ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
নরমাল ডেলিভারিতে ১০ দিনে ৮৭ নবজাতকের জন্ম
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৬:২১ পিএম
ফটিকছড়িতে নরমাল ডেলিভারিতে ১০ দিনে ৮৭ নবজাতকের জন্ম। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নরমাল ডেলিভারি বা স্বাভাবিক প্রসবে রীতিমতো সাফল্যের নজির গড়েছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতালটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে ১৭টি শিশু।
মা ও নবজাতক সবাই সুস্থ থাকায় ইতোমধ্যে তারা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ দিনে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে ৮৭টি নবজাতক। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২৮ এ। ২০২৫ সালে হাসপাতালটিতে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে ৩ হাজার ৯৩১ শিশু। আর গত পাঁচ বছরে এ হাসপাতালের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবে প্রায় ১৯ হাজার নবজাতক পৃথিবীর আলো দেখেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়া মায়েরা ও তাদের স্বজনরা নবজাতকদের নিয়ে একে একে বাড়ি ফিরছেন। এ সময় তারা হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিকতা, দক্ষতা এবং নিরাপদ মাতৃত্বসেবা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। চিকিৎসা সেবার মান নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।
রোসাংগিরি ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে গত রাতে হাসপাতালে এসেছিলাম। শুরুতে খুব ভয় ও উদ্বেগে ছিলাম। তবে চিকিৎসকদের সার্বিক সহযোগিতায় স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে আমাদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নিয়েছে। মা ও সন্তান দুজনেই সুস্থ আছে। হাসপাতালের গুণগত সেবায় আমরা খুবই সন্তুষ্ট।
প্রসূতি বিভাগের নার্সিং সুপারভাইজার কৃষ্ণা প্রভাত দেবী বলেন, হাসপাতালে আমরা প্রসূতি সেবা, অ্যান্টেনাটাল কেয়ার (এএনসি), পোস্টনাটাল কেয়ার (পিএনসি) এবং অপারেশন থিয়েটারের মাধ্যমে সিজারিয়ান সেবাও প্রদান করি। একদিনে ২১টি শিশুর জন্ম হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের সময় মোমবাতির আলোয়ও প্রসূতি মায়েদের সেবা দিতে হয়েছে। নবজাতকদের কোনো সমস্যা দেখা দিলে শিশু বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। নিরাপদ মাতৃত্বসেবা নিশ্চিত করতে আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু স্বাস্থ্য কনসালট্যান্ট ডা. মো. জয়নাল আবেদীন মুহুরী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় জন্ম নেওয়া ১৭টি নবজাতককেই আমি পর্যবেক্ষণ করেছি। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, সবগুলো শিশুই সুস্থ রয়েছে এবং বাড়ি ফিরে গেছে। সরকারি হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়লে ভবিষ্যতে স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমি আশা করি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলম বলেন, ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে নরমাল ডেলিভারিতে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। প্রসূতি সেবায় বিশেষ অবদান রাখায় এ হাসপাতাল জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারও অর্জন করেছে। আমরা সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করছি। গত ১০ দিনেই হাসপাতালে ৮৭টি নবজাতকের স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে, যা আমাদের সেবার প্রতি মানুষের আস্থারই প্রতিফলন।

