শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচন
দুই আইনজীবীকে মারধর ও নারীকে হেনস্তার অভিযোগ
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপিপন্থি বাংলাদেশ জাতীয়তা বাদী আইনজীবী ফোরামের মনোনীত ছাড়া অন্য কাউকে ফরম কিনতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাদের হামলা ও মারধর ও হেনস্তার স্বীকার হয়েছেন নারীসহ ৩ আইনজীবী।
এতে করে সাধারণ আইনজীবীসহ সবার মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম, তৌহিদ কোতোয়াল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের (২০২৬-২৭) মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের শেষ দিন রোববার। জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার কথা ছিল। রোববার সকাল থেকেই শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেই। এরপর সেখানে জেলা এনসিপি নেতা ও প্রবীণ আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন খান সেখানে মনোনয়ন ফরম কিনতে গেলে তাকে বাধা দিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। পরে তিনি তার চেম্বারে চলে গেলে সেখানেও তাকে লাঞ্ছিত করা হয়।
এর আগে অ্যাডভোকেট মুরাদ মন্সিকে তার চেম্বারে গিয়ে তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। নারী আইনজীবী জয়নব আক্তার (ইতি) ফরম কিনতে গেলে তাকে ও বাধা ও হেনস্তা করা হয়।
এরপর জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানারকম স্লোগান দেয়। সেখানে বিএনপি মনোনীত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মনোনীত সভাপতি কামরুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক পদে মৃধা নজরুল কবীরকে মনোনীত করা হয়। অন্যান্য পদেও তাদের মনোনীত সদস্যদের ফরম কিনতে দেওয়া হয়। ফলে তারাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে।
প্রবীণ আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন খান বলেন, আমি আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ফরম কিনতে গেলে বিএনপিপন্থি আইনজীবী ও বহিরাগত লোকজন আমাকে বাধা দেয় ও লাঞ্ছিত করে। পরে আমি আমার অফিসে চলে আসলে সেখানে ও আমাকে লাঞ্ছিত করে।
মারধরের শিকার হয়ে আহত হওয়া অ্যাডভোকেট মুরাদ হোসেন মুন্সি বলেন, শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সকালে আমিসহ সভাপতি পদে মনোনয়ন কিনার জন্য ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। এ কারণে একজন নির্বাচন কমিশনারের লোকজন নিয়ে চেম্বারে এসে আমাকে মারধর করে আহত করেছে।
নারী আইনজীবী জয়নব আক্তার ইতি বলেন, আজকে শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ আইনজীবীদের পক্ষে ফরম কিনতে গেলে বিএনপিপন্থি আইনজীবী ও তাদের লোকজন আমাকে ফরম কিনতে বাদা দেয় এবং হেনস্তা করে।
বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. কামরুল হাসান বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ফ্যাসিবাদের সমর্থকরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দিচ্ছে। আসলে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট রুবায়েত আনোয়ার মনির বলেন, আমি নির্বাচনের দায়িত্বে আছি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট শাহাদাদ হোসেন বলেন, আমরা যথাসময় পর্যন্ত ফরম বিক্রির জন্য জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে ছিলাম। কোনোরকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
