হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-বাণিজ্যে ধস, কর্মহীন শত শত শ্রমিক
হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
চলতি অর্থবছরে হিলি বন্দরে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমছে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-বাণিজ্য। কয়েক মাস আগেও এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি ট্রাকে পণ্য আমদানি হলেও এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ২০ থেকে ২৫টি।
এতে বন্দরের দৈনন্দিন আয় যেমন কমেছে, তেমনি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বন্দরের কয়েকশ শ্রমিক। এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে সরকারের রাজস্ব আদায়েও। চলতি অর্থবছরে হিলি বন্দরে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা।
জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর। একসময় যেখানে চলত হাজারো মানুষের কর্মব্যস্ততা। ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাকে ঠাসা থাকত বন্দরের পুরো ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত ব্যবসায়ী আসতেন হিলি বন্দরে পণ্য কিনতে। কিন্তু সেই বন্দর এখন যেন সুনসান। ফাঁকা পড়ে আছে ইয়ার্ড। কাজ না থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন বন্দরের শত শত শ্রমিক।
হিলি স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শফিকুল ইসলাম জানান, কয়েক মাস আগেও এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করত। এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টিতে। এতে অনেক সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে অফিসের ব্যয়ভার বহন করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক মতিউর রহমান লাবু জানান, ডলারের উচ্চমূল্য ও ভারতীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্য আমদানি করে কাঙ্ক্ষিত লাভ হচ্ছে না। ফলে লোকসানের আশঙ্কায় অনেকেই আমদানি বন্ধ রেখেছেন। এর পাশাপাশি পণ্য খালাসে কাস্টমসের হয়রানিকেও আমদানি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন বন্দরের ব্যবসায়ীরা।
তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অস্বীকার করে হিলি কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার সন্তোষ সরেণ জানান, এলসির পরিমাণ কমে যাওয়া এবং অধিক শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি হ্রাস পাওয়ায় বন্দরে এ মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। এর ফলে রাজস্ব আদায়ও কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৯৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ অর্থবছর শেষে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৪০০ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরেও এ ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ কোটি টাকা।
