Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা মেঘনার তীর সংরক্ষণ বাঁধ এলাকা

Icon

শাহরিয়ার কামাল, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম

পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা মেঘনার তীর সংরক্ষণ বাঁধ এলাকা

প্রকৃতির অকৃত্রিম সান্নিধ্য পেতে মেঘনার তীরের এসব স্থানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছেন। ছবি: যুগান্তর

এক সময় যে মেঘনার উত্তাল ঢেউ আর ভাঙন ছিল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে অভিশাপ, আজ সেই মেঘনা তীরই হয়ে উঠেছে বিনোদনের এক বিশাল আশীর্বাদ। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মতিরহাট থেকে রামগতি উপজেলার বয়ারচর পর্যন্ত মেঘনা উপকূলীয় জনপদের কয়েকটি স্পট এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত। 

আধুনিক পার্ক বা সিনেমা হলের অভাব থাকলেও প্রকৃতির অকৃত্রিম সান্নিধ্য পেতে মেঘনার তীরের এসব স্থানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছেন। 

বিগত কয়েক দশকে মেঘনার ভাঙনে বসতভিটা হারানো মানুষের আর্তনাদ ছিল এ অঞ্চলের নিত্যদিনের খবর। তবে বর্তমান সরকারের নেওয়া ভাঙন রোধ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত মেঘনা নদীর অন্তত ৩৭ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ বাঁধের এলাকা এখন কেবল সুরক্ষাই দিচ্ছে না, তৈরি করেছে নয়নাভিরাম পর্যটন স্পট। 

রামগতির আলেকজান্ডার, কমলনগরের মতিরহাট, মাতাব্বরহাট ও নাছিরগঞ্জ এবং লক্ষ্মীপুর সদরের মজু চৌধুরীর হাট এলাকায় নদীর পাড় পর্যটকদের আনাগোনায় সবসময় জমজমাট হয়ে থাকে। 

বিশেষ করে কমলনগরের মতিরহাট বেড়িবাঁধ এলাকায় এখন পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়। লক্ষ্মীপুর ও পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী জেলা থেকে আসা হাজারো মানুষ এখানে ভিড় করছেন। 

এ বিষয়ে মতিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও চরকালকিনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান লিটন বলেন, এক সময়ের মতিরহাট এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ নদী ভাঙনের কবলে পড়ায় এলাকাটি একেবারে জনশূন্য হয়ে পড়েছিল। তবে তীর সংরক্ষণ বাঁধের চলমান কাজটি দৃশ্যমান হওয়ার পর এখানে ধীরে ধীরে ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা বেড়েছে।  এখন জায়গাটিকে পুরোপুরিভাবে পর্যটন এলাকা মনে হচ্ছে। সরকারিভাবে পর্যটনবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হলে মতিরহাট এলাকাটি আগের মতো আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে।

অন্যদিকে, রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার বাজার ঘিরে নির্মিত পৌনে চার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ এখন পর্যটকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। এখানকার বিশেষ আকর্ষণ- মেঘনার বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ জনপদ চর আবদুল্লাহ। 

পর্যটকরা স্পিডবোট ও ট্রলারে করে এ চরটিতে ঘুরতে যাচ্ছেন। এখানকার পর্যটনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শতশত ক্যামেরাম্যান ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ছবি তুলে বাড়তি আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।  

দর্শনার্থীরা জানান, জেলা শহরে মানসম্মত পার্ক না থাকায় মেঘনার পাড়ই এখন প্রধান ভরসা। বিকালের রক্তিম সূর্যাস্ত আর নদীর ঠান্ডা বাতাস নাগরিক জীবনের ক্লান্তি মুছে দিচ্ছে। তবে নিরাপদ বসার স্থান, শৌচাগার এবং রাতে পর্যাপ্ত আলোর অভাব রয়েছে। এছাড়া স্পিডবোট ও ট্রলার ভ্রমণে লাইফ জ্যাকেটের মতো সুরক্ষা সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তার দিকের কথাও উল্লেখ করেন দর্শনার্থীরা।

রামগতি প্রেস ক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিনের মতে, ৩০ বছরের দীর্ঘ ভাঙন শেষে আজ মেঘনা আমাদের নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এই উপকূলীয় পর্যটনকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে পারলে এটি দেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হতে পারে।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ-জামান ও রামগতির ইউএনও নিলুফার ইয়াসমিন নিপা জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে মেঘনা উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও আনন্দ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সজাগ রয়েছে এবং নদীপথে ভ্রমণে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম