মাদারগঞ্জে চিকিৎসকের অবহেলায় সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ
মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জামালপুরের মাদারগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলায় সাপে কাটা এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, সময়মতো সাপের বিষের প্রতিষেধক (অ্যান্টিভেনম) না দেওয়ায় ওই রোগীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামানকে মারধর করেছেন রোগীর আত্মীয়স্বজনরা।
জানা গেছে, হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী তারতাপাড়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী চানমিয়ার স্ত্রী রমিছা বেগমকে (৫৫) সোমবার রাতে সাপে দংশন করে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে মাদারগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা রমিছা বেগমের রক্ত পরীক্ষা করে জানান, তাকে বিষধর সাপে দংশন করেনি, চিকা কিংবা অন্য কোন কীটপতঙ্গ দংশন করেছে। এর কিছুক্ষণ পরে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করে। রোগীকে জামালপুর নেওয়ার পথে পৌরসভার বালিজুড়ী বাজার এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, সোমবার রাত ৯টার দিকে রমিছা বেগমকে সাপে দংশন করে। দ্রুত তাকে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও হাসপাতালের স্টাফরা এটিকে বিষধর সাপের কামড় নয়, বরং 'চিকা' বা অন্য কোনো প্রাণীর কামড় বলে ধারণা করেন। তাদের দাবি, এ কারণে রোগীকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা করা হয়নি এবং অ্যান্টিভেনমও দেওয়া হয়নি। পরে হাসপাতালের বাইরে অবস্থানকালে রমিছা বেগমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে পুনরায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেন । কর্তব্যরত চিকিৎসক তখন রমিছা বেগমকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
নিহতের ছেলে লিটন মিয়া বলেন, আমার মাকে সাপে কামড় দেওয়ার পর হাসপাতালে নিয়ে যাই। ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়, চিকা বা অন্য কিছু কামড় দিয়েছে। কোনো অ্যান্টিভেনম দেননি। পরে মায়ের অবস্থা খারাপ হলে আবার হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যাই। এ সময় আমার মাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়; কিন্তু জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে রওনা হওয়ার কয়েক মিনিট পরই আমার মা মারা যান। চিকিৎসকের অবহেলার কারণেই আমার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।" এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে মৃতের স্বজনরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে সোমবার রাতে জরুরি বিভাগে ডিউটিতে থাকা উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামানকে মারধর করেন।
অভিযোগের বিষয়ে রাতে কর্তব্যরত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামান গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, সাপে কাটা রোগীদের সরকারি চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষধর সাপের কামড়ের লক্ষণ- যেমন চোখে ঝাপসা দেখা, ঘাড় বেঁকে যাওয়া ও অন্যান্য স্নায়বিক উপসর্গ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ওই রোগীর মধ্যে এসব লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তাই তখন অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়নি। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়।
এ বিষয়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসারের দায়িত্বে থাকা ডাক্তার আবু রায়হান জানান, সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুর বিষয়ে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিৎসকদের দায়িত্বের অবহেলার প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত কমিটিতে আছেন, মেডিকেল কনসালটেন্ট ডা. আজিজ আহমেদ বিলাস, ডা. সালেহ মাহাদী ও ডা. নাহিদুজ্জামান উষ্ণ। মঙ্গলবার দুপুরে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামানকে মৃতের আত্মীয়-স্বজনদের হাতে মারধরের বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের জানান।
