেলছেন। কাজেই আমি প্রার্থীকে বলব, আপনি প্রত্যাহার করে ঘরে ফিরে যান। স্বতন্ত্র সে নির্বাচন করুক। যা হয় হোক, ও তে তো আর আমার যাই আসে না, আমি তো উনাদের (জেলা বিএনপি) টাকায় চাল ডাল কিনে খায় না। বরং আমরা উনাদের বিভিন্ন সময় টাকা পয়সা দিয়ে হেল্প করি। উনারা ত্রাণে যাবে দুই লাখ টাকা দিতে হবে, উনার ঘর বানায়ে দেবেন ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, শহিদ ইকবাল আর মিন্টু টাকা ম্যানেজ করে নিয়ে আস। এই তো হয়েছে বিগত দিনে। কাজেই ওদের ভয় করি না। জেলা বিএনপি আমাকে কোনো ফল্ট করলেই না বহিষ্কার করবে? আমি তো কোনো ফল্ট করব না ...। 

মনিরামপুরের বিষয়টা নিয়ে জেলা বিএনপি একটা খেলায় নেমেছে, আমি স্পষ্টভাবে জেলা বিএনপির সভাপতি-সেক্রেটারি, সঙ্গে আছে কিনা জানি না। তবে সভাপতি-সেক্রেটারি স্পষ্ট। তারা এ নির্বাচনটাকে নিয়ে খেলা করছে, আজকে ধানের শীষ আর কলস মার্কা দাঁড় করিয়ে দিয়ে, দাঁড়িপাল্লা পাশ করিয়ে দেওয়ার মতো সুযোগ তারা করে দিচ্ছে।’ 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, যারা ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করছে, তাদের বহিষ্কারের জন্য জেলা বিএনপির কাছে তালিকা দেওয়া হয়েছে। তাদের বহিষ্কার না করে পৌর ও চারটি ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় ওই কমিটির যারা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছিলেন তাদেরও তো শাস্তি দেওয়া হলো। কমিটি বিলুপ্তি আর বহিষ্কার এক জিনিস না। শুধু বিএনপি না, ছাত্রদল, যুবদলের যারা ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করছে, তাদের তালিকাও দেওয়া হয়েছে। তাদের বহিষ্কার করা হয়নি। জেলা বিএনপির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। এজন্য আমি ওই বক্তব্য দিয়েছি।

জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘তার কথার (আসাদুজ্জামান মিন্টু) কোনো যৌক্তিতা নেই। পার্টি যাকে মনোনয়ন দিয়েছে, তার পক্ষে আমরা একমত। উনি (ধানের শীষের প্রার্থী) যাদের নাম দেবে তাদের বহিষ্কার করা হবে। উনি যদি বলেন, সবাইকে বহিষ্কার করতে হবে, তাহলে সবাইকে বহিষ্কার করা হবে। সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ করলে উনি আমার সঙ্গে আলোচনা করে বহিষ্কার করবেন। এখানে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’

ঘটনাপ্রবাহ: ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন


আরও পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম