Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

গৌরীপুরে বৃষ্টির পানিতে ধান পচে নষ্ট, ‘বিনামূল্যেও নিচ্ছে না কেউ’

Icon

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

গৌরীপুরে বৃষ্টির পানিতে ধান পচে নষ্ট, ‘বিনামূল্যেও নিচ্ছে না কেউ’

এলাকার ধান কাটার জন্য শ্রমিক ও মেশিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ছবি: যুগান্তর

প্রচণ্ড রোদের উত্তাপেও মলিন গৌরীপুরের কৃষকদের মুখ। শ্রমিক সংকট, ধান কাটার ও মাড়াই মেশিনের অভাব এবং টানা বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে পাকা ধান পচে নষ্ট হচ্ছে।  এমনকি বিনামূল্যেও সেই ধান নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না কেউ। 

শনিবার ( ৯ মে ) ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের বিভিন্ন বিল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, কেইলা বিল, ডৌহাখলা, মরিচালী বিল, মামদীপুর, দরুন লালমা, ছোট-বড় ডৌহাখলা, বাঁশাটি, গণিতাশ্রম, কাজীর পানাটি, স্বল্প ডৌহাখলা, আহসানপুর, কলাদিয়া ও রুকুন্দীপুর বিলের নিচু এলাকার অধিকাংশ ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে উঁচু এলাকার ধান কাটার জন্য শ্রমিক ও মেশিনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

মরিচালী গ্রামের আজিজুল হক বলেন, আমার ১ একর ২০ শতাংশ জমির ধান এলাকার মানুষকে কেটে নিয়ে যেতে বলেছি; কিন্তু কেউ বিনামূল্যেও নিতে চায় না।

আহসানপুর গ্রামের কৃষক আবুল হাসিম বলেন, আমাদের খবর কেউ নেয় না।  ধান পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন ছেলে-মেয়েদের মুখে কী খাবার তুলে দেব?

স্বপ্ন ডৌহাখলা গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, কৃষি বিভাগের কেউ এখনো খোঁজ নিতে আসেননি। একই অভিযোগ করেন মরিচালী গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাকও। 

মরিচালী গ্রামের মনোয়ারা খাতুন জানান, তার স্বামীর এক একর জমির ধান পুরোপুরি পানির নিচে চলে গেছে। দেবরের আরও ৭০ শতাংশ জমির ধানও তলিয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন জলি জানান, ঝড়ো আবহাওয়া ও অতিবৃষ্টিতে উপজেলার পাঁচ হাজার ১০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।  বোরো ধানের ৫৫০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। এর মধ্যে ১৮০ হেক্টরের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট এবং ৩৭০ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ছয় কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অতিবৃষ্টিতে ৫০ হেক্টর জমির শাকসবজিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ হেক্টরের ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে এ উপজেলায় ১ হাজার ৩০৯ মেট্রিক টন ধান ও ৬৪৬ মেট্রিক টন শাকসবজি নষ্ট হয়েছে। এক হাজার ২৫০ জন কৃষাণ-কৃষাণীর শাকসবজির ক্ষতির পরিমাণ এক কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। 

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম