বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি, ভাঙছে বসতভিটা ও ফসলি জমি
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বগুড়ার ধুনটে বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। সেই সঙ্গে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে নদীতে বিলীন হয়েছে একটি কৃষক পরিবারের বসতভিটাসহ আবাদি জমি। ভাঙন এখন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দিকে এগিয়ে আসছে। এতে নদীপাড়ের হাজারো মানুষ তাদের আশ্রয় ও জীবিকা হারানোর আশঙ্কা করছেন।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ধুনটের যমুনা নদীতে পানি দ্রুত বাড়ছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে পানি ১৫.৫৭ মিটার সমতায় প্রবাহিত হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি ৯ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
ভাঙনকবলিত এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যমুনা নদীতে তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে নদী তীরের মাটি ও বালু ধসে পড়ছে। বিলীন হচ্ছে একের পর এক ফসলি জমি, গাছপালা ও বসতভিটা। সবচেয়ে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে ধুনটের শহড়াবাড়ি ও বানিয়াজান গ্রামের মধ্যবর্তী প্রায় ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে। প্রতিদিনই নতুন নতুন জমি নদীতে ভেঙে পড়ছে।
ধুনটের শহড়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিনের ব্যবধানে তাদের বসতভিটা ও কয়েক বিঘা জমি যমুনা নদীতে বিলীন হয়েছে।
তারা জানান, চোখের সামনে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যে জমি, বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে শহড়াবাড়ি গ্রামটি একদিন জেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।
গ্রামবাসীরা দাবি করেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে যমুনার ভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয় না। এতে নদীপাড়ের মানুষদের আতঙ্কে দিন পার করতে হয়। তারা আশঙ্কা করছেন, নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুল মালেক বলেন, উজানের ঢলে যমুনা নদীর পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় তীরবর্তী কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বালু ভর্তি জিওব্যাগ ও টিউব ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে।

