Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

চুয়াডাঙ্গার বাতাসে আগুনের হলকা, পারদ ছাড়াল ৩৯ ডিগ্রি

Icon

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম

চুয়াডাঙ্গার বাতাসে আগুনের হলকা, পারদ ছাড়াল ৩৯ ডিগ্রি

রাস্তার পিচগলা গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ

বৈশাখের আগেই চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে আগুনের দহন। টানা কয়েক দিন ধরেই জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। শুক্রবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রোদের প্রখরতা।

এদিন বিকাল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে বৃহস্পতিবারও ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নিয়ে চুয়াডাঙ্গা ছিল দেশের তপ্ত জেলা।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুধু উচ্চ তাপমাত্রা নয়, বাতাসে আর্দ্রতার আধিক্য থাকায় ভ্যাপসা গরমে জনজীবন এক প্রকার থমকে গেছে। প্রখর রোদে মনে হচ্ছে আকাশ থেকে আগুন ঝরছে। রাস্তার পিচগলা গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ।

শহরের বড় বাজার এলাকায় দেখা হয় ভ্যানচালক কাসেম মিয়ার সঙ্গে। কপাল চুয়ে পড়া ঘাম মুছতে মুছতে তিনি বলেন, রাস্তায় বের হলে মনে হচ্ছে গায়ে কেউ আগুনের ছ্যাঁকা দিচ্ছে। রোদের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। শরীর থরথর করে কাঁপছে, কিন্তু পেটের দায়ে এ আগুনেই বের হতে হয়েছে।

দাবদাহের প্রভাব পড়েছে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতেও। রোদের তীব্রতায় মাঠের ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাপপ্রবাহে স্থবির হয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার জনপদ। বেলা ১১টার পর থেকেই রাস্তাঘাট জনশূন্য হতে শুরু করে। জরুরি প্রয়োজনে যারা বের হচ্ছেন, তাদের ভরসা ছাতা, রুমাল বা টুপি। তবে শুধু বাইরে নয়, স্বস্তি নেই ঘরের ভেতরেও। ফ্যান থেকে বের হওয়া গরম বাতাস আর ভ্যাপসা গরমে শিশু ও বৃদ্ধদের নাভিশ্বাস উঠেছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক জাহিদুল হক জানান, এপ্রিলের শুরু থেকেই তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। গত বুধবার তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা শুক্রবার ৩৯ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, জেলার ওপর দিয়ে এখন মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে এটাই এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। আগামী কয়েক দিন এই রুক্ষ ও তপ্ত পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই চরম আবহাওয়ায় হিটস্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশনের (জলশূন্যতা) ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ঝুঁকি এড়াতে প্রচুর পরিমাণে পানি, খাবার স্যালাইন ও তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সরাসরি রোদে না যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ক্লাইমেট নলেজ পোর্টালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রার ব্যাপ্তিটা হলো, ১৫ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাই আমাদের দেশের ক্ষেত্রে কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে সেটাকে মৃদু তাপপ্রবাহ (দাবদাহ) বলে ধরা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পেরিয়ে গেলে ধরা হয় মাঝারি তাপপ্রবাহ। আর তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলে ধরা হয় তীব্র তাপপ্রবাহ।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .