নবাবগঞ্জে জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থার আশ্বাস ইউএনওর
যুগান্তর প্রতিবেদন, নবাবগঞ্জ (ঢাকা)
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টানা বর্ষণে জলমগ্ন কলাকোপা ইউনিয়নের পানালিয়া ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেছেন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা ইসলাম।
জলাবদ্ধতার কারণ ও দ্রুত নিরসনে করণীয় নিয়ে সরেজমিন কথা বলেন স্থানীয়দের সঙ্গে।পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, কলাকোপা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বাবু লাল মোদক, ইউপি সদস্য বজলুর রহমান, স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ইউপি সদস্য বজলুর রহমান বলেন, আমার ওয়ার্ডের ৮০ ভাগ এলাকা পানির নিচে। মানুষের ঘরে পানি উঠেছে, চুলা জ্বলছে না। আমি প্রতিদিনই ইউএনও স্যার এবং চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে যোগাযোগ রাখছি। আজ ইউএনও স্যার নিজে এসেছেন, এতে আমরা আশাবাদী। খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে প্রতি বছরই আমাদের এই ভোগান্তি পোহাতে হবে।
আরেক ইউপি সদস্য মো. ছাহের উদ্দিন বলেন, ৪নং ওয়ার্ডের পানালিয়া, ভৈরাহাটি সহ অনেক গ্রাম আজ বিচ্ছিন্ন। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না। বয়স্ক মানুষেরা ওষুধ আনতে পারছে না। আমরা ওয়ার্ডবাসী মিলে কিছু জায়গায় বাঁশের সাঁকো দিয়েছি; কিন্তু এটা স্থায়ী সমাধান না। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, রাজারামপুরের খাল দ্রুত উদ্ধার করে আমাদের বাঁচান।
কলাকোপা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বাবুলাল মোদক বলেন, কলাকোপা ইউনিয়ন আজ এক কঠিন সময় পার করছে। পানালিয়াসহ আশপাশের গ্রামগুলো পানিতে তলিয়ে আছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমরা শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু এটা সাময়িক। স্থায়ী সমাধান হলো রাজারামপুরের খাল পুনরুদ্ধার। বছরের পর বছর খাল দখল হয়ে আছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই আমাদের ইউনিয়ন ডুবে যায়।
পানালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের স্কুলের শ্রেণিকক্ষে পানি। ৪ দিন ধরে একজন শিক্ষার্থীও আসতে পারেনি। অভিভাবকরা ফোন করে বলছেন বাচ্চাদের পাঠানো সম্ভব না। শিক্ষার সাথে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন। প্রতি বছর বর্ষায় আমাদের এ অবস্থা হয়। আমরা চাই কর্তৃপক্ষ দ্রুত খাল খন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করুক, যাতে আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আবার ক্লাশে ফিরতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা ইসলাম বলেন, আজ সরেজমিন এসে যে অবস্থা দেখলাম তাতে সত্যিই খারাপ লেগেছে। ৪ দিন ধরে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ আমাদের নাড়া দিয়েছে। পানালিয়া স্কুল বন্ধ, মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যারকে অবহিত করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা আছেন, তারা রাজারামপুরের খালের বর্তমান অবস্থা দেখবেন। খাল দখলমুক্ত করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। এটা শুধু পানালিয়ার সমস্যা না, পুরো কলাকোপার সমস্যা। আমি এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, খুব দ্রুত পানি সেচের মাধ্যমে নিষ্কাশন এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। প্রশাসন আপনাদের পাশে আছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেন, আমরা আজ খালের গতিপথ পরিদর্শন করেছি। রাজারামপুরের খালের বেশ কিছু অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেব। জরুরি ভিত্তিতে পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করা হবে এবং বর্ষা মৌসুমের আগেই খাল খন ও দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও জরুরি ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশনের নির্দেশনা দেন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কথা বলেন।
