Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

নিদিষ্ট সময়ে খাল পুনঃখনন করতে না পারায় টাকা ফেরত দিল প্রশাসন

Icon

কুমিল্লা উত্তর

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

নিদিষ্ট সময়ে খাল পুনঃখনন করতে না পারায় টাকা ফেরত দিল প্রশাসন

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের দড়িগাও কাঠালিয়া নদী থেকে গঙ্গাপ্রসাদ পর্যন্ত তিন হাজার মিটার খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ৪৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭০৩ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সদ্য বিদায়ী তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুর রহমান ৩০ জুন  কুমিল্লা জেলা প্রশাসক বরাবর এ সংক্রান্ত একটা প্রতিবেদন জমা দেন। 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের দড়িগাও কাঠালিয়া নদী থেকে গঙ্গাপ্রসাদ পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করা, কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো.সেলিম ভূইয়া।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো সময়জুড়ে নিয়মিত তদারকি করেন সদ্য বিদায়ী নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুর রহমান। কাজের গুণগত মান বজায় রাখার পাশাপাশি ব্যয়ের প্রতিটি খাত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। 

চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল খালের পুনঃখনন কাজ শুরু করে ৩০ জুনের মধ্যে খনন কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও মাত্র ১.০৬৭ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়।

খননকাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহণ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ মোট বিল ৩১ লাখ ৭২ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। নিদিষ্ট সময়ে মধ্যে খননকাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ৪৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭০৩ টাকা খরচ হয়নি। সরকারি বিধি অনুযায়ী ওই অর্থ কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচসংকট ছিল নিত্যদিনের সমস্যা। খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হতো, কৃষিকাজে সুবিধা বাড়তো এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতো।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাইদুল ইসলাম বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) সমন্বয়ে  আমরা চেষ্টা করেছি প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে। প্রকল্পের খননকাজ সম্পন্ন না হওয়ায় যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, ৪৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭০৩ টাকা তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম