কেন নিজের ভাইকে হত্যা করলেন, চাঞ্চল্যকর সেই তথ্য জানালেন বোন
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
গ্রেফতার শাহাবউদ্দীন। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মানিক হোসেন তার নিজের বোনকে নিয়মিত ধর্ষণ করে ভিডিও মোবাইলে ধারণ করতেন। তার কথার অবাধ্য হলেই ধারণকৃত ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বোনকে ব্ল্যাকমেইল করতেন। এর ধারবাহিকতায় অতিষ্ঠ হয়ে শাহাবউদ্দীন নামে অন্য একজনের সহায়তায় মানিককে হত্যা করে তার লাশ মহারাজার দিঘীতে ভাসিয়ে দেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য জানানো হয়। পুলিশ জানায়, ইতোমধ্যে নিহতের বড় বোন আদালতে স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের মহারাজার দিঘী থেকে বৃহস্পতিবার মানিক হোসেন (১৯) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে এ লোমহর্ষক ঘটনা জানতে পারে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন ও একই এলাকার শাহাবদ্দীনকে (৪৯) গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মানিক তার বড় বোনকে ধর্ষণ করতেন। ধর্ষণের ভিডিও কৌশলে মোবাইলে ধারণ করে রাখতেন। এরপর যখনই তার বোন এ কাজ করতে অনীহা পোষণ করেন, তখনই ধারণকৃত ভিডিও মানিক ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখাতেন ও তাকে শারিরীকভাবে নির্যাতন করতেন।
এদিকে নিয়মিত নির্যাতনের একপর্যায়ে মানিকের বড় বোন তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমে ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত পানি খাইয়ে মানিককে অচেতন করেন। এরপর শাহাবুদ্দীন তাকে হত্যা করে লাশ মহারাজার দিঘীতে ফেলে দেন। এ সময় মানিকের কোমরে পলিথিন মোড়ানো একটি চিরকুট গুঁজে দেওয়া হয়।
পরে ডিবি পুলিশের তদন্তে উদ্ধার হওয়া চিরকুটের লেখার সঙ্গে নিহতের বড় বোনের শয়ন কক্ষ থেকে উদ্ধার করা একটি ক্যালেন্ডারের লেখার মিল পাওয়া যায়। এরপর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে এটা স্পষ্ট হওয়া গেছে যে, দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক নির্যাতনের ক্ষোভ থেকেই বোন তার ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
