গোয়ালন্দে এক বছরে ২৯টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি
শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের বাইপাস সড়কের পাশে থাকা ১০০ কিলোভোল্ট ক্ষমতার একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা। গত এক বছরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৯টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বিশেষ করে বোরো-ইরি সেচ মৌসুমে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় বৈদ্যুতিক তার, ফ্যান ও অন্যান্য সরঞ্জাম চুরির ঘটনাও বাড়ছে।
গত ৭ মে উপজেলার ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) অফিসের অদূরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দেবগ্রাম ইউনিয়নের বাইপাস সড়কের পাশে থাকা ১০০ কিলোভোল্ট ক্ষমতার একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। ট্রান্সফরমারটিতে প্রায় ২০০ কেজি তামার তার ছিল, যার বাজারমূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা।
স্থানীয় চায়ের দোকানদার মো. নজরুল শেখ বলেন, রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান করে বাড়ি যাই। সকালে এসে দেখি বিদ্যুতের খুঁটির পাশে ট্রান্সফরমারটি খুলে নিচে পড়ে আছে। ভেতরের তামার তার চোর চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা। অথচ সারারাত টহল পুলিশ মহাসড়কে টহল দেয়।
গোয়ালন্দ পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালন্দ উপজেলার পুরোটা এবং রাজবাড়ী সদর উপজেলার আংশিক ( বসন্তপুর, সুলতানপুর, বরাট, শহীদ ওহাবপুর ও পাঁচুরিয়া ইউনিয়ন) নিয়ে তাদের সাব-জোনাল অফিস। এর আওতাধীন আবাসিক, বানিজ্যিক, শিল্প ও সেচ মিলে মোটে এক হাজার ৩০৮ টি ট্রান্সফরমার রয়েছে। মোট গ্রাহক সংখ্যা ৪১ হাজার ১৪৫ জন।
২০২৫-২৬ অর্থ বছরে চলতি মে মাস পর্যন্ত শুধু গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সেচ কাজে ব্যবহৃত ২২ টি, আবাসিক এলাকার তিনটি এবং শিল্প এলাকার তিনটিসহ মোট ২৮টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে।
কৃষক প্লাবন আহমেদ ও মুরাদ হোসেন অভিযোগ করেন, চোরেরা ট্রান্সফরমার চুরি করলেও ক্ষতিপূরণের দায়ভার বহন করতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে কৃষকরা ট্রান্সফরমারের টাকা জমা দেওয়ার পর অফিস থেকে পুনরায় ট্রান্সফরমার কিনে সংযোগ দেওয়া হয়। এতে আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
গোয়ালন্দ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম মো. আসাদুজ্জামান বলেন, চলতি বছরে মোট ২৮টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। প্রত্যেকটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় লিখিতভাবে থানায় অভিযোগ করেছি। এর মধ্যে দুটি চুরির ঘটনায় চোর গ্রেফতার হলে সেই অভিযোগ দুটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। বাকি ২৬টি অভিযোগ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
গোয়ালন্দ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) আবাসিক প্রকৌশলী মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, গত ৭ মে এর ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেছি। বোরো ধানচাষিসহ অন্য গ্রাহকদের বিকল্প ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি জানান, গত দুই বছরে এ উপজেলায় তাদের ট্রান্সফরমার চুরি যাওয়ার ঘটনা একটাই।
অন্যদিকে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ওজোপাডিকোর ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়ে মামলা হয়েছে। মালামাল উদ্ধার ও চোরদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া গত মাসে পল্লী বিদ্যুতের একটি মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। ওই মামলায় তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়।

