লক্ষ্মীপুরে কুরবানির ঈদে বেড়েছে পানের চাহিদা ও দামও চড়া
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
ঝাঁঝালো স্বাদ, পুরু ও মচমচে পাতার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ পানের চাহিদা বেশি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পান-সুপারির জন্য খ্যাত মেঘনার উপকূলীয় অঞ্চল লক্ষ্মীপুর। এ অঞ্চলে যেমন ব্যাপকভাবে পান ও সুপারি চাষ হয়, তেমনি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহও করা হয়। কুরবানির ঈদে অতিথি আপ্যায়ন ও খাবারের পর মুখশুদ্ধির জন্য পানের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই ঈদ এলেই পানের হাটগুলোতে বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য দেখা দেয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে রায়পুর উপজেলার নতুনবাজার, হায়দরগঞ্জ, ক্যাম্পেরহাট ও বাবুরহাট এলাকার পানের হাটে বেড়েছে বেচাকেনা। স্বাদে ঝাঁঝালো এ পানের বাড়তি চাহিদা থাকায় অন্য সময়ের তুলনায় প্রতি পোণ (৮০টি) পানের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি পোণ বড় পান বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায় এবং ছোট পান বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। খুচরা বাজারে এসব পান প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার (২৯ মে) ভোর ৫টার দিকে হাটের দিন সরেজমিনে দেখা যায়, রায়পুর পৌরসভার নতুনবাজার জামে মসজিদের ঈদগাহ মাঠজুড়ে চলছে পান বাছাই, গুছানো ও বিক্রির ব্যস্ততা। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা মোটরসাইকেল, ভ্যান ও মিনি ট্রাকে করে এসব পান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যাচ্ছেন।
পান ব্যবসায়ী খোকন বলেন, ঈদের সময় পান বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। এখন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকার আসছেন। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।
চাষি মনির হোসেন, মো. হারুন ও জয়নাল ঘোষ জানান, এ অঞ্চলের পানের আলাদা কদর রয়েছে। ঝাঁঝালো স্বাদ, পুরু ও মচমচে পাতার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ পানের চাহিদা বেশি। পান চাষে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে প্রাকৃতিক সরিষার খৈল ব্যবহার করায় এ এলাকার পান দীর্ঘসময় সতেজ থাকে এবং সহজে নষ্ট হয় না। তবে অতিবৃষ্টি হলে পান চাষিদের দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম বলেন, রায়পুরে ছোট-বড় মিলিয়ে কয়েক হাজার পানের বরজ রয়েছে। পান এ অঞ্চলের অন্যতম অর্থকরী ফসল। স্বাদ ও বৈশিষ্ট্যের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ পানের বাড়তি চাহিদা রয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুর জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৫০৫ হেক্টর জমিতে প্রায় আড়াই হাজার পানের বরজ রয়েছে। এসব বরজ থেকে বছরে প্রায় ৯৯৫ টন পান উৎপাদিত হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু রায়পুর উপজেলাতেই রয়েছে ১ হাজার ৬২০টি পানের বরজ। উল্লেখ্য, ৭২টি পানকে এক বিড়া বলা হয়।

-6a1962942b8f7.jpg)